<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Palki - Online Bengali Magazine &#187; Palki Editions</title>
	<atom:link href="http://calcuttans.com/palki/category/palki-editions/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://calcuttans.com/palki</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Mon, 12 Dec 2011 14:09:24 +0000</lastBuildDate>
	<language>en</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
			<item>
		<title>সম্পাদকীয় – Palki 12 Editorial</title>
		<link>http://calcuttans.com/palki/palki-12-editorial/</link>
		<comments>http://calcuttans.com/palki/palki-12-editorial/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Dec 2011 07:59:59 +0000</pubDate>
		<dc:creator>kaustubhad</dc:creator>
				<category><![CDATA[Editorial]]></category>
		<category><![CDATA[Palki 12]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://calcuttans.com/palki/?p=4834</guid>
		<description><![CDATA[
 &#160;
&#160;


প্রারম্ভিক মুখব্যাদান১

&#160;

পালকি সম্পাদকমণ্ডলী

&#160;

পালকির প্রিয় সহযাত্রীরা,
	আপনারা ইতিমধ্যে রীতিমত খড়্গহস্ত হয়ে আছেন আমাদের উপর, তা বলাই বাহুল্য। এটুকুই বলতে পারি, যে বিলম্বাধিক্যের সঙ্কোচে এমন কি আমাদের প্রচ্ছদের তরুণীও ভারী বিষণ্ণ হয়ে পড়েছেন। তাই আপনাদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি যাতে দ্রুতই বৃহত্তম এই পালকির ষোড়শোপচারে গিয়ে পড়ে, তার জন্য দরকারি কথাটুকু বলে নিয়েই সম্পাদকীয়কে অলমিতি বিস্তারেণ করে ফেলছি।
	আপনাদের উৎসাহে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<script type="text/javascript">disableSelection(document.body)</script><p><br />
<a href="#scribd"><img style="width: 401px; height: 35px;" alt="see scribd embed" align="left" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/11/bangla6.png"></a></p>
<p> &nbsp;<br />
&nbsp;
</p>
<div style="text-align: center; color: #A52A2A; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large; font-weight:bold;">
প্রারম্ভিক মুখব্যাদান<span style="position:relative; bottom:0.9em; font-size:small;">১</span>
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: center; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large;">
পালকি সম্পাদকমণ্ডলী
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: justify; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:medium; text-indent:50px;">
<span style="text-indent:0px;">পালকির প্রিয় সহযাত্রীরা,</span></p>
<p>	আপনারা ইতিমধ্যে রীতিমত খড়্গহস্ত হয়ে আছেন আমাদের উপর, তা বলাই বাহুল্য। এটুকুই বলতে পারি, যে বিলম্বাধিক্যের সঙ্কোচে এমন কি আমাদের প্রচ্ছদের তরুণীও ভারী বিষণ্ণ হয়ে পড়েছেন। তাই আপনাদের ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি যাতে দ্রুতই বৃহত্তম এই পালকির ষোড়শোপচারে গিয়ে পড়ে, তার জন্য দরকারি কথাটুকু বলে নিয়েই সম্পাদকীয়কে অলমিতি বিস্তারেণ করে ফেলছি।</p>
<p>	আপনাদের উৎসাহে ও আগ্রহে পালকিতে আগত লেখার সংখ্যা ক্রমবর্ধমান, যা খুবই আনন্দের কথা, কিন্তু তার ফলে সীমিত লোকবল নিয়ে আমাদের একই গতি বজায় রাখা দুরূহ হয়ে পড়ছে। তাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, যে এবার থেকে পালকি আবার বছরে দু’বার প্রকাশিত হবে, বিগত বছরের তিনবারের তুলনায়। আর এবার অধিকমাত্রায় দেরি হয়ে পড়ায় আমরা ইতিমধ্যে আসা লেখাগুলিকে পরের বারের জন্য অপেক্ষা করিয়ে রাখতে চাইনি, তাই সব মিলিয়ে এই সংখ্যার কলেবর বেশরকম বৃদ্ধি পেয়েছে – আরো অনেক ভালো ভালো লেখা আর সুন্দর সুন্দর ছবি এবার আমরা সাজিয়ে দিতে পেরেছি, দীর্ঘ বিলম্বের এটুকু সান্ত্বনা।</p>
<p>	কিছু আনন্দ সংবাদ চট করে শুনিয়ে যাই –</p>
<p>	পালকি ১০-য়ে প্রকাশিত পথিক গুহের সাক্ষাৎকারটি দেখে ‘কথা তো বলার জন্যই’ নামের একটি বাংলা ব্লগের কিছু উৎসাহী বন্ধু আগ্রহী হয়েছিলেন তাঁর আরেকটি সাক্ষাৎকার নিতে, যেটি হবে বিষয়ের দিক থেকে আমাদের আলোচনাটির চেয়ে অনেকটাই ভিন্নধর্মী। তাঁদের সাইটে<span style="position:relative; bottom:0.3em; font-size:small;">২</span> সুপাঠ্য সেই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে সেপ্টেম্বর মাসে, পালকির পাঠকদেরও হয়ত ভালো লাগবে সেটি।</p>
<p>	পালকির দীর্ঘদিনের লেখক-বন্ধু শ্রী অনিরুদ্ধ সেন সম্প্রতি ‘আশানদী’ নামে তাঁর প্রথম বাংলা ছোটগল্প সংকলন প্রকাশ করেছেন। তাতে পালকিতে প্রকাশিত ওনার কয়েকটি গল্পও স্থান পেয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।</p>
<p>	নানাবিধ সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ জানাই পালকির বহুকালের সহযাত্রী ও মদতদাতা রোদ্দুর, পিয়াস ও জ্যোতিষ্ককে। আর বরাবরের তুলনায় বেশ একটু অন্যরকম এই প্রচ্ছদটি এঁকে দেওয়ার জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা শিল্পী শ্রী তরুণ চক্রবর্তীর প্রতি।</p>
<p>	নিন, আর দেরী নয়, ওই এসে পড়ল আমাদের পালকি, হুহুম্‌ না, হুহুম্‌ না, হুহুম্‌ না রে হুহুম্‌ না&#8230; </p>
<p>	আর হ্যাঁ, যেতে যেতে অবশ্যই মনে করিয়ে দিই, পালকি এখন ফেসবুক-এও, যেখানে আপনারা পালকি-সংক্রান্ত সব সংবাদ পেতে পারেন &#8211; <span style="font-family: sans-serif; font-size:small;">www.facebook.com/palkimag</span></p>
<p><center style="font-size:small; text-indent:0px;">✽✽✽✽✽</center>
</div>
<hr />
<div style="text-align: justify; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:small;">
১ – ‘প্রারম্ভিক মুখব্যাদান’ শব্দটির জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি খ্যাতনামা ঐতিহাসিক এবং শিক্ষাবিদ শ্রী তপন রায়চৌধুরী মহাশয়ের কাছে (‘রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা’, আনন্দ পাবলিশার্স, দ্বিতীয় পরিবর্ধিত সংস্করণ, আগস্ট ২০০৩, পৃঃ ১১)</p>
<p>২ – লেখাটি পাওয়া যাবে এইখানেঃ <span style="font-family: sans-serif; font-size:small;">kothatobolarjonyei.blogspot.com/2011/09/pathik-guha.html</span>
</div>
<p><a name="scribd"></a><br />
</p>
<p><a href="http://calcuttans.com/palki/P12-final/secure/00-P12-Editorial-Index-secured.pdf"><br />
<img style="width: 127px; height: 41px;" alt="download" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/04/download.png"></a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://calcuttans.com/palki/palki-12-editorial/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>Interview: Daniel Dennett</title>
		<link>http://calcuttans.com/palki/p12-interview-daniel-dennett/</link>
		<comments>http://calcuttans.com/palki/p12-interview-daniel-dennett/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Dec 2011 07:59:04 +0000</pubDate>
		<dc:creator>kaustubhad</dc:creator>
				<category><![CDATA[Interviews]]></category>
		<category><![CDATA[Palki 12]]></category>
		<category><![CDATA[Daniel Dennett]]></category>
		<category><![CDATA[interview]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://calcuttans.com/palki/?p=4705</guid>
		<description><![CDATA[
 &#160;
&#160;


সাক্ষাৎকারঃ বিজ্ঞান-লেখক ও গবেষক ডঃ ড্যানিয়েল ডেনেট

&#160;

পালকির তরফ থেকে – কৌস্তুভ অধিকারী

&#160;


পালকিতে এই প্রথম আমরা বাংলার বদলে ইংরাজি ভাষার কোনো লেখকের সাক্ষাৎকার পেয়েছি। তাই পাঠকেরা যাঁরা ডঃ ডেনেট-এর সম্পর্কে অবগত নন, তাঁদের জন্য জানাই, প্রফেসর ড্যানিয়েল ডেনেট বস্টন শহরস্থিত টাফ্‌ট্‌স্‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কগনিটিভ সাইন্স’ গবেষণাবিভাগের প্রধান, এবং একজন সুবিদিত বিজ্ঞান-লেখক। বিবর্তনের উপর ‘ডারউইন’স ডেঞ্জারাস আইডিয়া’ [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="#scribd"><img style="width: 401px; height: 35px;" alt="see scribd embed" align="left" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/11/bangla6.png"></a></p>
<p> &nbsp;<br />
&nbsp;
</p>
<div style="text-align: center; color: #A52A2A; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large; font-weight:bold;">
সাক্ষাৎকারঃ বিজ্ঞান-লেখক ও গবেষক ডঃ ড্যানিয়েল ডেনেট
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: center; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large;">
পালকির তরফ থেকে – কৌস্তুভ অধিকারী
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: justify; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:medium; text-indent:50px;">
<img style="width: 331px; height: 250px; float:left; padding:10px;" alt="Daniel Dennett" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/pics/daniel_dennett/daniel_dennett.jpg"><br />
<i>পালকিতে এই প্রথম আমরা বাংলার বদলে ইংরাজি ভাষার কোনো লেখকের সাক্ষাৎকার পেয়েছি। তাই পাঠকেরা যাঁরা ডঃ ডেনেট-এর সম্পর্কে অবগত নন, তাঁদের জন্য জানাই, প্রফেসর ড্যানিয়েল ডেনেট বস্টন শহরস্থিত টাফ্‌ট্‌স্‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কগনিটিভ সাইন্স’ গবেষণাবিভাগের প্রধান, এবং একজন সুবিদিত বিজ্ঞান-লেখক। বিবর্তনের উপর ‘ডারউইন’স ডেঞ্জারাস আইডিয়া’ (১৯৯৫) বইটি লিখে ইনি প্রচুর জনপ্রিয়তা পান। আর এনার সর্বাধিক ‘বিতর্কিত’ বইটি হল ‘ব্রেকিং দা স্পেল – রিলিজিয়ন অ্যাজ এ ন্যাচারাল ফেনোমেনন’ (২০০৬), যাকে আধুনিক নাস্তিকতা-চর্চার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বলে মনে করা হয়, এবং যা লিখে ইনি ব্রিটিশ জীববিজ্ঞানী রিচার্ড ডকিন্স, আমেরিকান সাংবাদিক ক্রিস্টোফার হিচেন্স, ও আমেরিকান নিউরোসাইন্স গবেষক স্যাম হ্যারিসের সাথে ‘ফোর হর্সমেন অফ নিউ এথেইজম’ বলে খ্যাতি পান। খুব সম্প্রতি ইনি তাঁর গবেষণার বিষয় নিয়ে ‘ইনসাইড জোকস: ইউজিং হিউমার টু রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ার দা মাইন্ড’ (২০১১) বলে আরেকটি বই প্রকাশ করেছেন।</p>
<p>	অতএব এনার সাক্ষাৎকার নেবার সুযোগ পেয়ে একটি ‘বিগ ফিশ’কে ধরার আনন্দই পেয়েছি বলা চলে। আর এই বিশালদেহী শ্বেতশ্মশ্রু অমায়িক ভদ্রলোক যে কেবল নির্ধারিত আধঘন্টার বদলে আমায় প্রায় ঘন্টাখানেক প্রশ্ন করার সুযোগ দিয়েছিলেন তাই-ই নয়, সানন্দে একটি বইতে অটোগ্রাফ করে দেন, ওনার সেক্রেটারিকে বলে ওনার সঙ্গে একটা ছবি তুলিয়ে দেন, এবং আসার সময় ‘অগ্রণী যুক্তিবাদী’দের একটি পোস্টারও উপহার দিয়েছিলেন।</i></p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">প্রথমেই প্রশ্ন করি, আপনি কি কখনও ভারতে গিয়েছেন?</div>
<p>না, আমি যাইনি! সত্যি বলতে, ওটাই একমাত্র প্রধান দেশ যেখানে আমার যাওয়া হয়নি।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">তাহলে আশা করব, ভবিষ্যতে কখনও নিশ্চয়ই যাবেন&#8230;</div>
<p>আমিও তাই আশা রাখি! মুশকিল হল, দু-তিনদিনের ঝটিকাসফর আমি করতে চাই না; ওখানে গেলে হাতে কিছু সময় নিয়ে ঘুরতে চাই, কিন্তু জানেনই তো, মাসখানেক সময় বের করা খুবই কঠিন&#8230;</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">আপনি কী ছোট থেকেই নাস্তিক ছিলেন?</div>
<p>ছোটবেলায় আমিও গির্জার ‘সানডে স্কুল’-এ যেতাম অন্য অনেকের মতই। আমার পরিবার তেমন একটা ধার্মিক ছিল না – আমার মা আমাদের সঙ্গে চার্চে যেতেন না, তিনি অন্য একটা চার্চে যেতেন যার পাদ্রীর কথা তাঁর বেশি ভালো লাগত। তাই বলতে গেলে আমি প্রথাগত প্রোটেস্ট্যান্ট শিক্ষাই পেয়েছি, বাইবেল পড়েছি, চার্চের কয়্যারে গেয়েছি&#8230; কিশোরবয়সে অন্য অনেকের মতই ধর্মে বেশ আগ্রহী ছিলাম খানিকটা সময়। কিন্তু একসময় আমার মনে হল, ‘এসব কিছুই তো আসলে আমার বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না!’</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">তা এক সাধারণ অবিশ্বাসী থেকে কখন আপনি একজন প্রকাশ্য, সরব নাস্তিক হয়ে উঠলেন?</div>
<p>তুলনায় সম্প্রতি। মনে হয় এটা আমেরিকার ধর্মীয় রক্ষণশীল গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান আপত্তিকর কাজকর্মের জন্য, বিশেষত তাদের বাড়তে থাকা রাজনৈতিক প্রভাবের ফলে। সেটাই আমাকে নাড়া দেয়, এই দুর্ভাগ্যজনক অবস্থার মধ্যে আমার যে চুপ করে বসে থাকা উচিত নয় তা মনে করিয়ে দেয়।</p>
<p>	এর সূত্রপাত এইভাবে – নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় আমি একটা উপসম্পাদকীয় প্রবন্ধ লিখেছিলাম, ‘ব্রাইটস’দের উপর।</p>
<p>	রিচার্ড ডকিন্স আমাকে এই ‘ব্রাইটস’ ধারণাটার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় একটা লেখা দিয়েছিলেন এ বিষয়ে, আর আমি নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকায়। লেখাটা প্রকাশিত হয়েছিল জুলাই ২০০৩-এ, আর সেটা অভাবনীয় সাড়া পায়। আমি সারা দেশ থেকে শয়ে শয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া পাই। তাঁদের অনেকে আমাকে অনুরোধ করেছিলেন, একবার যখন এই বিষয়টা ধরেছি, তখন এখানেই যেন থেমে না যাই।</p>
<p>	নাস্তিকতার উপর একটা বই লিখব, এমন কখনই ভাবিনি। কিন্তু এই বিষয়টা নিয়ে প্রায়শই ভাবনাচিন্তা করতাম বলে, একটা বই লেখার ইচ্ছা হয়েছিল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিবর্তন আর ধর্মকে একটা সাধারণ, প্রাকৃতিক, স্বাভাবিক ঘটনা হিসাবে দেখিয়ে। তখনই ‘ব্রেকিং দা স্পেল’ লেখায় মনস্থির করি।</p>
<p>	এক অর্থে সেটা আমার মূল ‘কগনিটিভ সাইন্স’ গবেষণার থেকে অনেকটাই ঘুরপথ। তাই আমার গবেষণার জ্ঞানকে আমি ওই পরিপ্রেক্ষিতে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। তাও, এ নিয়ে আমাকে অনেকটা দূর চলে আসতে হয়। এতে আমার কোনো ক্ষোভ নেই, তবে আমি আমার মূল বিষয়, মস্তিষ্কের সচেতনতার তত্ত্ব, নিয়ে কাজের মধ্যে ফেরত আসার চেষ্টা করছি।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">খ্যাতিমান নাস্তিক-যুক্তিবাদীদের প্রায় সবারই নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে, সেখানে তাঁরা ব্লগও লিখে থাকেন। আপনি মাঝেসাঝে সংবাদপত্রে কিছু উপসম্পাদকীয় প্রবন্ধ লিখলেও, এই নিয়ে আপনার তেমন কোনো সাইট তো নেই?</div>
<p>তা ঠিক। কিন্তু যদি তেমন কিছু করতাম, তাহলে আমার কাজের পিছনে আরো কম সময় দিতে পারতাম! রিচার্ড ডকিন্স অবসর নিয়ে নিয়েছেন, হিচেন্স তো একজন সাংবাদিকই, লেখালিখিই তাঁর পেশা, আর স্যাম হ্যারিস বয়সে তরুণ, তার উৎসাহ অনেক বেশি, আর তাই সে তার নিউরোসাইন্স কাজের পাশাপাশি এসবে অনেকটাই সময় দেয়। এদের পক্ষে এতে সময় দেওয়া সম্ভব, কিন্তু আমার হাতে অনেকগুলো প্রজেক্ট&#8230;</p>
<p>	তবে একেবারেই সম্পর্কবিযুক্ত আছি, তা নয়। লিন্ডা লাস্কোলা’র সাথে আমরা যে প্রজেক্টটা করছি, অবিশ্বাসী হয়ে পড়া পাদ্রীদের সাথে বিশদ গোপনীয় ইন্টারভিউ নিয়ে, সেটা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং তার পিছনে আমায় অনেকটাই সময় দিতে হয়! আর এই কাজটার সাথে যুক্ত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">তাহলে ওই বিষয়ে কিছু কথা বলা যাক। পরিসংখ্যানের ছাত্র হিসাবে একটা প্রশ্ন করি। এই নিয়ে প্রথম প্রবন্ধটি আসে ২০১০ সালে, যেখানে আপনারা বলেছিলেন যে এই অবস্থা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এমন অনেকেই আছেন সারা দেশ জুড়েই, তবে ঠিক কতজন, সে বিষয়ে কোনো এস্টিমেট আমাদের হাতে নেই। তা প্রজেক্ট যখন আরো অনেকদূর এগিয়েছে বলছেন, ওই বিষয়ে কোনো আন্দাজ পাওয়া গেছে?</div>
<p>আমরা এই কাজের দ্বিতীয় স্তর প্রায় শেষ করে এনেছি। লিন্ডা আরো অনেক লোকের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, আমরা আমাদের জ্ঞান আরো অনেকটাই বাড়াতে পেরেছি। এখনও অবশ্য কিছু কিছু অংশ আছে যাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব হয়নি – অনেক প্রটেস্ট্যান্টদের পেলেও তেমন বেশি ক্যাথলিকদের পাইনি, অবশ্য কিছু মরমন পেয়েছি। আমরা কোনো ইমাম’কে পাইনি – সহজবোধ্য কারণেই কোনো মুসলিম নেই আমাদের প্রজেক্টে – অমন যে কেউ তাদের মধ্যে নেই তা নয়, কিন্তু তা স্বীকার করতে গেলে তো তাদের প্রাণসংশয় হয়ে পড়বে। ধর্মপ্রচারকের পদে থেকে বিশ্বাস হারানো সবার পক্ষেই সমস্যাজনক, কিন্তু মুসলিমদের জন্য বিশেষ করে।</p>
<p>আর এখনও অবধি ফলাফল খুবই উৎসাহজনক। লিন্ডার রিপোর্ট লেখা শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। আমাদের কাছে এখনও মোট সংখ্যার কোনো এস্টিমেট নেই, কিন্তু আমরা নিশ্চিত যে এমন লোক মুষ্টিমেয় নয় – যে সব চার্চের পদাধিকারী লোকজন এই প্রজেক্টের সমালোচনা করেছে, তারা কিন্তু কেউই বলে নি, “না না, এ সব বানানো কথা, দুয়েকজনের ব্যাপারকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বড় করা&#8230;” – তারাও সবাই জানে যে এরকম প্রায়ই ঘটে।</p>
<p>	তৃতীয় স্তরে হয়ত আমরা কোনো ন্যাশনাল সার্ভের পরিকল্পনা করব, যাতে কিছু এস্টিমেট পাওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">দ্বিতীয় স্তরে কতজন লোককে পেয়েছেন?</div>
<p>পাকা সংখ্যাটা মনে নেই, তবে প্রাথমিক স্তরে যত জনকে পেয়েছিলাম তার দ্বিগুণেরও বেশি।<br />
	আর এর থেকে দ্বিতীয় একটা প্রজেক্ট শুরু হয়েছে যার সঙ্গে আমি সরাসরি জড়িত নই – কারণ তা সম্ভব নয় – সেটার নাম ‘দ্য ক্লার্জি প্রজেক্ট’<span style="position:relative; bottom:0.3em; font-size:small; color: #A52A2A;">১</span>; আর আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তার ওয়েবসাইটও চালু করে দেওয়া হবে।  এটা সযত্নে সুরক্ষিত করা একটা ওয়েবসাইট, যেখানে প্রাক্তন এবং বর্তমান পাদ্রীরা এসে এই বিষয়ে নিরাপদে আলোচনা চালাতে পারবেন, যাঁরা দোটানার মধ্যে আছেন তাঁদের সাহায্য করতে পারবেন। এবং তাই জন্যেই, আমার মত লোক সেটায় অ্যাকসেস পাবে না।<br />
	এটা সীমিত লোকেদের মধ্যে বেশ কয়েক মাস ধরে চলছে ইতিমধ্যেই, ওই পাদ্রীরাই চালাচ্ছেন। লিন্ডা এটা তৈরি করতে অনেক সাহায্য করেছেন, কিন্তু আমার মতই তাঁরও সরাসরি অ্যাকসেস নেই, যেহেতু উনি পাদ্রী নন। এটা তৈরি করতে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে রিচার্ড ডকিন্স ফাউণ্ডেশন, আমিও কিছু সাহায্য করেছি। সব মিলিয়ে পাবলিক সাইট চালু হয়ে যাবে শিগগিরই।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">কোনো অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, যেমন প্যাট কন্ডেল-এর ইউটিউব ভিডিও চ্যানেল, এঁদের কাজ দেখেন কি কখনও?</div>
<p>ইমেলের পিছনেই আমার অনেকটা করে সময় চলে যায়! আর আমি ইন্টারনেট-চারী তেমন একটা নই। আমার দুর্দান্ত কিছু সংবাদপ্রেরক আছেন যাঁরা আমাকে বাছা বাছা কিছু জিনিস পাঠান, আর আমি তাঁদের বিচারবুদ্ধির উপরেই ভরসা রাখি। তার উপরে যদি আমি নিজে থেকে নেটে গিয়ে খোঁজখবর করতাম, তাহলে অনেকটা সময় নষ্ট হত, আর ‘ডিমিনিশিং রিটার্ন’এর ফলে বেশি তেমন একটা লাভও হত না।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">ধর্মকে ব্যবচ্ছেদ করে বই লেখার পর কি আপনি কোনো হুমকি-ধমকি পেয়েছেন?</div>
<p>বইটা বেরোনোর আগে অনেকেই আমাকে বলেছিল যে আমি অনেক হুমকি পাব, আমার বিপদের আশঙ্কা হবে। আমিও জানতাম যে তা হতে পারে, তাই আমরা ভেবেচিন্তে কিছু প্রাথমিক সতর্কতা রেখেছিলাম। আর আমার একটা ফাইল আছে, যাতে বেছে বেছে ‘হেট-মেল’গুলো রাখা থাকে। তবে খুব বড় কোনো ব্যাপার কিন্তু হয়নি বলতে গেলে।<br />
 </p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">কীরকম সতর্কতা নিয়েছিলেন?</div>
<p>প্রথমদিকে যতটা নিয়েছিলাম, এখন আর ততটা নিই না। আমার সফরসূচি আমার ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকে না। আমি যেখানে যাচ্ছি তারা আমার বক্তৃতার কথা বিজ্ঞাপিত করতে পারে, কিন্তু কোথায় কবে যাচ্ছি এমন কোনো তালিকা আমি দিই না। তাই কেউ আমাকে ধাওয়া করতে গেলে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। এখন অবশ্য সফরসূচি সাইটে দেওয়ার কথা ভাবছি। </p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">সক্রিয় নাস্তিকদের ‘জঙ্গি নাস্তিক’ আখ্যা দেওয়া সম্পর্কে আপনার কী মত?</div>
<p>যদি আপনি দুনিয়ায় কোনো ভালো কাজ করতে চান, কোনো প্রভাব রাখতে চান, যদি অনাদৃত কোনো বিষয়ের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান, তাহলে আপনি যাদের নজর টানতে সক্ষম হবেন তাদের অনেকে তো প্রতিক্রিয়া দেখাবেই – ভালো বা খারাপ প্রতিক্রিয়া – আর যারা খারাপ প্রতিক্রিয়া দেখাবে তারা তো আপনার নিন্দা, সমালোচনা, চরিত্রহনন করার চেষ্টা করবেই।</p>
<p>	তাই আমি এতে অবাক হইনি মোটেই। বরং, আমি উৎসাহ পেয়েছি এই দেখে যে, আমরা ‘চার ঘোড়সওয়ার’ হয়ত মোট পাঁচ-ছটা বই লিখেছি, কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে অগুন্তি বই লেখা হয়ে গেছে! সেগুলোর প্রত্যেকটাই অবশ্য ফালতু, প্রত্যুত্তরের যোগ্যও নয়। কিন্তু এতগুলো বই যে তাদের লিখতে হয়েছে, আমাদের কাজকে যে তাদের একটা বড়সড় সমস্যা বলে মনে হয়েছে, সেটাই বোঝাচ্ছে যে আমরা কোথাও একটা খোঁচা দিতে পেরেছি বটে। আর তাদের এই রক্ষণাত্মক অবস্থানের খুঁতগুলো ধরিয়ে দেওয়ার কাজটা খুবই মজাদার।</p>
<p>	প্রথমে ভেবেছিলাম, এটাকে ‘যিশুর জন্য মিথ্যাচার’ নাম দেব। কিন্তু তারপর একটা শব্দ মনে এল যেটা আমার বেশি পছন্দ – ‘ফেইথ-ফিবিং’ বা ‘বিশ্বাসনির্ভর মনগড়া প্রচার’, কারণ ‘তুমি মনগড়া কথা বলছ’ বলাটা ‘তুমি মিথ্যা বলছ’র মত কড়া অভিযোগ নয়। আমি এর নানারকম নমুনার দিকে লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা শুরু করি, আর অন্তত একজনের প্রকাশ্য সমর্থন পেয়েছি এই বলে যে, ‘হ্যাঁ, ও ঠিকই বলছে, আমি বিশ্বাসনির্ভর মনগড়া কথাই বলতাম, আমি দুঃখিত।’</p>
<p>	এটা একটা প্রচলিত অভ্যাস – তারা তথ্যবিকৃতির ইচ্ছা দমন করতে পারে না, তাই তারা মনগড়া কথা বলে ভ্রান্তি ছড়ায়। আর তখন যেটা করণীয়, সেটা খুব সহজ – স্রেফ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দাও, ‘দেখেছ, এদের তথ্যবিকৃতির কেমন অদম্য ইচ্ছা? কেন এরা সরল সত্যটা বলতে পারে না?’</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">‘ফোর হর্সমেন অফ নিউ এথেইজম’ কথাটা কে প্রচলন করেন?</div>
<p>সেটা ঠিক জানি না। তবে কথাটা আমাদের বেশ মনে ধরেছিল।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">বাইবেলে মূল কথাটা ছিল ‘ফোর হর্সমেন অফ দি অ্যাপোক্যালিপ্‌স্‌’, যারা ধ্বংস, মৃত্যু ইত্যাদির বার্তা বহন করে। এমন খারাপ ইঙ্গিতবাহী কিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে আপনার আপত্তি নেই?</div>
<p>আমার মতে, ব্যাপারটার মধ্যে খারাপ এটাই যে, এতে মাত্র চারজনের জায়গা হয়! আরো অনেক দারুণ যুক্তিবাদী মুক্তচিন্তক লোকজন আছেন, এবং তাঁদের কেউ কেউ হয়ত এই স্বীকৃতিটা না পেয়ে ক্ষুব্ধই হয়েছেন। সেটা অবশ্যই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না, সেটা এই নামের দুর্ভাগ্যজনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। তাই এই প্রসঙ্গ উঠে এলেই আমি চেষ্টা করি তাঁদের সবাইকেই স্বীকৃতি দিতে, যাঁরা আমাদের মতই কাজ করে চলেছেন, কিন্তু খ্যাতিটা পাননি।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">তাহলে এই চারজনের তালিকায় আরো কিছু নাম ঢোকাতে পারলে আপনি কাদের রাখতেন?</div>
<p>আমি ঠিক সেটা করতে চাই না – নতুন যদি এই তিনজনের নাম দিই, তাহলে অন্য তিনজন চটে যাবেন!</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">আচ্ছা, আপনাদের চারজনের মধ্যে মূল পার্থক্যগুলো কী, বলতে পারেন?</div>
<p>আমরা চারজন আলাদা ধাঁচের কাজ করি, যার প্রতিটাই করা দরকার। ডকিন্স ধর্মের চূড়ান্ত হাস্যকর, অবান্তর রূপটা তুলে ধরেন চমৎকার ভাবে। হিচেন্স ধর্ম কতটা ক্ষতিকর হতে পারে সেইটা বোঝাতে দক্ষ। আর স্যামের কাজটাও মোটামুটি হিচেন্সের মতনই।</p>
<p>	আর আমি? সচরাচর আমি ‘ব্যাড কপ’ বা দুষ্টু লোকের ভূমিকাটা পালন করে এসেছি; এইখানে আমি ‘গুড কপ’ বা ভালো লোকের ভূমিকাটা পালনের সুযোগ পাই। আমি এই বিষয়ে অনেকটা সহানুভূতিশীল, যে ধর্ম মানুষের খানিকটা উপকার করারও ক্ষমতা রাখে, এবং আমাদের সেটা খেয়াল রাখা উচিত, কারণ আমাদের একটা ধর্ম-সম্পর্কহীন বিকল্প পথ খোঁজা উচিত সেই ভালো কাজগুলো করার জন্য। ক্ষতিকর দিকগুলোর সম্পর্কে আমি ওদের সঙ্গে সহমত অবশ্যই। আমি শুধু মনে করিয়ে দিতে চাই, যে এটা একটা মিশ্র ঘটনা, এবং ভালো দিকগুলোর প্রতিও আমাদের সচেতন থাকতে হবে।</p>
<p>	যদি ভেবে দেখেন যে ধর্ম একটা প্রাকৃতিক, স্বাভাবিক ঘটনা, তাহলে দেখতে পাবেন যে এমন আরো অনেক প্রাকৃতিক ঘটনা আছে যার মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়। এই ধরুন বন্যা। বন্যায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়, আবার তার উপকারী দিকও আছে। কেউ যদি ছোটবেলায় বড্ড বেশি পরিষ্কার থাকে তবে তার অল্পেতেই অসুখে পড়ার সম্ভাবনাও বেশি। তাই আমাদের এটা স্বীকার করা উচিত, যে অনেক সময় ধর্ম অনেক মানুষেরই সাহায্যে আসে। অনেকটা ওষুধের মত – কড়া ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও কড়া হয়, কিন্তু মাঝে মাঝে কড়া ওষুধই প্রয়োজন।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">হুম, এরকম কথা একজন ‘নাস্তিকতার ঘোড়সওয়ার’-এর মুখে চমকপ্রদই বটে!</div>
<p>এটাও ওই ‘বিশ্বাসনির্ভর মনগড়া প্রচার’-এরই অঙ্গ – তারা যখন আমাদের সম্বন্ধে লেখে, তখন তারা বলে, আমরা কতটা নির্দয়, আক্রমণাত্মক, আমরা কেমন ধর্ম ধ্বংস করার জন্য উদ্যত হয়ে আছি – আর তারা ডকিন্সের লেখা থেকে একটা উদ্ধৃতি দেয়, হিচেন্সের থেকে একটা, আর হ্যারিসের থেকে একটা, কিন্তু আমাকে বাদ দিয়ে যায়, কারণ আমি তেমন কিছু বলিই নি!</p>
<p>	তারা আমাকে উহ্য রাখে, কারণ তাদের চোখে নিন্দনীয় তেমন কড়া কোনো কথা আমি বলি না। তবে তাদের জন্য বলে রাখি, বাকিদের সমালোচনাগুলোর সঙ্গে আমিও সম্পূর্ণ সহমত।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">আমেরিকা, যাকে মোটামুটি নাস্তিকতা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু বলা চলে, সেখানে ‘নাস্তিকতা’ শব্দটা সবার কাছেই পরিচিত, এবং সবাই জানে যে সমাজে নাস্তিকেরাও রয়েছে, কিন্তু নাস্তিকতার ধারণাটা তেমনভাবে সর্বজনগ্রাহ্যতা পায়নি, যেমন ১৯৮০-৯০’এর দশকে সমকামিতাকে পরিচিতি দেওয়ার জন্য একটা বড় প্রয়াস হয়েছিল।</p>
<p>২০১১ সালের একটা টেলিফোন-ভিত্তিক ‘গ্যালাপ’ সার্ভের ফলাফল দেখছিলাম, যেখানে বলছে, মাত্র ৫০% আমেরিকান কোনো নাস্তিককে তাদের প্রেসিডেন্ট হিসাবে মেনে নিতে রাজি। অন্যদিকে প্রায় ৭০ শতাংশের কোনো সমকামীকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে দেখতে আপত্তি নেই। মরমন ইত্যাদি তুলনায় অল্পখ্যাত ধর্মীয় দলগুলোরও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। নাস্তিকতার ধারণায় সেই জোরটা আসছে না কেন?</p></div>
<p>হ্যাঁ, সে জন্যই ‘ব্রাইটস’ ধারণাটা একটা সচেতনতা-আন্দোলন হিসাবে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছিল, যাতে নাস্তিক, মানবতাবাদী, যুক্তিবাদীরা একটা ভালো ইঙ্গিতপূর্ণ নাম পায়। আমার মনে হয়, এটা একটা খুব বুদ্ধিমান প্রস্তাব ছিল, যদিও তেমন সফলতা পায় নি। ভবিষ্যতে হয়ত বা পাবে।<br />
	আগে ‘সমকামী’ শব্দটা যেমন অবাঞ্ছিত ছিল অনেক আমেরিকানের কাছে, এখন নাস্তিক শব্দটাও অনেকটা তেমন। সমকামী আন্দোলনে ‘গে’র মত ভালো অর্থের একটা শব্দকে গ্রহণ করার আইডিয়াটা দারুণ ছিল। ‘ব্রাইট’ শব্দটাও তেমন হতে পারত।<br />
	তবে যদি অতটা এখন না-ও হয়ে থাকে, আমরা খানিকটা সফলতা অবশ্যই পেয়েছি – আমরা নাস্তিকতার ধারণাটাকে একটা গোপনীয় অবস্থান থেকে বের করে পরিচিত করে তুলেছি, অনেকটা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। এখন অনেকেই প্রকাশ্যে ‘আমি নাস্তিক’ কথাটা বলছে। আবার অনেকেই ভাবছে, এর মধ্যে কিছুটা ভালো জিনিস থাকলেও থাকতে পারে। আমার মনে হয়, এটা সবাইকে জানানো দরকার যে, তাদের চারিপাশেই এমন অনেক ভালো মানুষ আছে যারা নাস্তিক। এতে সেলেব্রিটি নাস্তিকরা একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। আর এসবে গোঁড়া মানুষেরা যে উত্ত্যক্ত হন, এটা একটা ভালো লক্ষণই।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">এই বিষয়ে একটা ‘নব্য নাস্তিক’ বনাম ‘নরম নাস্তিক’ বিতর্ক চলে, যাতে অনেকে বলেন যে আজকালকার নাস্তিকেরা বড় ‘চরমপন্থী’ হয়ে উঠছে। এই দুই দলকে কীভাবে একসাথে কাজ করার জন্য মেলানো যায়?</div>
<p>তা জানি না। তবে মনে হয়, অনেকগুলো জিনিস হওয়া দরকার। আমাদের একটা শান্ত, ধীর, স্থির, অবিচ্ছিন্ন, সরল সত্য প্রচার করে যাওয়া দরকার, যে প্রচলিত ধর্মগুলো কতটা হাস্যকর, অর্থহীন, প্রাচীনতম আমলের ধ্যানধারণা, যেগুলো ছেড়ে আমাদের বেরিয়ে আসা দরকার।</p>
<p>	আর এইটাও ধার্মিকদের – অনেক ধর্মাচারী নাস্তিকও কিন্তু আছেন – জোর দিয়ে বলা দরকার, যে তাঁরা যতই তাঁদের আচরিত ধর্মকে নিরীহ মনে করুন, ধর্মের একটা বেশ ক্ষতিকর প্রভাব আছে।</p>
<p>	ব্রিটিশ লেখক জন গ্রে সম্প্রতি একটা লেখা লেখেন, যার নাম ‘বিশ্বাসে বিশ্বাস রাখা’ (বিলীভিং ইন বিলীফ), যেটা মনে হয় আমার ‘ব্রেকিং দা স্পেল’ বইটার ‘বিশ্বাসের প্রতি বিশ্বাস’ (বিলীফ ইন বিলীফ) অধ্যায়টা থেকে অনুপ্রাণিত। কিন্তু, মজার ব্যাপার, সেখানে তিনি বলছেন, “এটাই প্রথাগত ধর্মের সমস্যা, সেটা মূলত ‘বিশ্বাসে বিশ্বাস রাখা’, কিন্তু ধর্ম আসলে তা নয়।” এক অর্থে উনি ঠিকই বলছেন, আর সেটাই ছিল আমারও বক্তব্য। কিন্তু উনি যেটায় পরোক্ষ সমর্থন দিচ্ছেন, সেটা হল একটা প্রথাগত ভণ্ডামি – “দেখো বন্ধুরা, আমরা আসলে বিশ্বাসে বিশ্বাস রাখি না, কিন্তু অমন একটা ভান করি কেবল।”</p>
<p>	আর সেটাই আমরা ওই প্রজেক্টটায় দেখছি। ডাক্তারিতে যেমন শপথ নিতে হয়, ‘প্রথমত, রোগীর কোনো ক্ষতি কোরো না’, তেমনই ধর্মে মূল কথাটা হল, ‘যারা পবিত্র বইয়ের কথাগুলোকে একদম আক্ষরিক অর্থে নেয়, সেই সরলমতি প্রাচীনপন্থী ভাবনার ভক্তদের বিশ্বাসকেও কিন্তু কখনও খাটো করে দেখো না, আর তাই প্রচার-বেদীতে দাঁড়িয়ে কখনও এমন কিছু বোলো না যা তেমন কাউকে আহত করে।’ এ বিষয়ে আমরা প্রায় সরাসরি উদ্ধৃতিই পেয়েছি। আর তাই ধর্মপ্রচারকেরা একধরনের দ্বিচারিতা করে চলেন – যারা সরল বিশ্বাসে চলে, তাদের কাছে তাঁরা দারুণ বিশ্বাসী হিসাবেই অবতীর্ণ হন, কিন্তু উদারপন্থী শ্রোতারা বুঝে নেন যে যা বলা হচ্ছে সেগুলো আসলে রূপক। আর তাঁদের এতে আপত্তি থাকে না, যেহেতু তাঁরা তুলনায় বেশি আধুনিকমনস্ক, তাঁরা সহজেই বুঝে নেন যে এসব রূপক।</p>
<p>	কিন্তু তাঁরা কেউই এ নিয়ে কথা বলেন না। আমি তাঁদের কথা বলাতে চাই। আমি এই দ্বিচারিতা নিয়ে সবাইকে সচেতন করতে চাই। আর তার অর্থ, ওই জন গ্রে-র মত লোকেরা আমার সুবিধাই করে দিচ্ছেন। তাই আমি বলতে চাই, “শুনুন, শুনুন! আপনার পাদ্রীকেই সাহস করে জিজ্ঞেস করে দেখুন না? কারণ কেউ তো নিজে থেকেই বেদীর উপর একটা বড় পোস্টার টাঙিয়ে রাখবেন না, যে ‘এসব রূপক!’” কেন নয়? তাঁরা যদি নিজের মনে এমনটাই ভেবে থাকেন, তাহলে প্রকাশ্যেই স্বীকার করুন না!</p>
<p>	কর্মরত পাদ্রীদের আসলে শৌখিন, ফ্যান্সি তত্ত্বের জন্য সময় নেই। আর ওইসব ধর্মতাত্ত্বিকেরা আসলে একরকম নাস্তিকই – যে তাত্ত্বিক ঈশ্বর তাঁদের ধারণায় আছে, সেটা প্রচলিত বিশ্বাসীর ঈশ্বরভাবনার থেকে বহু দূর।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">ভারতে আমাদের যে মুখ্যত হিন্দু সমাজ-সংস্কৃতি, সেখানে অনেক মানুষই যে ধর্মের পথে ভাবনাচিন্তা করেন বা নানারকম আচার-প্রথা পালন করেন এমন নয়, কিন্তু যারা করে তাদের ভালো চোখে দেখেন, সম্মান করেন – তাঁরা মনে করেন, মানুষের ধর্মবিশ্বাসের প্রয়োজন আছে, এবং তাঁদের সেই প্রয়োজনকে সম্মান দেওয়া উচিত। এই ধারণাটাকে প্রকাশ করার জন্য একটা ভালো নাম খুঁজছিলাম অনেকদিন ধরে। আপনার বইতে ‘বিশ্বাসে বিশ্বাস করা’ কথাটা পেয়ে তাই খুব আনন্দ হয়েছিল।</div>
<p>হ্যাঁ, এমনটা অনেকেই করে। আমার মনে হয়, এই আচরণটার প্রতি লোকের নজর কাড়া দরকার ছিল, ব্যাপারটার একটা নাম দেওয়া প্রয়োজন ছিল।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">এটা অনেক যুক্তিবাদীরাই বলেন, যে শিশুরা তো নাস্তিক, ঈশ্বরভাবনাহীন হয়েই জন্মায়, আর ধর্মের বোঝা চাপিয়ে না দিলে নাস্তিক হিসাবেই বেড়ে উঠত&#8230;</div>
<p>যদিও ঠিক ওই কথাটা আমি বলি না, তবে আমিও বলি যে তাদের উপর ধর্মটাকে চাপিয়ে দিয়ে তাদের মস্তিষ্ক-প্রক্ষালন করে ফেলা উচিত না। তাদেরকে সহজাত চিন্তা-ভাবনা-প্রশ্ন-সন্দেহ নিয়ে বেড়ে উঠতে দাও, নিজেরা বুঝেশুনে যদি তারা নাস্তিক হয় তো হবে, ধার্মিক হলে তাই, কিন্তু সবরকম পথ তো তাদের সামনে খোলা থাকবে।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">এই বিষয়ে, আপনি কগনিটিভ সাইন্সের গবেষক বলে, একটা প্রশ্ন করি। গবেষণায় তো দেখা গেছে, শিশুরা যেহেতু খুবই সৃষ্টিশীল এবং কল্পনাপ্রবণ, তারা নির্জীব বস্তুতেও প্রায়ই মানবিক গুণাবলী কল্পনা করে নেয়, এবং অনেক প্রাকৃতিক ঘটনা, যার স্বাভাবিক ব্যাখ্যা আছে কিন্তু তা শিশুদের ধারণার বাইরে, এমন ঘটনার পেছনে কোনো শক্তি বা ব্যক্তির হাত রয়েছে বলে মনে করে নেয়। সেক্ষেত্রে, এমন কি হতে পারে না, যে তাদের ওই কাল্পনিক ব্যক্তিই তাদের একরকম ঈশ্বরচেতনা?</div>
<p><img style="width: 287px; height: 300px; float:left; padding:10px;" alt="imaginary friend cartoon" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/pics/daniel_dennett/imaginary_friend.png"><br />
এই প্রসঙ্গে সেদিন পাওয়া একটা কার্টুনের কথা মনে পড়ে গেল – একটা বাচ্চা তার মায়ের সাথে দাঁড়িয়ে আছে, আর পাশে একজন ভদ্রমহিলা, যার গলায় যিশুর লকেট, আর পরনে একটা টি-শার্ট, যাতে লেখা, ‘আমি ওনার সাথে আছি’। তা দেখে বাচ্চাটা জিজ্ঞেস করছে, ‘তোমার কি আর এখনও কাল্পনিক বন্ধু রাখার মত বয়স আছে?’ এটা একটা দুর্দান্ত কার্টুন, যেটা ভাবছি পরেরবার কোনো বক্তৃতা দিলে ব্যবহার করব।</p>
<p>	প্রশ্নের ব্যাপারে বলি, হ্যাঁ, এটাকে আমি বলি ‘সচেতন অবস্থান’ (‘ইন্টেশনাল স্টান্স’), যেখানে কোনো ব্যক্তি এমন একটা অবস্থান নিচ্ছে যাতে কোনো অচেতন বস্তুকে সে একটা সচেতন জিনিস বলে ধরে নিয়ে সেইমত প্রতিক্রিয়া করছে। এটা একটা ‘অতিক্রিয়াশীল কর্তা নির্ণয় পদ্ধতি’ (‘হাইপার-অ্যাক্টিভ এজেন্ট ডিটেকশন ডিভাইস’)। আর এটাই বিবর্তনীয় জীববিদ্যায় ধর্মের উৎস। বিপদ দেখলে যেমন রোম দাঁড়িয়ে যায়, তেমনই প্রতিবর্ত ক্রিয়া এখানে কাজ করছে, কোনো ঘটনার পেছনে দ্রুত কোনো কর্তা বা উৎস খোঁজার প্রবৃত্তি, যা আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যে গেঁথে গেছে। আর তাই সেটা যখন একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলে, তখন আমাদের উর্বর মস্তিষ্ক ভূত-প্রেত-জ্বীন-পরী দেখতে পায় কল্পনায়।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">আপনার ‘ব্রেকিং দা স্পেল’ বইটা পড়ার পরে ইন্টারনেটে যখন তার কিছু সমালোচনা বা রিভিউ পড়ছিলাম, তখন একজনের বক্তব্য বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছিল। তিনি মার্ক্সবাদে আলোচিত ধর্মের উৎপত্তির তত্ত্বকে তুলে এনেছিলেন, যাতে বলা হয়েছে, ধর্মের উদ্ভব হয় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে, এবং তা বুঝতে গেলে মানুষের সামাজিক ইতিহাস অধ্যয়ন করা জরুরী।</p>
<p>	উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, আমরা ইতিহাসে বহুবার দেখেছি, পুরোহিতেরা এবং শাসকেরা, প্রায়শই একসাথে মিলে, ধর্মকে স্রেফ একটা সুসংগঠিত ব্যবস্থা বা পরিকাঠামো হিসাবে ব্যবহার করেছে, সাধারণ জনতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য; যারা বিরুদ্ধে কিছু বলার চেষ্টা করে তাদের বিধর্মী বা পাষণ্ড হিসাবে দাগিয়ে দমিয়ে রাখার জন্য। যার অর্থ, ওই পুরোহিতেরা ধর্মকে সৃষ্টি করেছে একটা আধ্যাত্মিক চেতনা থেকে নয়, স্রেফ একটা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে, আর মানুষ সেই ধর্মকে গ্রহণ করেছে বিশ্বাস থেকে নয় বরং নিরাপত্তার প্রয়োজনে।</p>
<p>	ওই সমালোচক, যিনি সম্ভবত কোনো সমাজতাত্ত্বিক সংঘের সদস্য, অভিযোগ করেছেন যে আমেরিকার শিক্ষাস্তরে (‘অ্যাকাডেমিয়া’) মার্ক্সবাদের আলোচনা থেকে দূরে থাকা হয়, যেটা সম্ভবত ম্যাকার্থি জমানার রয়ে যাওয়া প্রভাব। এবং সজ্ঞানে না হলেও আপনিও তাই ওই তত্ত্বের আলোচনা বাদ রেখেছেন আপনার বইতে।</p>
<p>	তার বদলে, সেখানে আপনি অন্য নানারকম তত্ত্বের আলোচনা করেছেন ধর্মের উৎপত্তির বিষয়ে। যে প্রধান তত্ত্বটা তুলে ধরা হয়েছে সেখানে, তা বলে, প্রাচীন লোককথা-ভিত্তিক আদিম ধর্মচর্চার (‘ফোক রিলীজিয়ন’) থেকে বর্তমানের প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের (‘অর্গানাইজ্‌ড্‌ রিলীজিয়ন’) উৎপত্তি। তাতেও ধর্মের এই রাজনৈতিক ক্ষমতার ইঙ্গিত করা হয়েছে, কিন্তু সরাসরি এভাবে নয় যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ধর্মের সৃষ্টি। ওই তত্ত্বের সম্পর্কে আপনার কী মত?</p></div>
<p>তাহলে, ওনার বক্তব্য যে আমি ফাঁকি দিয়েছি – মার্ক্সীয় তত্ত্বকে যেমন গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল তা দিইনি?</p>
<p>	প্রথমেই স্বীকার করি, ওই দাবিটার পেছনে অনেকটাই সত্য আছে, যে আমেরিকার ওই কমিউনিজম-বিরোধী জমানার প্রভাব এখনও খানিকটা রয়ে গেছে। তাঁর অনুগামীদের অতটা না হলেও, মার্ক্সের লেখা চমৎকার, কিন্তু তা সচরাচর নজরের আড়ালেই রয়ে যায়। আমার মনে হয়, তা বর্তমান শিক্ষাজগতে ফিরিয়ে আনা উচিতই হবে। ওনার কাজ সম্পর্কে আমি খুব অভিজ্ঞ নই, কিন্তু এটুকু জানি যে তার মধ্যে বেশ কিছু ভালো জিনিস আছে। এবং অনেকেই আছেন যাঁরা এ বিষয়ে পারদর্শী, অবশ্য তাঁরা ঠিক মার্ক্সবাদী না, মার্ক্স-বিদ – কান্ট-বিদ’রা যেমন কান্ট-এর বিষয়ে অভিজ্ঞ, তাঁরা তেমন মার্ক্স-এর ব্যাপারে।</p>
<p>	এবং ওনার এই বিশেষ তত্ত্বটার মধ্যে অনেকটাই সত্যি লুকিয়ে আছে। তবে সেটাকে একবিংশ শতাব্দীর আলোয় আধুনিকীকরণ করা প্রয়োজন। মার্ক্সীয় চিন্তাধারার মধ্যে একটা সরল কার্যকারণ-মূলক প্রবণতা বা ফাংশানালিজ্‌ম্‌ আছে, খানিকটা এইমিল দ্যুর্কেম-এর তত্ত্বের মত, যা বলে যে সামাজিক প্রভাবকগুলো একটা সামগ্রিক জিনিস, যা ব্যক্তির ক্রিয়া হিসাবে ভেঙে দেখা যায় না। এখানে ডেভিড স্লোন উইলসন-এর একটা কথা প্রযোজ্য – উনি বলেন, আমরা এই সামাজিক ফাংশনালিজম-কে গ্রহণ করতে পারি, তবে তা গোষ্ঠীভিত্তিক নির্বাচন (‘গ্রুপ সিলেকশন’)-এর পরিপ্রেক্ষিতে। আমি বলব, মীম-ভিত্তিক (‘মীমেটিক’) ও গোষ্ঠীভিত্তিক নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে। এটা দরকার যে, এই সামাজিক ব্যবস্থাগুলো কীভাবে তৈরি হয়েছিল তার অন্তর্নিহিত পদ্ধতিগুলো উপলব্ধি করা, যেটা মার্ক্সের আলোচনায় মেলে না।</p>
<p>	উল্লেখযোগ্য ব্যাপার এই যে, একই কথা ফ্রয়েডের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাঁর কিছু দুর্দান্ত প্রস্তাব আছে, কিন্তু সেগুলো একটা শুষ্ক তত্ত্বের ভাষায় কঠোরভাবে আবদ্ধ। তাকে অন্যভাবে দেখা, বা অন্য কিছুর উপর ভিত্তি করে তাকে ব্যাখ্যা করা, এসবের অনুমতি নেই। আর এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক, কারণ ওই শক্ত, ভঙ্গুর খোলস থেকে বের করে আনতে পারলে তাঁর চমৎকার কিছু অন্তর্দৃষ্টি বেশ কাজে লাগতে পারত। </p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">কেউ কেউ বলছেন, বর্তমান নাস্তিকতা আন্দোলনের অবস্থা অনেকটা অভিজাত ‘প্রাক্তন-ছাত্র গোষ্ঠী’ (‘ওল্ড বয়েস্‌ ক্লাব’)-এর মত, যেটা মূলত একদল উচ্চশিক্ষিত সচ্ছল শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের একটা সমাবেশ। আপনার কী মনে হয়, এ পরিচয় থেকে এই আন্দোলন কীভাবে বেরিয়ে আসতে পারে?</div>
<p>হ্যাঁ, এ অভিযোগ আমি শুনেছি। কিন্তু ব্যতিক্রম হিসাবে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মহিলা কর্মী বা অ্যাক্টিভিস্টও আছেন – বিজ্ঞান-লেখিকা ন্যাটালি অ্যাঞ্জিয়ার, নারীবাদী ও উদারপন্থী বক্তা আয়ান হিরসি আলি, যাঁকে আমার চমকপ্রদ মনে হয়, এবং অবশ্যই তসলিমা; একটু অন্যরকম একজনও এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য – টরন্টোর ইরশাদ মাঞ্জি, যিনি নাস্তিক নন, কিন্তু ইসলামের মধ্যে থেকেই তার প্রথাগুলোর কঠোর সমালোচক।</p>
<p>	এখানে খেয়াল করা উচিত, যে ধর্মের অবস্থাও একই রকম – ক’জন মহিলা আর পাদ্রী বা পুরোহিত হন? তবে সেই অবস্থা বদলাচ্ছে – আগে খ্রীষ্টধর্মের অনেক শাখায় মহিলাদের পাদ্রী হওয়া নিষেধই ছিল, এখন সেই আপত্তি আস্তে আস্তে উঠে যাচ্ছে অনেক যায়গায়। এই পিতৃতান্ত্রিক অভ্যাস তো এত সহজে চলে যাওয়ার নয়।</p>
<p>	আমি কিছু অনুমান করতে পারি, যে কেন আরো বেশি মহিলাদের আমরা দেখছি না, কিন্তু সেগুলো আন্দাজে ঢিল ছোঁড়া-ই হবে, সেগুলোকে আমার চিন্তালব্ধ উপলব্ধি বলে ভাবা ভুল হবে।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">তা সেই অনুমানগুলো কী?</div>
<p>এটা অনেকটা, অল্প কিছুদিন আগে অবধিও দর্শনে আফ্রিকান-আমেরিকানদের স্বল্পতার মত ঘটনা। যদি আপনি একজন প্রতিভাবান আফ্রিকান-আমেরিকান হন, তাহলে আপনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার আছে, দর্শনের কচকচি নিয়ে পড়ে থাকার তুলনায়। আপনার প্রতিভা, আপনার বুদ্ধি, আপনার দক্ষতাকে দরকার, এমন অনেক বড় সমস্যা রয়েছে আপনার সমাজে। আর তেমনই, অনেক মহিলা যাঁরা দুর্দান্ত যুক্তিবাদী তার্কিক হতে পারতেন, তাঁরা তাঁদের কাছে আরো বেশি প্রয়োজনীয় নানা কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। তা সেটা অন্যায় কী? আমার তো মনে হয়, খুব বেশি লোকের দার্শনিক হয়ে কাজ নেই, অল্প কয়েকজন দার্শনিক হলেই যথেষ্ট। যদি যেসব মহিলাদের সে দক্ষতা রয়েছে, তাঁদের অন্য কর্মসূচী থাকে – যেমন ধরুন, তাঁদের যদি রাষ্ট্রপতি হওয়ার লক্ষ্য থাকে, তাহলে তাই হোন! সেটা অনেক বেশি দরকারি – ‘চার ঘোড়সওয়ার’এর মধ্যে একজন মহিলা হওয়ার চেয়ে দেশে একজন মহিলা রাষ্ট্রপতি হওয়া অনেক বেশি দরকারি। আর বর্তমান অবস্থায়, আপনি আমাদের একজন হলে, আপনার রাষ্ট্রপতি হওয়া সম্ভবই নয়!</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">ওই ‘প্রাক্তন-ছাত্র গোষ্ঠী’ বিষয়ে আরেকটা কথা – এই দলে এশিয়ার তেমন উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব দেখা যায় না কেন, যখন পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা সে মহাদেশেই, আর আমেরিকাতে-ইউরোপেও এশীয়দের সংখ্যা প্রচুর?</div>
<p>আমি বলতে যাচ্ছিলাম যে এশিয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম একটা বড় রাজনৈতিক সমস্যা নয়, কিন্তু সেটা ঠিক নয়। হিন্দু মৌলবাদও একটা বড় সমস্যা, আমি যতটা জেনেছি তা থেকে। আর প্রধান একজন, যাঁর কাজ থেকে আমি তা জেনেছি, তিনি একজন মহিলা – মীরা নন্দা। আপনি কি তাঁর কাজের সাথে পরিচিত? আমি আমার বইটাতে তাঁর উল্লেখ করেছি। তবে সত্যিই, আমি জানি না, এশিয়া থেকে আরো বেশি অ্যাক্টিভিস্ট উঠে আসছেন না কেন।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">হিন্দুধর্মের প্রসঙ্গে জানতে চাইব, নাস্তিক গোষ্ঠীতে খ্রীষ্টধর্ম বা ইসলামের যেমন তীব্র সমালোচনা হয়, হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্মের তেমন হয় না কেন?</div>
<p>এটা হয়ত এই সরল এবং লজ্জাজনক কারণের জন্য যে, প্রধান আলোচক যাঁরা আছেন তাঁরা ওই ধর্মগুলোর বিষয়ে তেমন একটা অবগত নন। এটা আমার বিষয়ে সত্যি তো বটেই। আমার এ নিয়ে তেমন পড়াশোনা করা হয়ে ওঠেনি, তাই জঙ্গি হিন্দুত্ববাদ নিয়ে আমার জ্ঞান খুবই সীমিত।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">আরেকটা কারণ কি এই, যে এই ধর্মগুলো খানিকটা নরমপন্থী?</div>
<p>আমারও তেমনই ধারণা। তবে আমার অতটা জ্ঞান নেই যে আমি নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারি।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">সম্প্রতি মস্তিষ্কের উপর স্যাম হ্যারিস এবং অন্যরা কিছু এফ-এম-আর-আই স্টাডি করেছেন, নানারকম প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা নানারকম কাজ করার সময় মস্তিষ্কের কোন কোন অংশ সক্রিয়তা দেখায়, তা নিরীক্ষণ করে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের সাথে নানা ইমোশন বা ক্রিয়ার সম্পর্ক নির্ণয় করার উদ্দেশ্যে। হিউমার বা রসিকতার সঙ্গেও অমন মস্তিষ্কের সম্পর্ক নির্ণয়ের চেষ্টা তো করা যেতেই পারে। এই নিয়ে আপনি কতটা উৎসাহী?</div>
<p>বইয়ে আলোচিত হিউমারের ওই তত্ত্বটা মূলত ম্যাথু হার্লি-র। আমার আগেকার বই ‘কনশাসনেস এক্সপ্লেইনড’ (১৯৯১)-এর সাথে এর অনেকটা মিল আছে – এতে উপস্থাপিত চিন্তাগুলো নতুন, উদ্ভাবনী, এবং আমরা চাই না যে তাদের শুরুতেই নিউরো-অ্যানাটমির একটা প্রাথমিক, খসড়া মডেলের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা হোক – তাতে সেই মডেলটা বর্জিত হলেই তত্ত্বগুলোও বর্জিত হবার ভয় থাকে।</p>
<p>	আমার বেশ কিছু প্রারম্ভিক অনুমান আছে, যে কীভাবে মস্তিষ্কের চেতনার ‘বহু খসড়া তত্ত্ব’ (‘মাল্টিপল্‌ ড্রাফট্‌স্‌ মডেল’) কর্টেক্স ও থ্যালামাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হবে, কিন্তু সেটাই মূল কথা নয়। সেই আন্দাজগুলো ভুলও হতে পারে ভবিষ্যতে। তাই থ্যালামাসের কেবল একটা প্রাথমিক, অপরিণত ধারণা থেকে এখনই একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে চাই না।</p>
<p>	‘কনশাসনেস এক্সপ্লেইনড’ বইটা লেখার পর এই গত কুড়ি বছরে যা ফলাফল পরিলক্ষিত হয়েছে, তা আমার উল্লেখিত থিয়োরির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই আমি এখন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যেতে পারি, এবং সেটা আমার একটা পরিকল্পনা, যে মস্তিষ্কের বর্তমান মডেলের সঙ্গে অন্তর্নিহিত স্নায়বিক ধারণার সম্পর্ক নিয়ে বিশদ গবেষণা করা। </p>
<p>	একই কথা ওই জোকস-এর বইটার ব্যাপারেও খাটে। ম্যাথু, আমি ও রেজিনাল্ড ভাবনাচন্তা করেছি, আমাদের থিয়োরিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবার, এবং পরীক্ষার মাধ্যমে প্রত্যয়িত করার জন্য। ডেভিড হিউরন যেমন সঙ্গীতের উপর বিশ্লেষণমূলক গবেষণা করেছেন, সেইরকম। এখানে আরো অনেক কাজ করার সুযোগ আছে। তাই ঠিক এই মুহূর্তেই কিছু বলে ফেলা সম্ভব না।</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">রসিকতাকে নাস্তিকতা আন্দোলনের একটা হাতিয়ার হিসাবে কি দেখা চলে? ডাবলিনের সম্মেলনে ডকিন্স বলেছিলেন, “ধার্মিকেরা যে বিশ্বাসটা আঁকড়ে বসে থাকেন, সেটা চূড়ান্ত হাস্যকর, আর সেই রূপটা উদ্ঘাটন করে দেওয়া জরুরী। তাই আমাদের দরকার ব্যঙ্গ, দরকার রসিকতা, &#8230; দরকার বাকচাতুর্য।”</div>
<p>হা হা হা! অবশ্যই, অবশ্যই! একটা জিনিস ধর্মের সম্পর্কে সবাই লক্ষ্য করে, যে ধর্মের কোনো রসিকতাবোধ নেই। ধর্মে রসিকতার কোনো স্থান নেই – ধর্মের গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশের ঠিক বিপ্রতীপ হলো রসিকতা। ওখানে প্রয়োজন একনিষ্ঠ, ভক্তিপূর্ণ আচার-অনুষ্ঠান, আর রসিকতা এসব নিয়ম-শৃঙ্খলার ঠিক উলটো। আর তার মানে, এটা একটা দারুণ অস্ত্র।</p>
<p>	আবার এটাও একটা দারুণ ব্যাপার যে আমেরিকাতে, ইউরোপে, ঈশ্বর বা স্বর্গ ইত্যাদি সম্পর্কে কিন্তু বেশ অনেক হাসিঠাট্টাই আছে। আর ধার্মিক লোকেরাও কিন্তু তাতে মজাই পান। তাহলে, সেসব কেন লোকের কাছে আপত্তিকর নয়? আমার মনে হয়, একমাত্র উত্তর এটাই, যে সবাই জানে ওসব আসলে গালগল্পই!</p>
<div style="color: #A52A2A; font-weight:bold; text-indent:0px;">শেষ প্রশ্ন – আপনার পরবর্তী বইটা কী বিষয়ে?</div>
<p>ওটা হবে ‘মাইন্ড টুলস’ এর উপর।</p>
<hr />
<span style="font-size:small; text-indent:0px;"><span style="color: #A52A2A;">১</span> – এই সাক্ষাৎকারটি নেওয়া হয়েছিল ৫ই অক্টোবর। ওই মাসেরই ৭ তারিখ এই প্রজেক্টের ওয়েবসাইট প্রকাশ্যে আসে, www.clergyproject.org ঠিকানায়।</span>
</div>
<p><a name="scribd"></a><br />
</p>
<p><a href="http://calcuttans.com/palki/P12-final/secure/01-P12-interview-Dennett-secured.pdf"><br />
<img style="width: 127px; height: 41px;" alt="download" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/04/download.png"></a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://calcuttans.com/palki/p12-interview-daniel-dennett/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বাতিক (Batik) &#8211; Story by Abhishek Mukherjee</title>
		<link>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-abhishek-mukherjee/</link>
		<comments>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-abhishek-mukherjee/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Dec 2011 07:58:16 +0000</pubDate>
		<dc:creator>piyasc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Bengali Story/Bangla Golpo]]></category>
		<category><![CDATA[Palki 12]]></category>
		<category><![CDATA[Abhishek Mukherjee]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://calcuttans.com/palki/?p=4425</guid>
		<description><![CDATA[
 &#160;
&#160;


বাতিক

&#160;

অভিষেক মুখার্জী

&#160;

শেষ অবধি অ্যামেরিকা আসা হল!
	বাপ্‌রে বাপ, আসা তো নয়, যুদ্ধ!
	ভিসার জন্য পাখিপড়া? করেছি।
	শীতের সকালে এম্ব্যাসিতে দাঁড়ানো? করেছি।
	ক্যুরিয়রের ভরসায় না থেকে ওম টাওয়ার্সে গিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে আসা? করেছি।
	গজকুমারে গিয়ে দেশে ফিরে ইহজীবনেও পরব না এমন খান-চল্লিশ গরমজামা কেনা (ওখানে মাইনাস চলছে, মরে যাবি!)? করেছি।
	শাশুড়ির চোখ এড়িয়ে স্যুটকেসের একদম নিচে গোটাকয়েক “ইয়ে” জামা পুরে নেওয়া [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<script type="text/javascript">disableSelection(document.body)</script><p><br />
<a href="#scribd"><img style="width: 401px; height: 35px;" alt="see scribd embed" align="left" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/11/bangla6.png"></a></p>
<p> &nbsp;<br />
&nbsp;
</p>
<div style="text-align: center; color: #A52A2A; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large; font-weight:bold;">
বাতিক
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: center; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large;">
অভিষেক মুখার্জী
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: justify; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:medium; text-indent:50px;">
শেষ অবধি অ্যামেরিকা আসা হল!<br />
	বাপ্‌রে বাপ, আসা তো নয়, যুদ্ধ!<br />
	ভিসার জন্য পাখিপড়া? করেছি।<br />
	শীতের সকালে এম্ব্যাসিতে দাঁড়ানো? করেছি।<br />
	ক্যুরিয়রের ভরসায় না থেকে ওম টাওয়ার্সে গিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে আসা? করেছি।<br />
	গজকুমারে গিয়ে দেশে ফিরে ইহজীবনেও পরব না এমন খান-চল্লিশ গরমজামা কেনা (ওখানে মাইনাস চলছে, মরে যাবি!)? করেছি।<br />
	শাশুড়ির চোখ এড়িয়ে স্যুটকেসের একদম নিচে গোটাকয়েক “ইয়ে” জামা পুরে নেওয়া (বাঃ, চেক-ইন করেই এয়ারপোর্টের বাথরুমে ঢুকে হল্টার-স্প্যাগেটি পরে অ্যামেরিকান সাজতে হবে না?)? করেছি।<br />
	বলরামে অর্ডার দিয়ে সন্দেশকে ফ্লাইটের জন্য স্পেশাল ডবল-প্যাক করা? করেছি।<br />
	ক্যারিঅন ব্যাগে নতুন সানন্দা আর আনন্দলোক ভরে নেওয়া? করেছি।</p>
<p>	তারপর এয়ারপোর্ট। তার আগে অবিশ্যি পাসপোর্ট-টিকিট গোছানোর পর্ব; বিগ্রহর একটা বেল্টব্যাগ আছে (জানি, আরো নানারকম নাম আছে, কিন্তু বেল্টব্যাগ শুনতে ভালই লাগে); সেটা ও সাতাত্তরবার মিলিয়ে দেখেছে। পাশের বাড়ি থেকে ওজন নেওয়ার যন্ত্র নিয়ে এসে প্রত্যেকটা ব্যাগের ওজন মিলিয়ে দেখলাম (সঙ্গে নিজেরও – কত, সেটা আর বলছি না)।</p>
<p>	লুফথান্সার চেক-ইন কাউন্টারের মেয়েটার সঙ্গে বিগ্রহের ফ্লার্ট করা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করলাম (আহারে, ওখানে গিয়ে অনেক খসাব, বেচারা একটু করে নিক)।<br />
	তারপর অপেক্ষা।<br />
	বোর্ডিং।<br />
	“চিকেন অর পাস্তা”র উত্তরে “চিকেন” বলা (বেচারা বিগ্রহ চিকেন অ্যান্ড পাস্তা চেয়েছিল)।<br />
	মাইক্রোওয়েভে বারোশো ডিগ্রি বা ঐরকম কোনো তাপমাত্রায় মুরগি-আলুসেদ্ধ-কড়াইশুঁটি-গাজর একাকার করে বানানো ঘ্যাঁট গলাধঃকরণ করা।<br />
	ফ্র্যাঙ্কফুর্টে নেমে পানীয় জলের জন্য হাহাকার, আর তিন ইউরো দাম দেখে আঁতকে ওঠা।<br />
	আবার ফ্লাইট।<br />
	আবার ঘ্যাঁট।<br />
	পেছনের সিট থেকে জাপানী শিশুর লাথি।<br />
	সামনের সিট থেকে ব্রিটিশ বাচ্চার ফ্রুট লূপ খাওয়ার বায়না।<br />
	হাঁটু নাড়াতে না পারা নিয়ে বিগ্রহের ঘ্যানঘ্যানানি।<br />
	তার মধ্যেই ঘুম, আর তারপর&#8230; অনেক ঘণ্টা, অনেক বছর অপেক্ষার পর&#8230; অ্যামেরিকা। অবশেষে।</p>
<p>	***</p>
<p>	আগেই বলে রাখি, আমার এই অ্যামেরিকা-ফ্যান্টাসি অনেকদিনের। আমি কস্মিন্‌কালেও ইংরেজি বই পড়তাম না বা হলিউডি সিনেমা দেখতাম না, কিন্তু তাই বলে অ্যামেরিকা আসার স্বপ্ন তৈরি হবে না? জি আর ই দিয়েছিলাম, বেশ বাজে স্কোর হল, কাজেই একটা সফটওয়্যারের ছেলে দেখে ঝুলে পড়েছিলাম। কায়দা করে জেনে নিয়েছিলাম, অনসাইট যেতে হয় কিনা, কোথাও। ছেলেটা বুদ্ধিমান, ফরদিন খানের মত হ্যান্ডসাম, টাকা আছে বেশ, অনসাইটে আসে, সিএনবিসি দেখে, পার্টিতে গেলে দিব্যি শেয়ারমার্কেট নিয়ে কথা বলতে পারে, কয়েকটা বড় বড় ক্লাবের মেম্বর, অতএব দিব্যি প্রেমে পড়া যায়। পড়লাম, আর বিয়েও করে ফেললাম।<br />
	এবার, অ্যামেরিকা।</p>
<p>	***</p>
<p>	এবারেরটা অবিশ্যি অনসাইট নয়। এমনিই বেড়াতে আসা। তার মানে এই নয় যে হোটেলে থাকব। বিগ্রহের মাসির বাড়ি এডিসন, বেশ বড় বাড়ি। মাসি নিঃসন্তান, আর বেশ বড়লোক, আর বিগ্রহকে এতটাই ভালোবাসে যে না এলে রীতিমত সেন্টু খাওয়ার সম্ভাবনা। হাতে-হাতে কাজ করতে হবে ঠিকই, কিন্তু ঐ, অনেকগুলো টাকার সাশ্রয় হবে, ফিরে এসে একটা তনিশ্‌ক্‌ মেরে দেব সেক্ষেত্রে বিগ্রহকে পটিয়ে। ওখানেই থাকব, আর গাড়ি ভাড়া করে বা এন জে ট্রান্সিটে চড়ে নিউইয়র্ক-ফিলাডেলফিয়া-নায়াগ্রা-অ্যাটলান্টিক সিটি বীচ ঘুরে বেড়াব।</p>
<p>	কাস্টমস পেরিয়ে পাঁচ ডলারের শ্রাদ্ধ করে ট্রলি নেওয়ার পর বিগ্রহ বলল, “মনে আছে তো?”<br />
	“কি?”<br />
	“মাসির কথা?”<br />
	“কি?”<br />
	“একি, বললাম তো&#8230;”<br />
	“ওঃ, সেই বাতিক? আরে হ্যাঁ, ভাবিস্‌না, ম্যানেজ করে নেব।”<br />
	“না, তুই বুঝছিস্‌না&#8230;”<br />
	“চিল্‌।”</p>
<p>	***</p>
<p>	বিগ্রহর মেসো বেশ অমায়িক গোলগাল লোক। গোল মুখ, গোল মসৃণ টাক, গোল সলিড ভুঁড়ি, গোল চোখে গোল চশমা, গোল আঙুলে গোল নখ, গোলগলা টিশার্ট, এমনকি গোল গোল জুতোও। আমাদের দেখে একগাল হেসে বললেন, “বাঃ, তোমাদের বেশ কম লাগেজ তো!”<br />
	বিগ্রহ বলল, “হ্যাঁ, তবে সোমদত্তাকে তো চেনোনা, ফেরার সময় এই পাঁচটা ব্যাগ ন’টা হয়ে যাবে।”<br />
	এবার কিছু না বললেই নয় – “সেই; পাঁচটা ব্যাগের চারটে তো তুই ভরিয়েছিস্‌।”<br />
	“ও, তোর পুরো কস্মেটিক্স রেখে এসেছিস্‌?”<br />
	বাড়ত নির্ঘাত। মেসো নিজেই লাগেজ বুট-এ (ডিকি নয়, বুট: আমাকে পইপই করে শেখানো হয়েছে) তুলতে শুরু করায় আমরা হাত লাগাতে বাধ্য হলাম। বড় অডি ভ্যান (আমি নিশ্চিত যে মেসো অডির লোগো দেখে লোভ সামলাতে পারেননি) – স্কর্পিও-কোয়ালিস ভুলে গেলাম এক নিমেষে।</p>
<p>	“ইয়ে, সোমদত্তা, বিগ্রহ তোমাকে কি বলেছে জানি না, কিন্তু তোমার মাসির একটু অদ্ভুত স্বভাব আছে; আমি সঙ্গে থাকি, ব্যাপারগুলো জানি। তুমি তো জানো না, তোমার অদ্ভুত লাগতে পারে।”<br />
	“আপনি এইভাবে বলছেন কেন? উনি একটু পরিষ্কারভাবে থাকতে ভালবাসেন – তা সে তো অনেকেই চায় পরিষ্কার থাকতে।”<br />
	“না, ওর ব্যাপারগুলো একটু বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছে যায় মাঝেমধ্যে।”<br />
	“যেমন?”<br />
	উনি মুচকি হেসে একটা গোল বাব্‌লগাম মুখে দিলেন। আমাদের অফার করলেন, তারপর বললেন, “চলো, দেখবে।”</p>
<p>	***</p>
<p>	ওয়ালমার্টের সামনে গাড়ি দাঁড়াল। আমরা ঢুকলাম পেছন পেছন। বললেন, “বাড়িতে পরার জুতো নাও।”<br />
	ঘাবড়ে গেলাম। “কেন? আমাদের তো আছে।”<br />
	বিগ্রহও দেখলাম রীতিমত ঘাবড়েছে – “এখানে আবার বাড়িতে আলাদা জুতো পরে নাকি কেউ?”<br />
	মেসো এবার হেসেই ফেললেন, একটা সবে-তো-শুরু গোছের হাসি।</p>
<p>	কিনলাম। বিগ্রহর খুব খিদে পেয়েছিল, আর ভেতরেই ম্যাকডনাল্ড’স, তাই খেতে ঢুকলাম। মেসো দেখলাম ডিক্যাফিনেটেড কফি খেলেন, নন-ডেয়ারি হোয়াইটনার আর শুগার-ফ্রি সুইটনার দিয়ে। ব্যাপারটা লক্ষ্য করে আমার বেশ হাসি পেল। উনি বুঝলেন, বুঝে নিজেও হেসে ফেললেন।<br />
	জিজ্ঞেস করলাম, “মাসির জন্য কিছু নেব না?”<br />
	“না।”<br />
	“কেন?”<br />
	“ও ম্যাকডনাল্ড’স-এ খায় না।”<br />
	অদ্ভুত লাগল। “কেন?”<br />
	“১৯৯৬-এ একজন ওয়েট্রেস গ্লাভস না পরে সার্ভ করেছিল। তারপর থেকে।”</p>
<p>	***</p>
<p>	বিগ্রহর মাসি বেশ সুন্দরী ছিলেন এককালে। মানে, বেশ ট্র্যাডিশনাল ধরনের; ফরসা, ধারালো চোখমুখ, পাতলা ফ্রেমের চশমা। অস্বস্তিকর ব্যাপারটা হল, ভুরু সবসময়ে কুঁচকেই থাকে, আর মুখ হাসলেও চোখ হাসে না।<br />
	আমরা ব্যাগ নামালাম; গেট অবধি নিয়ে গেলাম। দেখি, দরজার ঠিক মুখে বিশাল তিনতলা ট্রলি অপেক্ষা করছে, প্রত্যেকটা তাক প্লাস্টিকে মোড়া। একটু ঘাবড়ালাম।<br />
	মেসোর দিকে তাকিয়ে দেখি, মুখ টিপে হাসছেন। বললেন, “এটা এবাড়ির সিস্টেম – বাইরের কেউ থাকতে এলে ব্যাগ ট্রলিতে তোলা হয়, তারপর তার ঘর অবধি নিয়ে যাওয়া হয়। লাগেজের চাকার ধুলো বাড়ির মেঝেতে লাগে না।”<br />
	বিগ্রহর দিকে তাকিয়ে দেখি, নার্ভাস হাসি হাসছে। লাগেজ তুললাম। ততক্ষণে মাসি প্যাকেট খুলে নতুন জুতো বাড়ির ভেতরে রেখেছেন। মেসোর চটিও রেডি, উনি বাইরের জুতো বাইরে খুলে অদ্ভুত কায়দায় লাফ দিয়ে সোজা বাড়ির চটির ওপর ল্যান্ড করলেন।<br />
	আমি অত বুঝিনি। জুতো ছেড়ে হেঁটে ঢুকলাম ভেতরে। মাসি গম্ভীর।<br />
	“দেখো সোমদত্তা, এই বাড়ির একটা নিয়ম আছে। বাইরের পায়ে তুমি ভেতরে ঢুকতে পারো না। বাইরে যাও, আবার হেঁটে ঢোকো।”<br />
	ঘাবড়ে গিয়ে পেছোলাম, কয়েক পা। মাসি ভেতরে গেলেন। তখনও বুঝিনি, কি হতে চলেছে। এলেন, মিনিটদুয়েক পর। একহাতে টয়লেট রোল, অন্যহাতে একটা বড় শিশি। ওপরে লেখা লাইসল।<br />
	লাল কার্পেট পাতা হতে দেখিনি কখনো। তবে কিভাবে হয়, জানলাম। টয়লেট পেপার বিছিয়ে দিলেন মাসি, আমার পা থেকে আমার বাড়ির চটি অবধি (তখনও জানিনা, ওদের ফ্লিপফ্লপ বলে), আর গুছিয়ে অনেকটা লাইসল ঢাললেন।<br />
	“এবার এসো।”</p>
<p>	***</p>
<p>	“ট্রলি তোমাদের ঘরে নিয়ে যাও। আনপ্যাক করো, কিন্তু ব্যাগসমেত ট্রলি ঘরের বাইরে বের করে দাও।”<br />
	দিলাম, কিন্তু কৌতূহলবশতঃ গেলাম দেখতে, ব্যাগেদের কি গতি হয়।<br />
	বিশাল বাড়ি, যাকে অরুণোদয় “প্রাসাদোপম” বলত (আমার প্রথম প্রেমিক, বাংলায় লেটার পেয়েছিল, কিন্তু চাকরি পেতে দেরি করে ফেলল – বেচারা!) – অনেকগুলো গেস্টরুম। তার একটায় ট্রলি ঢুকল, আমাদের লাগেজ সমেত। আমরা অবাক বিস্ময়ে দেখলাম, মেসো ব্যাগগুলো বাথটাবে রাখলেন, আর বাথটাব জল দিয়ে ভরতি করে লাইসল ঢাললেন।<br />
	“এগুলো থাক এখন। ঘন্টাখানেক পর শুকিয়ে নেব। তোমাদের ঘরে লন্ড্রি ব্যাগ আছে, জামাকাপড় ওখানেই ছাড়বে। ওয়াশিং মেশিন দেখিয়ে দিচ্ছি।”<br />
	এত বড় ওয়াশিং মেশিন আমার চোদ্দগুষ্টিতে কেউ দেখেনি। “কমার্শিয়াল,” বিগ্রহ বলল। মেসো বললেন “হ্যাঁ, কিন্তু তাও পঁয়ত্রিশ মিনিটই নেয়। তোমাদের কোনো ধারণা নেই আমাদের ইলেকট্রিক বিল কত আসে।”<br />
	“এটা চালায় কে?”<br />
	“তোমাদের মাসি। দেখে বুঝতে পারবে না, কিন্তু ওর গায়ে বেশ জোর। অনেক ভারি কাজ এই বয়সেও একাই করে।” আবার মুচকি হাসি।<br />
	মেসোকে বেশ পছন্দ হয়ে গেল আমার, ইতিমধ্যেই। যেকোনো মানুষের পক্ষেই এই শুচিবায়ুগ্রস্ত মহিলার সঙ্গেই থাকা বেশ কঠিন, তাও চুয়াল্লিশ বছর ধরে; আর ইনি যে শুধু আছেন তাই নয়, সেন্স অফ হিউমরও অক্ষুণ্ণ আছে। ক্ষমতা আছে ভদ্রলোকের। আমি হলে কোন্‌কালে&#8230; </p>
<p>	***</p>
<p>	“বিগ্রহ?”<br />
	“ম্‌ম্‌ম্‌ম্‌?”<br />
	“এখানেই থাকতে হবে, নারে?”<br />
	“তুই হোটেলে থাকতে চাস্‌?”<br />
	“টাফ্‌ না, এখানে?”<br />
	“টাফ্‌ তো বটেই। কি করবি, কাল শিফ্‌ট্‌ করে যাবি?”<br />
	“না, থাক, অনেকগুলো টাকার ব্যাপার। কটাই বা দিন? আর ওঁরা তো লোক ভালই। থেকেই যাই, একেবারে না পারলে দেখা যাবে নাহয়।”<br />
	“শিওর?”<br />
	“হুঁ।”<br />
	“তাহলে এখন?”<br />
	“এখন দেখব, যে তোর নাম রেখেছে, ঠিক রেখেছে, না ভুল।”<br />
	“মানে?”<br />
	“মানে, তোর নামের শুরুতে বিগ আর গ্রো কেন?”<br />
	“উফফ, এতটা জার্নি করে এলি, তোর কোনো ক্লান্তি নেই?”<br />
	“তুই ঐ শুয়েই থাক। বিগ্রহ হয়ে।”</p>
<p>	***</p>
<p>	“এই, সোমদত্তা?”<br />
	“হ্যাঁ মাসি?”<br />
	“ছটা ডিম স্ক্র্যাম্বল করে দিবি?”<br />
	“দিচ্ছি।”<br />
	এ ক’দিনে বেশ অভ্যস্ত হয়ে গেছি, মাসির রান্নাঘরে। ছেচল্লিশ বোতল লাইসল দেখার শক্‌ কেটে গেছে। অ্যাপ্রন, গ্লাভস, লাইসল, সবেতেই। ডিশওয়াশার থেকে প্যান বের করলাম, ডিম ফেটালাম।</p>
<p>	“ডিমগুলো ফেলে দে।”<br />
	“ফেলে দেব? মানে?”<br />
	“তুই খেয়াল করিস্‌নি, প্যানের হ্যান্ডলে একটা মাছি বসেছিল, তুই বের করার পরেই। তুই ঐ হ্যান্ডল ধরেছিস্‌, তারপর সেই হাতেই ডিম ফেটিয়েছিস্‌।”<br />
	“তাই বলে&#8230;”<br />
	“দিবি।”<br />
	দিলাম।<br />
	“এবার প্যানটাকেও।”<br />
	আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের মত দাঁড়িয়ে আছি দেখে মাসি নিজেই এসে ফেললেন, প্লাস্টিকে মুড়ে (“মুড়ে ফেলছি কেন জানিস্‌? আবার মাছি বসবে, আর ঘরময় উড়বে?”), তারপর নতুন প্যান, নতুন ডিম বের করলেন।<br />
	“সর্‌, আজ আমিই করছি।”</p>
<p>	***</p>
<p>	ওয়ালমার্ট।<br />
	“কি করছিস্‌, সবজিগুলো ট্রলিতে রাখছিস্‌?”<br />
	“কিনছি তো আমরা। কোথায় রাখব?”<br />
	“হাতে বইবি। আমিও তো বইছি, এই বয়সে। পারবি না?”<br />
	“কিন্তু কেন বইছ?”<br />
	“আরে, এই ট্রলিগুলোয় এরা বাচ্চাগুলোকে বসায় না? ওরা তো বাথরুম করে। অনেকসময় ডায়পার ভিজে ভারী হয়ে যায়, তখন লিক করে। সেগুলো ট্রলিতে লাগে। তুই ভাবছিস্‌ ট্রলিগুলো তারপর এরা পরিষ্কার করে?”<br />
	আমি হতবাক্‌।</p>
<p>	ফিরে এলাম। ফ্রিজে তুলতে যাব সব, এমন সময়&#8230; “কি করছিস্‌?”<br />
	“ফ্রিজে তুলব না?”<br />
	“না মেজে?”<br />
	“কি মাজব?”<br />
	“দেখাচ্ছি।”<br />
	ডিটার্জেন্ট আর স্কচ ব্রাইট নিয়ে শুরু করলেন। প্রথমে ডিম। প্রত্যেকটা ডিম নিখুঁতভাবে মাজলেন, অনেক সময় নিয়ে। তারপর সবজি – টোম্যাটো, ফুলকপি, বেগুন, ব্রকোলি, জুকিনি, মাশরুম, অসম্ভব মমত্ববোধের সঙ্গে। তারপর তুলে রাখলেন। হ্যাঁ, অবশ্যই সার্জিকাল গ্লাভ্‌স্‌ পরে।</p>
<p>	***</p>
<p>	এইভাবেই চলল। এই ফাঁকে কয়েকদিন ট্রেন ধরে (যার ভিড়, বিগ্রহ বলল, বনগাঁ লোকাল-এর থেকে কোনো অংশে কম নয়) নিউইয়র্ক ঘুরে এলাম। আরেকদফায় ফিলাডেলফিয়া। আরেকবার প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি, আইনস্টাইনের বাড়ি ইত্যাদি। ভাগ্যিস একে বিয়ে করেছিলাম!</p>
<p>	***</p>
<p>	দেখতে দেখতে উইকেন্ড এসে গেল। মেসোর ব্যালকনি পরিষ্কার করার দিন। বাড়ি কার্পেটে মোড়া হলেও ব্যালকনি নয়। ওখানে বাড়ির জুতো পরে যাওয়া যায়, কিন্তু পরিষ্কার ব্যালকনিতে। পরিষ্কার হবে কিভাবে?<br />
	মেসো দু’পায়ে দুটো বড় গ্রোসারির প্লাস্টিক পরে নিলেন, তারপর রাবারব্যান্ড দিয়ে বেঁধে নিলেন। এইভাবে তৈরি মোজা পায়ে হেঁটে ভ্যাকিউম ক্লিনার চালালেন। তারপর ভ্যাকিউম হয়ে গেলে এই অদ্ভুত মোজা খুলে বাড়ির চটি।</p>
<p>	মাসি লাঞ্চের জন্য ডাকলেন।<br />
	মেসো বললেন, “তোরা নিচে যা, আমি আসছি।”<br />
	লিভিংরুমে বসলাম। টিভি চালালাম (অবশ্যই টিস্যুতে আঙুল মুড়ে, নয়ত রিমোটে জীবাণু লাগতে পারে), চ্যানেল বদলালাম। হঠাৎ&#8230;</p>
<p>	সাংঘাতিক জোরে শব্দ। লাফিয়ে উঠে পেছনে তাকিয়ে দেখি, মেসো সিঁড়ি বেয়ে গড়িয়ে পড়েছেন, নিচে। উপুড় হয়ে। বিগ্রহ ওঁকে সোজা করল। ক্রিম কার্পেট রক্তে লাল, কপাল কেটে রক্ত গড়িয়ে নেমেছে গালে, গলায়, বুকে। সাদা গেঞ্জি রক্তে মাখামাখি।<br />
	জ্ঞান নেই।<br />
	বিগ্রহ একলাফে ৯১১ ডায়াল করল।</p>
<p>	“তোরা একটু যা। আমি তোর মেসোর মুখ-টুখ একটু পরিষ্কার করে দিই।”<br />
	আমার বেশ বিরক্তিকর লাগল – এখনো পরিষ্কারের কথা মাথায় ঘুরছে? কিধরনের মানুষ?<br />
	মেসোর দিকে তাকিয়ে কষ্ট হল। ভদ্রলোক বেশ হাসিখুশি ছিলেন, হঠাৎ করে কি হল?<br />
	“কি হল, যা না!”<br />
	বিগ্রহও দেখলাম, বলল, “স্নো হয়েছে, আমি একটু বাইরে গিয়ে দাঁড়াই বরং। তুইও আয়।”<br />
	গেলাম। ও দেখি বেশ বিরক্ত।<br />
	“রাগছিস কেন?”<br />
	“রাগব না? এইর’ম পাগল জানলে আসতামই না, সোমা।”<br />
	“না এলে আজ কি হত ভাব?”<br />
	“সেই।”<br />
	হাত ধরে দাঁড়ালাম।</p>
<p>	***</p>
<p>	অ্যাম্বুলেন্স এল। চট্‌পটে তৎপর লোকজন, কলকাতার অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে মিলই নেই। এসেই জিজ্ঞেস করল, আহত ব্যক্তি কোথায়?<br />
	ভেতরে গেলাম। দেখি, মাসি একা, ব্লিচ দিয়ে কার্পেট মুছছে।<br />
	“মাসি? মেসো কোথায়?”<br />
	“বললাম না? মানুষটাকে তো পরিষ্কার করতে হবে। একটু ভালোভাবে না করলে হয়?”<br />
	“ওরা এসে গেছে, কোথায় মেসো? ওরা নিয়ে যাবে তো!”</p>
<p>	মাসি উঠে দাঁড়ালেন। আমাদের দেওয়া টেব্‌লক্লকটার দিকে তাকালেন।<br />
	“সবে তো দশ মিনিট হল রে। এখনও মিনিট পঁচিশ। একবার দেখে আসবি, কতক্ষণ বাকি?”
</p></div>
<p><a name="scribd"></a><br />
</p>
<p><a href="http://calcuttans.com/palki/P12-final/secure/02-P12-abhishekmukherjee-godyo-secured.pdf"><br />
<img style="width: 127px; height: 41px;" alt="download" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/04/download.png"></a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-abhishek-mukherjee/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>20</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>পোষ্য (Poshyo) &#8211; Story by Amit Kumar Majhi</title>
		<link>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-amit-kumar-majhi/</link>
		<comments>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-amit-kumar-majhi/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Dec 2011 07:57:38 +0000</pubDate>
		<dc:creator>piyasc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Bengali Story/Bangla Golpo]]></category>
		<category><![CDATA[Palki 12]]></category>
		<category><![CDATA[Amit Kumar Majhi]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://calcuttans.com/palki/?p=4611</guid>
		<description><![CDATA[
 &#160;
&#160;


পোষ্য

&#160;

অমিত কুমার মাঝি

&#160;

‘নরেন ওঠ, অনেক বেলা হয়ে গেছে।’ সবে মাত্র মর্নিংওয়াক থেকে ফিরে এসে ডাক দিলেন নরেনের বাবা। তিনি চেন দিয়ে ধরে আছেন একটা কুকুরকে। কুকুরটা ডাক দিল, ঘেউ, ঘেউ।
	নরেন দু’হাত দিয়ে চোখ ঘষতে ঘষতে বাইরে বেরিয়ে এসে বলল, ‘আমি উঠে গেছি। তোমার মর্নিংওয়াক হয়ে গেল?’ এই বলে সে কুকুরটার চেনটা তার বাবার হাত [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<script type="text/javascript">disableSelection(document.body)</script><p><br />
<a href="#scribd"><img style="width: 401px; height: 35px;" alt="see scribd embed" align="left" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/11/bangla6.png"></a></p>
<p> &nbsp;<br />
&nbsp;
</p>
<div style="text-align: center; color: #A52A2A; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large; font-weight:bold;">
পোষ্য
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: center; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large;">
অমিত কুমার মাঝি
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: justify; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:medium; text-indent:50px;">
‘নরেন ওঠ, অনেক বেলা হয়ে গেছে।’ সবে মাত্র মর্নিংওয়াক থেকে ফিরে এসে ডাক দিলেন নরেনের বাবা। তিনি চেন দিয়ে ধরে আছেন একটা কুকুরকে। কুকুরটা ডাক দিল, ঘেউ, ঘেউ।</p>
<p>	নরেন দু’হাত দিয়ে চোখ ঘষতে ঘষতে বাইরে বেরিয়ে এসে বলল, ‘আমি উঠে গেছি। তোমার মর্নিংওয়াক হয়ে গেল?’ এই বলে সে কুকুরটার চেনটা তার বাবার হাত থেকে নিয়ে তার নির্ধারিত জায়গাতে বেঁধে দিল। নরেনের বাবা বললেন, ‘তুই রেডি হয়ে নে। তা না হলে তোর অফিস যেতে দেরি হয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি কর।’</p>
<p>	এই হল নরেন আর তার বাবার প্রতিদিন সকালের কথোপকথন। এরপর নরেন অফিসে বের হয়ে যায় আর বাড়িতে থেকে যান তার বাবা।<br />
	নরেনের এক দিদি আছে, কয়েক বছর আগে তার বিয়ে হয়ে গেছে। নরেনই তার বাবার কাছে থাকে। সে তার বাবার খুব পছন্দের পাত্র। অল্প বয়সে তার মা মারা গেলে তার বাবাই আদরে যত্নে ভালবাসায় তাকে মানুষ করে তুলেছেন।<br />
	সত্তর বছর বয়সী নরেনের বাবার সব সময়ের সঙ্গী তাঁর পোষা কুকুরটা। বাড়িতে বিশ্বস্ত একজন কাজের লোক আছে, তাই তাঁর বিশেষ কোন অসুবিধা হয় না।</p>
<p>	একদিন নরেন আর তার বাবা একসঙ্গে রাতের খাবার খাচ্ছে।<br />
	নরেনের বাবা বললেন, ‘হ্যাঁরে, রাধিকা কেমন আছে? তাকে তো অনেক দিন দেখি না।’<br />
	রাধিকা নরেনের গার্লফ্রেন্ড। মাঝে মাঝেই তার বাবার কাছে আসে এবং গল্প-টল্প করে যায়।<br />
	নরেন বলল, ‘ও ভালোই আছে, এখন একটু ব্যস্ত তাই এদিকে আসতে পারছে না।’<br />
	‘তোদের বিয়েটা দেখে যেতে পারলে ভালোই হত।’<br />
	‘তুমি আবার কোথায় যাচ্ছ!’<br />
	‘না, বলা তো যায় না। আজ আছি কাল নেই।’<br />
	‘বাবা, তুমি সব সময় একই কথা বল কেন। তোমার কি আর কিছু বলার থাকে না।’<br />
	একটু থেমে সে বলল, ‘তুমি তো চোখে কম দেখ, তাই ভাবছিলাম তোমায় ডাক্তার দেখাব।’<br />
	‘ও সবের আর দরকার নেই, বুঝলি। ডাক্তার-ফাক্তারের আর দরকার নেই।’<br />
	‘না না, তা বললে কি হয়।’ একটু থেমে সে আবার বলল, ‘যদি সে রকম, মানে যদি নতুন চোখ লাগে, তার ব্যবস্থা করা যাবে। প্রয়োজন হলে আমিই না হয় একটা চোখ দিয়ে দেব। তুমি নতুন দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবে।’<br />
	‘শোন তাহলে, তোকে একটা কথা বলি। সারা জীবনে এত দেখেছি, এত শুনেছি, এখন আর দেখতে শুনতে ইচ্ছে করে না। আমার চেনা দুনিয়ার জানা লোকেরা সারা জীবনে এত দুঃখ-কষ্ট দিয়েছে, এ দুনিয়াকে নতুন করে দেখার কোনো ইচ্ছে নেই। এই ভালো আছি, অল্প দেখি, অল্প শুনি, ভালোই। নতুন দৃষ্টি নিয়ে আমার স্বপ্নের দুনিয়ার ধূসর রঙ আমি দেখতে চাই না। আমি তো হাতে গোনা আর কটা দিন বাঁচব। তোর সামনে এখন অনেক রাস্তা বাকি পড়ে আছে, তোকে সেই পথে হাঁটতে হবে সতর্ক দৃষ্টি নিয়ে, একটু এদিক-ওদিক হলেই বিপদ। আমার একটাই ইচ্ছে, আমার কল্পনার আদর্শ দুনিয়া তোর জীবন জুড়ে থাকুক আর তুই সেটাকে দু’চোখ দিয়ে উপলব্ধি কর। এটাই আমার ভগবানের কাছে একমাত্র প্রার্থনা।’<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	এরপর নরেন আর কিছু বলল না। তাদের খাওয়া হয়ে গেলে যে যার ঘরে চলে গেল।</p>
<p>	প্রতিদিন সকালে নরেনের বাবা মর্নিং ওয়াক থেকে ফিরে এসে নরেনকে ডেকে ঘুম থেকে তুলে দেন। আজ নরেন ঘুম ঠিক সময়েই ভেঙেছে কিন্তু তার বাবার ডাকে না, কুকুরের ঘেউঘেউ শব্দে। সে বিছানা থেকে বলল, ‘বাবা আমি উঠে গেছি।’ কিন্তু বাইরে থেকে কোন উত্তর এল না। </p>
<p>	সে বিছানা থেকে উঠে দু’হাত দিয়ে চোখ ঘষতে ঘষতে দরজা খুলে বাইরে এসে বলল, ‘আমি উঠে গেছি। তোমার মর্নিং ওয়াক হয়ে গেল?’<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	এ কথা বলার পর চোখ খুলে সে তার বাবাকে না দেখতে পেয়ে তার বাবার ঘরের দিকে তাকিয়ে ডাক দিল, ‘বাবা’। এবারও সে কোন উত্তর পেল না।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	এদিকে কুকুরটা বাঁধা অবস্থায় চিৎকার করেই চলেছে। কুকুরের ডাক শুনে তার মনে হল, ডাকের মধ্যে কোথাও একটা বেদনা জুড়ে আছে। তার কেমন যেন একটা ভয়-ভয় করতে লাগল। সে তার বাবার ঘরের কাছে এসে ডাক দিল, ‘বাবা, বাবা। এখনও ওঠো নি! অনেক বেলা হয়ে গেছে। হাঁটতে যাবে না?’<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	ভেতর থেকে কোন উত্তর এল না।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	নরেন অনেক বলা সত্ত্বেও নরেনের বাবা দরজা ভেজিয়ে ঘুমাতেন। ভেজানো দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকে দেখল, তার বাবা শুয়ে আছেন। এতে নরেন অবাক হয়ে বলল, ‘বাবা অনেক বেলা হয়ে গেছে, ওঠো। মর্নিং ওয়াকে যাবে না?’<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	এই বলেই সে তার বাবার গায়ে হাত দিয়ে দেখে, তাঁর শরীর বরফের মত ঠান্ডা হয়ে গেছে। নরেন বুঝতে পারল, তার বাবা চিরদিনের মত ঘুমের দেশে পাড়ি দিয়েছেন। নরেন দুঃখে কাঠের মত দাঁড়িয়ে রইল অনেকক্ষণ।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	তারপর সে প্রথমে কল করল রাধিকাকে। রাধিকা আসতেই সে তার দিদি-জামাই বাবুকে ফোন করে।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	নরেনের দিদি এসেই কান্নায় এক্কেবারে ফেটে পড়ল।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	এদিকে কুকুরটা সমানে চিৎকার করেই চলেছে।</p>
<p>	বেশ কিছু দিন কেটে গেছে। নরেনের বাবার পোষা কুকুরটা কিছু না খেয়ে খেয়ে, সারাক্ষণ চিৎকার করতে করতে, একদিন মারাই গেল। কুকুরটা মারা গেলে তার বাড়ির চাকরটা বলল, ‘ছোটবাবু, কুকুরটা বাবুর শোকে না খেয়েই মারা গেল। বাবুর খুব ন্যাওটা ছিলো কি না, বাবুর হাতে ছাড়া কারো হাতে খেতোই না।’</p>
<p>	নরেনের মধ্যে আগেকার সতেজতা আর নেই, কেমন যেন সব সময় সে মনমরা হয়ে থাকে। সে রাধিকা বা তার দিদিকে ফোন করা ছেড়েই দিয়েছে। নরেনের দিদি বেশি দূরে থাকে না। সে কয়েক বার এসে নরেনকে দেখে গেছে। নরেনকে সে অনেক বুঝিয়েছে, ‘এত দুঃখ করলে কি করে চলবে বল?’<br />
	নরেন খুব দুঃখের সঙ্গে বলেছে, ‘বাবাকে আমি কিছুতেই ভুলতে পারছি না।’<br />
	‘কি করবি বল, কারো বাবা মা কি আর চিরকাল থাকে? মনে মনে শক্ত হ। দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।’</p>
<p>	তার দিদি তাকে অনেকবার বলেছে, ‘তুই এইবার রাধিকাকে বিয়ে করে নে।’<br />
	নরেন বলছে, ‘বিয়ে করার সময় কি চলে যাচ্ছে। যখন হোক করলেই হল।’</p>
<p>	এদিকে রাধিকা এসে তাকে বলেছে, ‘তুই না দিন দিন কেমন পাল্টে যাচ্ছিস। ফোন-টোন তো বন্ধ করে দিয়েছিস। চল কোথাও একটা ঘুরে আসি। একলা ঘরে বন্দী থেকে তুই কেমন দিন দিন পাগলের মত হয়ে যাচ্ছিস।’ নরেন রাধিকার কোন কথার উত্তর দেয় না।<br />
	রাধিকা বলল, ‘আমরা না পুরো ফ্যামিলি নিয়ে দার্জিলিং বেড়াতে যাচ্ছি, তুইও আমাদের সঙ্গে চল; দারুণ মজা হবে।’<br />
	নরেন কিছুতেই রাজি হল না বেড়াতে যাবার জন্য।</p>
<p>	অনেক দিন কেটে গেছে, বাইরের লোকেদের সঙ্গে তার কোন যোগাযোগই নেই। বাড়ির চাকরটাকে বেশ কিছু দিন আগে সে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	নরেন আজকাল এক প্রকার বন্দীর মত সময় কাটায়। বাইরে যাওয়া ছেড়েই দিয়েছে। সে কি যেন এক গভীর চিন্তায়, গভীর দুঃখে সর্বদাই ডুবে থাকে।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	তখন গভীর রাত্রি, নরেন একলা তার নিজের ঘরে চুপচাপ বিছানার উপর স্থিরভাবে বসে আছে। তার মনে হতে লাগল, কুকুরটা যেন আগের মত আবার চিৎকার করছে। কিন্তু অনেক দূর থেকে। তার কানে অস্পষ্টভাবে আসতে লাগল সে আওয়াজ। বিছানায় বসে বসে সে বলল, ‘আমি কেন বেঁচে আছি!’<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	হঠাৎ তার মনে হল, কুকুরটা যেন তার বাবার ঘরে ঢুকল। সে অতি সর্তকতার সাঙ্গে তার বাবার ঘরে ঢুকে আলো জ্বালিয়ে দেখে সেখানে কিছু নেই। সে তার বাবার বিছানায় শুয়ে ঘুমোনোর চেষ্টা করল; কিন্তু সে ঘুমোতে পারল না। সে তার বাবার ঘর থেকে বের হয়ে উঠোনে কুকুরটা যেখানে বাঁধা থাকত ঠিক সেইখানে এসে দাঁড়াল। এরপর সে কুকুরের গলার বেল্টটা তার গলায় পরে নিয়ে সেখানেই পড়ে রইল।</p>
<p>	রাধিকা দার্জিলিং থেকে ফিরে এসে নরেনকে দেখতে এল। সদর দরজা থেকে সে অনেকক্ষণ, ‘নরেন, নরেন’ বলে ডেকে, কোন উত্তর না পেয়ে, দরজায় ধাক্কা দিল। ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে গেল। দরজা খুলতেই সে কুকুরের অদ্ভুত চিৎকারে চমকে উঠে দেখল, একটা উস্কো-খুস্কো লোক মুখময় দাড়ি নিয়ে কুকুরের মত চিৎকার করছে। সে আবার লোহার চেনে আটকানো। রাধিকা ধীরে ধীরে তার কাছে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘নরেন!’<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png">	সে উত্তর দিল, ‘ঘেউ।’
</div>
<p><a name="scribd"></a><br />
</p>
<p><a href="http://calcuttans.com/palki/P12-final/secure/03-P12-AmitKumarMajhi-godyo-secured.pdf"><br />
<img style="width: 127px; height: 41px;" alt="download" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/04/download.png"></a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-amit-kumar-majhi/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>প্রেম অবিনশ্বর (The Eternal Love) &#8211; Story by Aniruddha Sen</title>
		<link>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-aniruddha-sen/</link>
		<comments>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-aniruddha-sen/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Dec 2011 07:56:38 +0000</pubDate>
		<dc:creator>kaustubhad</dc:creator>
				<category><![CDATA[Bengali Story/Bangla Golpo]]></category>
		<category><![CDATA[Palki 12]]></category>
		<category><![CDATA[Aniruddha Sen]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://calcuttans.com/palki/?p=4997</guid>
		<description><![CDATA[
 &#160;
&#160;


প্রেম অবিনশ্বর

&#160;

অনিরুদ্ধ সেন

&#160;

“আমি কি আপনার কোনো সাহায্যে আসতে পারি, ম্যাডাম?”
প্রবল হাওয়া ঠেলে অতি কষ্টে ক্যাফেটারিয়ার দিকে এগোবার চেষ্টা করছি, এমন সময় পেছন থেকে ভেসে এলো সেই অতি পরিচিত স্বরে এই ডাক। চমকে ঘুরে তাকালাম। সন্দেহ নেই – সে! উত্তেজনায়, শিহরণে আমার রোমকূপ খাড়া হয়ে উঠলো – যেমন তখনও হতো।
 ও কিন্তু আমায় মোটেও চিনতে [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<script type="text/javascript">disableSelection(document.body)</script><p><br />
<a href="#scribd"><img style="width: 401px; height: 35px;" alt="see scribd embed" align="left" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/11/bangla6.png"></a></p>
<p> &nbsp;<br />
&nbsp;
</p>
<div style="text-align: center; color: #A52A2A; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large; font-weight:bold;">
প্রেম অবিনশ্বর
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: center; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large;">
অনিরুদ্ধ সেন
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: justify; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:medium; text-indent:50px;">
“আমি কি আপনার কোনো সাহায্যে আসতে পারি, ম্যাডাম?”</p>
<p>প্রবল হাওয়া ঠেলে অতি কষ্টে ক্যাফেটারিয়ার দিকে এগোবার চেষ্টা করছি, এমন সময় পেছন থেকে ভেসে এলো সেই অতি পরিচিত স্বরে এই ডাক। চমকে ঘুরে তাকালাম। সন্দেহ নেই – সে! উত্তেজনায়, শিহরণে আমার রোমকূপ খাড়া হয়ে উঠলো – যেমন তখনও হতো।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> ও কিন্তু আমায় মোটেও চিনতে পারেনি। যাক, তাতে আমি আঘাত পাইনি। শেষ দেখা হবার পর আমরা দুজনেই অনেক বদলে গেছি, বিশেষতঃ আমি। তাছাড়া কোনো পুরুষের পক্ষে একটি মেয়েকে স্রেফ তার চলার পথের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা আদৌ অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে সে যদি ওর মত পুরুষ হয়।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> কিন্তু যখন একই মাইলফলক আবার ফিরে আসে? তখন বুঝতে হবে, বাছা, এবার তোমার ঘরে ফেরার পালা! আগে যখন আমাদের দেখা হয়েছিলো, আমি অনভিজ্ঞ ছিলাম। তাই আমার দ্বিধাগ্রস্ত বাহুবন্ধন এড়িয়ে তুমি পিছলে বেরিয়ে গেছো। সে ভুল আমার আর হবে না। এই হঠাৎ দেখা আমার বুকের এক গভীর ক্ষতকে আবার জাগিয়ে তুলেছে। বুঝতে পারছি, জীবনে কি মরণে ওকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না!</p>
<p>সুতরাং হাজার ভোল্টের এক হাসি ঠোঁটে ফুটিয়ে আমি উত্তর দিলাম, “ধন্যবাদ, তার দরকার হবে না। তবে কী, এই গা ছমছম হিল রিসর্টে এতক্ষণে একটা জীবন্ত প্রাণী চোখে পড়লো। এই হতচ্ছাড়া আবহাওয়াতে যদি আর কেউ জিন্দা থেকে থাকে তবে তারা ঘরে রুম হিটার চালিয়ে কম্বলের তলায় আরামসে ঘুম মারছে। কাজেই আপনি যদি ব্রেকফাস্ট টেবিলে আমাকে একটু সঙ্গ দেন –”<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “সানন্দে!” বলে সে নিবিড় দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালো। সেই দৃষ্টি – যার সামনে পড়ে আমার ভেতরটা আগুনের সামনে এক তাল মোমের মতো গলতে শুরু করলো। যেমন তখনও গলতো।</p>
<p>“মহিলারা অচেনা পুরুষদের সম্বন্ধে সাবধান থাকবেন – এক সিরিয়াল কিলার আশেপাশেই ঘুরে বেড়াচ্ছে,” স্থানীয় নিউজ চ্যানেল বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। আমারও কি সাবধান হওয়া উচিত নয়? না না, ও তো আর আমার অচেনা নয়। বরং কখনো কখনো মনে হয়, ওর সাথে আমার কত সহস্রাব্দের পরিচয়।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> ও এক নিঃশ্বাসে কত কথা বলে চলেছে, বোধহয় আমাকে পটানোর জন্য। বেকার পরিশ্রম – আমি তো ওর রসে মজেই আছি! মুগ্ধ হয়ে আমি একতরফা শুধু শুনে যাচ্ছি। অবশ্য কী-ই বা আমার বলার আছে? আমার যে অতীত ছাড়া কিছু নেই – সেসব প্যানপ্যানানি কি আর ওর মনে দাগ কাটবে!</p>
<p>ব্রেকফাস্টের পর ও দিলদার হয়ে আমাকে ওর হোটেল রুমের উষ্ণতায় বসে আড্ডা মারার জন্যে আমন্ত্রণ জানালো। বাইরের আবহাওয়া যদিও জঘন্য, তবু সেই আমন্ত্রণ বিনীতভাবে প্রত্যাখ্যান করে আমি বাগানে হাঁটার প্রস্তাব দিলাম। ততক্ষণে আমি ওর জন্য মরে যাচ্ছি, কিন্তু অনেক কষ্টে নিজেকে সংযত করলাম। নিজেকে হুঁশিয়ারি দিলাম – খুব তাড়াতাড়ি বেশি এগিয়ে সব মাটি ক’রো না। ধৈর্য ধরো, ও তোমারই হবে!<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> বাগানটি অতীব সুন্দর। ঝাঁক ঝাঁক দৃষ্টিনন্দন ফুল প্রতিকূল আবহাওয়ার দাপটে অস্তিত্বরক্ষার চেষ্টায় কুঁকড়ে রয়েছে। একটি অর্কিড পড়ে আছে দেখতে পেয়ে আমি তা তুলে নিয়ে ওর হাতে দিলাম।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “জানলেন কী করে যে আমি অর্কিড ভালোবাসি?” ও অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “এই, কেমন যেন মনে হলো।” আমি লজ্জায় লাল হয়ে বলি।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> আমার মুখের দিকে অপলক কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর ও বললো, “আপনাকে খুব চেনা চেনা লাগছে। আগে কি কোথাও দেখেছি?”<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “হয়তো কখনো কোনো ভিড়ের মধ্যে হবে।” অতি কষ্টে চোখের জল সম্বরণ করতে করতে বলি।</p>
<p>“যদি গুস্তাখি মাফ করেন তো বলি –” ও ইতস্তত করছে।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “করলাম, বলুন”, আমি হেসে ফেলি।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “আপনি কি কখনো ভালোবেসেছেন?”<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থেকে আমি অতি কষ্টে উত্তর দিই, “আমার ভালোবাসা? সে আমায় ভুলে গেছে।”</p>
<p>“আহাম্মক!”<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “কী বললেন?” অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করি।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “বলছি, এমন ফুলের মত সুন্দর একটি মেয়েকে যে ভুলে যেতে পারে, সে আহাম্মক ছাড়া আর কী?” ও জেদি গলায় বলে।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> আমি উত্তর দিই না। কিছুক্ষণ পর ও আবার বলে, “ঔদ্ধত্যের জন্য আবার মাফ চাইছি – আমি কি জানতে পারি কী ধরণের প্রেমিক আপনি পছন্দ করেন?”<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “কেন, বাচ্চা মেয়েটির হাতে তার পছন্দসই ললিপপটি তুলে দেবেন বলে?” আমি খিলখিলিয়ে হাসি।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “চেষ্টা করে দেখতে দোষ কী!” ও হেসে উত্তর দেয়।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> কিছুক্ষণ গভীর চিন্তায় তলিয়ে যাবার পর আমি আবিষ্ট স্বরে বলি, “আমি সেই প্রেমিকের স্বপ্ন দেখি, যে তার ভালোবাসার প্লাবনে আমার শ্বাসরোধ করে দেবে, আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে, আমাকে – আমাকে শেষ করে ফেলবে!”<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> এক মুহূর্তের জন্য আমি ওর চোখে দেখতে পেলাম আগুনের ফুলকি। পরক্ষণেই আবার চট করে আত্মসম্বরণ করে ও আমার দিকে শুধু হাত বাড়িয়ে দিলো।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> কী কপাল – সেটুকুও আমি গ্রহণ করতে পারলাম না! “না, এখনও সময় হয়নি।” ক্ষমাপ্রার্থনার ভঙ্গীতে বললাম।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “কিন্তু সময় যে ফুরিয়ে আসছে। কাল আমি এই জায়গা ছেড়ে চলে যাবো।” ও মিনতি করে।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “বিশ্বাস করুন, তার আগেই ব্যাপারটার নিষ্পত্তি হয়ে যাবে,” আমি কথা দিলাম। </p>
<p>নিঃশব্দে দু’জনে পথ চলছি। এক সময় পথ ফুরিয়ে গেলো, সামনে এক অতল খাদ। অনেক নীচে পাতায়, ফুলে ঝলমল প্রকৃতির শ্বাসরোধকারী সৌন্দর্য। কিনারায় এসে খাদের কয়েক ফুট দূরে দাঁড়িয়ে আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম। দমকা হাওয়ায় উড়তে লাগলো আমার কাপড়ের খুঁট আর চুল।</p>
<p>“হাতব্যাগ সামলে, ম্যাডাম – হাওয়ায় উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে।” ও পেছন থেকে চেঁচিয়ে বললো।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> ব্যাগটা আঁকড়ে ধরে বললাম, “তা আর বলতে – আমার সর্বস্ব তো এটারই মধ্যে।” তারপর একটু হেসে বললাম, “আমি যদি এখানে একটু দাঁড়াই, আপনি নিশ্চয়ই কিছু মনে করবেন না?”<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “না, না, আমি অপেক্ষা করছি,” বলে ও এক পাশে সরে দাঁড়ায়।</p>
<p>আবহাওয়া জঘন্য থেকে জঘন্যতর হচ্ছে। ঘন কুয়াশায় ধীরে ধীরে চারদিক ঢেকে যাচ্ছে, কয়েক হাত দূরেও কিছু দেখা যায় না। হিমেল হাওয়া হাড় কাঁপিয়ে দিচ্ছে। তবু আমি স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়ে। চারপাশ নিথর, নিস্তব্ধ। মনে হচ্ছে পৃথিবীটা যেন হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়েছে, সময় ছুটি নিয়েছে।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> তারপর এক সময় আমি পেছন ফিরে দেখি, ও পাশে নেই। কয়েকটি আশঙ্কাজনক মুহূর্ত, তারপর হঠাৎ আমার হাতের ব্যাগে এক হ্যাঁচকা টান আর আমার ঘাড়ের পাশে এক উত্তপ্ত নিঃশ্বাস। একটি সবল পুরুষালি বাহু পেছন থেকে আমায় প্রবল ধাক্কা দেবার জন্য উদ্যত। খাদের কয়েক ইঞ্চি দূরে আমি স্থাণু হয়ে দাঁড়িয়ে। চূড়ান্ত মুহূর্তটি কি তবে এসে গেলো?</p>
<p>“হল্ট!” হঠাৎ কে যেন চেঁচিয়ে ওঠে আর সাথে সাথে বেজে ওঠে এক তীক্ষ্ণ পুলিশি হুইসল। কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। একটি শরীর খাদের কিনারা থেকে সামনের অনন্ত শূন্যে ছিটকে পড়ে, কোনো হতভাগ্যের করুণ মৃত্যুকাতর আর্তনাদে দিগন্ত কেঁপে ওঠে, তারপর আবার সব নিস্তব্ধ।</p>
<p>“ইস, ব্যাটা সিরিয়াল কিলার শেষ অবধি আমাদের হাত এড়াতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করলো!” সাব-ইনস্পেক্টর দুঃখ করে বললেন।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “তুমি কি নিশ্চিত যে লোকটা একাই গেছে?” ইনস্পেক্টারের তখনো বিশ্বাস হচ্ছে না, “আমার যেন মনে হলো ও কাকে ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দিচ্ছে?”<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “স্যার, আমার ইনফ্রা-রেড চশমা দিয়ে আমি সব স্পষ্ট দেখেছি – লোকটা ছাড়া এখানে আর একটা কুত্তাও ছিলো না। তবে ওর মাথাটা বোধহয় একেবারে গিয়েছিলো – নিজের সাথেই কথা বলছিলো আর যেন ছায়ার সাথে যুদ্ধ করছিলো। সেভাবেই খাদের কিনারায় কাল্পনিক কাউকে ধাক্কা দেবার ভঙ্গী করতে করতে হঠাৎ নীচে লাফিয়ে পড়লো।”<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে!” ইনস্পেক্টর বলেন, “তুমি বোধহয় জানো না ওর প্রথম শিকার যে মেয়েটি, তাকে ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে ঠিক এই জায়গাটাতে টেনে এনে ধাক্কা মেরে নীচে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। অমন ফুলের মত সুন্দর একটি মেয়ে – কতটা পশু হলে একজন মানুষ স্রেফ অর্থের লোভে তার জীবনদীপ নিভিয়ে দিতে পারে!”<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> “চলুন স্যার, যাওয়া যাক।” সাব-ইনস্পেক্টর এতক্ষণে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পাট চুকোবার উদ্যোগ করেন।</p>
<p>আর আমি আমার অর্কিড হাতে নিয়ে অপেক্ষা করে থাকি। পৃথিবীর গভীর জঠর থেকে অবিরাম উঠে আসা কুয়াশার বাষ্প পাহাড় ঢেকে ফেলছে। তার পাখায় চড়ে এবার ও উঠে আসবে শুদ্ধ জ্যোতি হয়ে, পাশে এসে বসে আমার হাত ধরবে। আমার হৃদয় আবার নেচে উঠবে উচ্ছ্বাসের জোয়ারে। ও আমার, চিরদিনের জন্যই আমার হবে। মানুষ নশ্বর, প্রেমের মৃত্যু নেই।
</p></div>
<p><a name="scribd"></a><br />
</p>
<p><a href="http://calcuttans.com/palki/P12-final/secure/04-P12-aniruddhasen-godyo-secured.pdf"><br />
<img style="width: 127px; height: 41px;" alt="download" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/04/download.png"></a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-aniruddha-sen/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>7</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>বোঁদে (Bonde) &#8211; Story by Binod Ghosal</title>
		<link>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-binod-ghosal/</link>
		<comments>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-binod-ghosal/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Dec 2011 07:55:29 +0000</pubDate>
		<dc:creator>piyasc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Bengali Story/Bangla Golpo]]></category>
		<category><![CDATA[Palki 12]]></category>
		<category><![CDATA[Binod Ghosal]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://calcuttans.com/palki/?p=4451</guid>
		<description><![CDATA[
 &#160;
&#160;


বোঁদে

&#160;

বিনোদ ঘোষাল

&#160;

রাত্তির হলে বারীন পালটে যায়। এমনিতে দিব্যি সারাদিন হাসিমুখে রিক্সা টানে। ভাড়া নিয়ে কোনও প্যাসেঞ্জারের সঙ্গে কিচাইন করে না। ব্যাঙের পেচ্ছাপের মতো অথবা সত্যিই খুব বৃষ্টি হয়ে রাস্তায় জল জমে গেলেও প্যাসেঞ্জারকে ভাড়া বেশি লাগবে কিংবা যাবো না বলে না। কিন্তু রাত্তির আটটার পর ও যখন রেললাইনের ধারে মেথর পট্টিতে ঢোকে, তখন থেকেই [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<script type="text/javascript">disableSelection(document.body)</script><p><br />
<a href="#scribd"><img style="width: 401px; height: 35px;" alt="see scribd embed" align="left" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/11/bangla6.png"></a></p>
<p> &nbsp;<br />
&nbsp;
</p>
<div style="text-align: center; color: #A52A2A; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large; font-weight:bold;">
বোঁদে
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: center; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large;">
বিনোদ ঘোষাল
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: justify; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:medium; text-indent:50px;">
রাত্তির হলে বারীন পালটে যায়। এমনিতে দিব্যি সারাদিন হাসিমুখে রিক্সা টানে। ভাড়া নিয়ে কোনও প্যাসেঞ্জারের সঙ্গে কিচাইন করে না। ব্যাঙের পেচ্ছাপের মতো অথবা সত্যিই খুব বৃষ্টি হয়ে রাস্তায় জল জমে গেলেও প্যাসেঞ্জারকে ভাড়া বেশি লাগবে কিংবা যাবো না বলে না। কিন্তু রাত্তির আটটার পর ও যখন রেললাইনের ধারে মেথর পট্টিতে ঢোকে, তখন থেকেই সারাদিনের বারীন পাল্টাতে শুরু করে। কচির ঝুপড়ির সামনে ব্যারেলে ভরা সাদাটে ঘোলা রঙের অমৃত ঝরতে থাকে মাটির খড়াই’গুলোর ওপর। সঙ্গে পেঁয়াজ আর বোঁটকা তেলের গন্ধওয়ালা ডালমুট। কখনো আরেকটু পকেট নরম করলে ঝাল ঝাল শুয়োরের মাংস। মাঝমধ্যে কচির বৌটাও আসে খড়াই ভর্তি করতে। উহহ দেখে কে বলবে মাইরি মেথরের বৌ! রোজ সকালে ঝ্যাঁটা-বালতি হাতে নিয়ে কচির সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গু পরিস্কার করে। শালাহ বডি! পাঁচ-ছটা নেন্ডি-গেন্ডি বার করার পরেও হেইস্যা টাইট বুক, পিঠের দিকে ব্লাউজের ঠিক নিচুটায় যে দুটো সোহাগী চর্বির ভাঁজ আছে, হ্যারিকেনের আলোয় ঘামে ভেজা খয়েরি রঙের শরীলটায় ওই ভাঁজদুটো ইলিশ মাছের মতো চকচক করে। ওখানে নিজের মুখটা ডলতে ইচ্ছে করে বারীনের। ভাবলেই গোটা শরীর কেঁপে ওঠে&#8230;। কিন্তু কিস্যু করার নেই। কচি যা খতরনাক চিজ! একবার কে যেন ওর বউ এর হাত না কী ধরে ছিল নেশার ঘোরে। কচি পুরো এক ব্যারেল চুল্লু গায়ে ঢেলে জ্বালিয়ে দিয়েছিল মালটাকে। ধুসস&#8230; একেবারে গলা দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা পর্যন্ত এক নিঃশ্বাসে বারীন ঢোঁক মারতে থকে খড়াইতে।</p>
<p>	প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ আসর ভাঙার পর ও রিক্সা নিয়ে সোজা চলে আসে শিবুর মিষ্টির দোকানে। দোকানের শাটার তখন হাফ নামানো হয়ে যায়। বারীন নিচু হয়ে দোকানে ঢুকে রেলাসে একটা দু’টাকার কয়েন বাড়িয়ে দেয়। দোকানে শোকেসের ওপর কাঠের বারকোশে সাদা চিকচিক কাগজে চাপা দেওয়া বোঁদে একচামচ ঠোঙায় ভরে এগিয়ে দেয় শিবু। রোজের ব্যাপার, তাই কোনও কথার প্রয়োজন হয় না। এই বোঁদের নেশাটা বারীনের অনেক দিনের। সারাদিন কুত্তার মত খাটার পর বাড়ি গিয়ে শালা ঐ শুকনো রুটি আর কালচে আলুর চচ্চড়ি গলা দিয়ে নামে? হারামী বৌটা মাঝে মধ্যে একটু পরোটা-টরোটাও বানাতে পারে না। এই বোঁদেটুকুই তাই বারীনের সব। পাতে ঢালা বোঁদের ওপর স্রেফ তাকিয়ে ওই চিমসে রুটি আর ছ্যাকরা আলুর চচ্চড়িটা প্রায় গিলে মেরে দেয় ও। তারপর তারিয়ে তারিয়ে বোঁদেগুলো খেতে থাকে। ছেলেদুটো ঘুমিয়ে না পড়লে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে বোঁদের ওপর। তখন বারীন ওদের চোখে শুধু বাপ নয়, রাজা। কখনো হঠাৎ কৃপা হয়ে গেলে বারীন ওদের দিকে একটু বাড়িয়ে দেয়। বেশি না, খুব জোর দু-চার দানা। ছোটটা আবার আহ্লাদে খাবি খেয়ে বলে ওঠে, আমি লাল গুলো খাব। বারীন পেল্লায় ধমক দেয়। ধ্যার গাধা কা বাচ্চা, লাল হলুদ স-ব সম..মান। যা দিচ্ছি, খা। আর টেমপার ঠিক না থাকলে চিৎকার দিয়ে বলে, হ্যাট্‌ শালাহ&#8230; ভিকিরির বাচ্চা&#8230; ঘুমো বলছি! &#8230;যত্ত শুয়োরের পাল এখেনে জুটেছে&#8230;! মুখ যত ছুটতে থাকে পাতের বোঁদেও শেষ হয়ে আসতে থাকে। খিস্তি থেকে গৌরীও বাদ যায় না। বাচ্চা দুটো ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে যায়, তারপর চোখ বুজে শুয়ে পড়ে। প্রায় রোজই এমন ঘটনা। তবু ছোট দুটোর ভয় পাওয়াটা এখনও অভ্যাস হয় নি কেন কে জানে? বাচ্চাদুটো শুয়ে পড়লে তখন বারীন গৌরীকে আছাড় দিতে শুরু করে। একেবারে বিছানায় শোয়া পর্যন্ত। গৌরী অদ্ভুত চুপ। হ্যারিকেনের হলুদ আলোটা ছোট্ট নীল রঙের বিন্দু করে দেওয়ার পরেও বারীন বিরামহীন। &#8230;শাল্লা এইতো চামচিকের মতন চেহারা&#8230; ছাগলের নাদির মতন বুক &#8230; দেখগে কচির বৌকে। ফিগার কাকে বলে। &#8230;শালাহ, এত্ত গেলাই তব্বু পিঠে ভাঁজ পড়েনা! ওপাশ ফিরে গৌরী শুধু সময় গুনতে থাকে। তারপর গলার ঝাঁঝটা ঢাল বেয়ে নামতে শুরু করে বারীনের। নামতে নামতে শেষে একেবারে ভিজে ন্যাতার মত হয়ে যায়। &#8230;জানিই তো কিস্যু করতে পারি না তোদের জন্য&#8230; কী করব শালাহ&#8230; ঢ্যামনার কপাল&#8230;।</p>
<p>	সময় শুরু হয়ে গেছে বুঝে গৌরী তখন আস্তে আস্তে বারীনের কাছে ঘেঁষে শোয়। ওর হাপরের মত বুকে হাত রাখে আলতো করে। বারীন ডুকরে বলে ওঠে, কালকে পরোটা বানাবি। আমি সব্বার জন্য পাঁ-চ টাকার বোঁদে নিয়ে আসব। অন্ধকারে নিঃশব্দে হাসে গৌরী। তারপর বারীন একটানে গৌরীর জামাটা খুলে ফেলে ওর বুকে হাত দেয় আর পাঁজরে লেটকে থাকা শুকনো পিঠে নিজের মুখটা ঘষতে থাকে। আশ্চর্য এক জলে গৌরীর পিঠ ভিজে যায়। &#8230;</p>
<p>	এই রকম রাতটা নতুন কিছু নয়। প্রায় রোজই এমন প্রতিজ্ঞা চলে। কিন্তু সেই ‘কালকে’র দিনটা বলে যে কিছু নেই, গৌরী জানে। তবু ও নিশ্চিন্ত আরামে বারীনের বুকের ভেতর ঢুকে পড়ে তখন। ভেতরটা কালীপূজোর রাত্রের মতন আলো আর আলোয় ভর্তি! সবাই জানে রাত্তির হলে বারীন পালটে যায়, কিন্তু শুধু গৌরী জানে অনেক রাত্তিরে বারীন আরো পালটে যায়।
</p></div>
<p><a name="scribd"></a><br />
</p>
<p><a href="http://calcuttans.com/palki/P12-final/secure/05-P12-binodghosal-godyo-secured.pdf"><br />
<img style="width: 127px; height: 41px;" alt="download" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/04/download.png"></a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-binod-ghosal/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>5</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>কাশী’স্‌ (Kashi&#8217;s) &#8211; Story by Debashish Bhattacharya</title>
		<link>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-debashish-bhattacharya/</link>
		<comments>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-debashish-bhattacharya/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Dec 2011 07:54:45 +0000</pubDate>
		<dc:creator>piyasc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Bengali Story/Bangla Golpo]]></category>
		<category><![CDATA[Palki 12]]></category>
		<category><![CDATA[Debashish Bhattacharya]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://calcuttans.com/palki/?p=4419</guid>
		<description><![CDATA[
 &#160;
&#160;


কাশী’স্‌

&#160;

দেবাশিস ভট্টাচার্য্য

&#160;

প্রত্যেকেরই জীবনে কিছু কথা থাকে যা সত্যি না বলে রূপকথা বলাই ভাল। সে অনেকদিন আগের কথা – বছরটা খেয়াল নেই, আমার পশ্চিমবাংলা ছেড়ে স্বপ্ননগরী মুম্বাই যাত্রা – অনেক আশা, আকাঙ্খা, স্বপ্ন নিয়ে। এখনও মনে পড়ে মায়ের সেই করুণ মুখ, সেই কান্না, সেই সাবধানবাণী – বাবু, সাবধানে থাকিস – কথাটার মধ্যে বন্ধনের তীব্রতা যা [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<script type="text/javascript">disableSelection(document.body)</script><p><br />
<a href="#scribd"><img style="width: 401px; height: 35px;" alt="see scribd embed" align="left" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/11/bangla6.png"></a></p>
<p> &nbsp;<br />
&nbsp;
</p>
<div style="text-align: center; color: #A52A2A; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large; font-weight:bold;">
কাশী’স্‌
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: center; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large;">
দেবাশিস ভট্টাচার্য্য
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: justify; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:medium; text-indent:50px;">
প্রত্যেকেরই জীবনে কিছু কথা থাকে যা সত্যি না বলে রূপকথা বলাই ভাল। সে অনেকদিন আগের কথা – বছরটা খেয়াল নেই, আমার পশ্চিমবাংলা ছেড়ে স্বপ্ননগরী মুম্বাই যাত্রা – অনেক আশা, আকাঙ্খা, স্বপ্ন নিয়ে। এখনও মনে পড়ে মায়ের সেই করুণ মুখ, সেই কান্না, সেই সাবধানবাণী – বাবু, সাবধানে থাকিস – কথাটার মধ্যে বন্ধনের তীব্রতা যা এত বছরেও হারিয়ে যায় নি। একেক সময় মনে হয় ওই সাবধানবাণীই বোধহয় হারিয়ে যেতে দেয়নি নানা প্রলোভনের মাঝেও। </p>
<p>আমার অফিস-এর নাম ছিল কাশী ইনফোকম। নামটা কেমন একটা অস্বস্তিকর। কোথায় কাশী, এক ধর্মস্থান, আর কোথায় ইনফোকম – এ যেন দুই মেরুর মিলন! স্মৃতির বেড়াজালে অনেক কিছুই জড়িয়ে রয়েছে; সেই অফিস একমোডেশন – দশ-বারো’টি ছেলের একসাথে ফ্ল্যাটে থাকা, দিনে একদল আর রাতে আরেকদল; কলসেন্টার মাপের অফিস, খোলা তিনশো পঁয়শট্টি দিন, চব্বিশ ঘন্টা; আমার কাজ শুরু হত রাতে, তাই টানা ছ-মাস রাতজাগা দিনগুলো, আরও কত কি।  </p>
<p>কাশী ইনফোকম-এর প্রীতম – সকলে ছোটো করে ডাকত, প্রীত – ছিল একটু মোটাসোটা, গাব্দা-গোব্দা, লম্বা-চওড়া, হাসি-খুশি একটি ছেলে। প্রথম আলাপেই সকলকে আপন করে নেয়। আমার সাথে পরিচয়টাও ভারী অদ্ভুত। ছেলেটি কাজ করত সিস্টেমস-এ, অর্থাৎ আমাদের সকলকে টেক্‌-সাপোর্ট দেওয়া ওর কাজ। এক রাত্তিরে হঠাৎ-ই আমার কাছে এসে হাত বাড়ায়। স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় হাত বাড়াতে গিয়ে দেখি এক বিচিত্র ভঙ্গিমায় হাতটিকে ওপর দিকে তোলে – যেন আমার দিকে হাত মেলানোর জন্য বাড়ায়ইনি। অপ্রস্তুত হয়ে হাতটা নামাতেই জড়িয়ে ধরে। নিমেষের মধ্যে আমার সব জড়তা, বাধা কোথায় উধাও হয়ে যায়।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> আমার পাশে বসত একটি শান্ত-শিষ্ট কেরালিয়ান ছেলে। সে হেসে বলে – হি ইস লাইক দ্যাট ওনলি‌, বাট ভেরি পিয়র অফ হার্ট। সত্যিই ওর হাসির নির্মলতা সব গ্লানি মুছিয়ে দিত।<br />
এ অফিসে আরোও কিছু চরিত্র ছিল যা আমায় খুব টানত। তারমধ্যে বিশেষ নজর কাড়ত ভীষণ শান্ত, কম কথা বলা, লাজুক এক যুবক। সারাদিনই যেন অন্য দুনিয়াই বাস করছে। সে ছিল সকলের জীতুয়া। জীতেন্দর থেকে জীতুয়া কখন হয়ে গেছিল তা সে নিজেও বোধকরি জানেনা। এই ছেলেটির সাথে প্রীত-এর সম্পর্কটা ছিল দেখার মত – সারা রাত্তির প্রীত ওর পিছনে কাঠি করছে, অথচ ভীষণ শান্তভাবে জীতুয়া তা সামাল দিচ্ছে।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> একদিনের কথাই ধরা যাক – রাত্তিরে টি-ব্রেক। সকলেই অফিসের বাইরে ফাঁকা জায়গাটায় এসে দাড়িয়েছে। জমেছে আড্ডা। প্রীত প্রতিদিনের মতই ফুল ফর্ম-এ। কেউ বসেছে সিঁড়িতে, কেউ বা বাইকের ওপর। জীতুয়া চায়ের কাপটি নিয়ে এসে দাঁড়ায়। নিমেষের মধ্যে প্রীত ও আরেকটি ছেলের দৃষ্টিবিনিময় হয় যা আমার চোখ এড়ায়নি। জীতুয়া যেই একটি সিগারেট পকেট থেকে বার করে প্রীত ভাল মুখ করে বলে – ছোড় না তেরা ওহ্‌ ছোটা সিগ্রেট; বড়া সিগ্রেট পী।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> কিছু না ভেবেই হাত বাড়ায় জীতুয়া। খানিকবাদে শুরু হয় কাশি। কেউই ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারেনি শুধু দুজন ছাড়া; অবশ্য আরো একজন উপলব্ধি করেছিল নীরবে। পরে প্রীতকে চেপে ধরাতে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়। সিগারেটের ফিল্টারটি খুলে গুঁড়োলঙ্কার মশলা সামান্য একটু মিশিয়ে ছিল। যাইহোক, এইসব হাসি-মজা, দুষ্টুমি ও কাজ নিয়েই সকলের কাজের রাতগুলি কাটছিল। </p>
<p>এই অফিসের বিশেষ একটি দিক – মাসকাবারি বেতনের কোনও নির্দিষ্ট দিন ছিল না; প্রতি মাসই প্রায় একমাস পেছনে চলত। সে সময়ে রাত্তিরের অফিস হোত দেখার মত। এ বলে কাজ করব না, ও বলে কাজ করব না। চারিদিকে একটা বিদ্রোহের ছায়া। মাঝেমাঝে মনে হোত এত অসুবিধে নিয়ে মানুষগুলো এ জায়গায় পড়ে থাকে কেন। একান্তে সকলের সাথে কথা বলে বুঝেছি – ওখানে তাদেরই স্থান যাদের আর কোনও পথ নেই; প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু বাধা আছে, যা তাদেরকে পরবর্তী গন্তব্যর দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে আটকে রেখেছে। আরেক প্রজাতির জীবও ওখানে কাজ করে, যা দেখার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে – যাদের কাজ না করে গল্প করাটাই কাজ। প্রথমে একটু অবাক হয়ে ভাবতাম – এত বড় অফিস, বড় এস্টাব্লিশমেন্ট – কি করে চলছে? </p>
<p>সাতপাঁচ চিন্তা-ভাবনা নিয়েই আমার অফিস-জীবন যথারীতি এগিয়ে চলে; বাড়ে প্রীতমের সাথে ঘনিষ্ঠতাও। এক রাত্তিরে কাজে বসেছি, হঠাৎ প্রীত এসে হাজির। কিছু না বলে চোখের ইশারায় ডেকে নিয়ে যায় ওর রুমে। দেখি আরও চারজন সিস্টেমস্‌-এ বসে। রুম-এর মধ্যে মেশিনের শব্দ, চারিদিকে ছড়ানো-ছেটানো অগোছাল ভাবটা দেখে বিরক্ত হয়েই বলি – কেয়া হুয়া?<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> ভালভাবে খেয়াল করে দেখি, যেন এক উগ্র উদ্যম কাজ করে চলেছে ওদের ক’জনের ভিতর। প্রীত উঠে একটা প্যাকেট নিয়ে আসে, খুলে টেবিলের ওপর রাখে। কয়েকটি পাঁচশো ও একশো টাকার মেশানো বান্ডিল। কিছু না বুঝে প্রীত-এর দিকে নজর পড়তেই বলে – দাদা, পঁচাস হজার হ্যায়। কুছ ধন্দা বতাও না।</p>
<p>মুখ দিয়ে হঠাৎই বেরিয়ে যায় – মচ্ছিকা ধন্দা করো। আর একটাও বাক্য বিনিময় না করে পা বাড়াই।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> এরপর কেটে গেছে বেশ কিছুদিন। প্রত্যেকদিনই রাত্রে অফিস করি আর সকাল হলে ফিরে যাই নিজের ডেরায়। ওদের দিকে চোখ পড়ে কিন্তু কিছু বলি না। চারজনের চোখের দিকে তাকালে এক উদ্দীপনা নজরে পড়ে। অযথা কৌতূহলী হওয়া আমার স্বভাববিরুদ্ধ বলে প্রশ্ন করি না। </p>
<p>প্রায় মাসখানেক পর প্রীত একদিন ডাক দেয় – দাদা। স্নেহবশতই চেয়ার টেনে বসতে বলি। উদ্দেশ্য একটাই, সেদিনের ঘটনার পিছনে লুকিয়ে থাকা প্রশ্নের উত্তর খোঁজা।<br />
প্রীত না বসে পাল্টা বলে – কল সুবহ আপসে কাম হ্যায়। আপকো চলনা হোগা মেরে সাথ।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> চোখটা একটু বড় করি প্রশ্নাত্মক ভঙ্গীতে। উত্তর না দিয়ে একটু হেসে প্রীত চলে যায়। ওর হাঁটার ভঙ্গির মধ্যে তফাত ধরা পড়ে।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> পরদিন দুপুর বারোটায় প্রীত হাজির। এসেই শুরু হল পুরোন প্রীত-এর হাসি-মজা। ভারি ভাল লাগল ওর হাসি-খুশি নির্মল মুখটা। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বেরোই ওর সাথে। বেশ কিছুটা এসে বুঝি আমরা ঢুকছি কোন এক অফিস পাড়ায়, বাইকটা সোজা এনে দাঁড় করায় এক মাঝারি মাপের ভ্যানের সামনে। তখনও বুঝিনি আমার জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে এক চমক, ভ্যানটির পিছনেই। এগিয়ে দেখি অধীর অপেক্ষায় রয়েছে বাকিরা। অবাক কাণ্ড! চারজনে মিলে খুলেছে মোবাইল ফিশ শপ। নামটাও ভারী সুন্দর – কাশী’স্‌।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> শুরু হোল আমার প্রশ্নের পর প্রশ্ন। শেষে বুঝলাম, প্রায় বিরক্ত হয়ে বলা কথাটায় গুরুত্ব দিয়ে, ওরা খুলেছে মাছের দোকান। গাড়িটা নিয়েছে ভাড়ায়। শিশুর মত আগ্রহে সব দেখছিলাম। সুন্দর ডেকোরেট করে রাখা মাছের বিভিন্ন প্রিপারেশ‌ন। কাস্টমার এলেই তৎক্ষণাৎ রেডি করে সার্ভ। দিনের শেষে সব দেওয়া-নেওয়ার পর থাকে প্রায় হাজার খানেক টাকা। প্রীত বলে – কেয়া দাদা, ঠিক হ্যায় না?<br />
উত্তর দেওয়ার ভাষা সে মুহূর্তে আর ছিল না। শুধু বুঝলাম, কিছু করার তাগিদ ওদের এগিয়ে নিয়ে চলেছে। সত্যিই এ জগৎ সংসারের রহস্য বোঝা ভার। কখন কোথায় তা বাঁক নেয় কেউ জানেনা।<br />
প্রশ্ন করি – রাতকা অফিস?<br />
উত্তর আসে – দো দো করকে সমহালতে হ্যায়। এক কথায় মনের সব দ্বিধা কেটে যায়। বিশ্বাস আসে ওদের ওপর। খুশি মনে বিদায় নিই ওদের কাছ থেকে। </p>
<p>সময় তার নিজস্ব নিয়মেই এগিয়ে চলে। এগিয়ে চলে প্রীতদের ব্যবসা ও আমার অফিস জীবনও। অগোছালো কাশী ইনফোকম-এর জীবন থেকে বেরিয়ে নতুন অফিসে জয়েন করেছি; কেটে গেছে প্রায় বছরখানেক, হয়েছি আরও ব্যস্ত, থাকার জায়গারও পরিবর্তন হয়েছে। কর্মব্যস্ততার মাঝে প্রায় ভুলতেই বসেছি ওদের কথা। একদিন নতুন ফ্ল্যাট-এ ঢোকার মুখে দেখি প্রীত দাঁড়িয়ে। তাড়াতাড়ি ওকে নিয়ে ওপরে যাই। চেহারা দেখে তো মনে হয় ভালই আছে। ফ্ল্যাটে ঢুকে শুরু হয় নানা কথা।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> শেষে প্রীত জানায় তার আসার উদ্দেশ্য। ব্যাপারটা শুনে বুঝি প্রীত-এর ভেতরটা রয়েছে একই রকম। ওরা চারজন অফিস ছেড়ে দিয়েছে। ঐ অফিস থেকেই জোগাড় করেছে আরও দশটি ছেলে। শুরু হয়েছে আরও চারটে মোবাইল ফিশ শপ্‌। একটি নতুন দোকান কিনেছে, শুরু হচ্ছে একটি স্থায়ী কাউন্টার। তারই নিমন্ত্রণ নিয়ে হাজির প্রীত।<br />
<img style="width: 50px; height: 1px; float:left;" src="http://calcuttans.com/palki/P12-final/filler.png"> মোবাইল ফিশ শপ্‌-এর ধার ও ভার বাড়া নিয়ে কোনও সন্দেহ রইল না আর। প্রীত জানায়, জীতুয়া যোগ দেওয়ার পর থেকে ব্যবসার অনেক শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে। একে একে এসেছে সবাই। কাউকেই জোর করে আনা হয়নি। স্বেচ্ছায় শ্রম ও অর্থের জোগানে এগিয়ে চলেছে কাশী’স্‌।</p>
<p>কথার মাঝেখানেই ওকে থামাই, বলি – বিয়েটা?<br />
এবার প্রীত লজ্জা পেয়ে যায়। অনেক চাপাচাপির পর একটি মেয়ের কথা বলে, নাম – নেহা। নামটা শুনে চোখটা একটু ছোট হতেই প্রীত হেসে বলে – হাঁ&#8230; হাঁ দাদা, যো আপ সোচ রহে হো, ওহি সচ হ্যায়। হমারি অফিস কি নেহা। য়ে সব উনহি‌ কি চক্কর হ্যায়।<br />
নেহা-ই নাকি জোর করে প্রীতকে আমার সাথে কথা বলতে বলে। আর আমার উত্তর শোনার পর বলেছিল – ওহি সহি, শুরু তো কর্‌।</p>
<p>প্রীত-এর কথা আর যেন প্রায় কিছুই কানে যাচ্ছে না; শুধু মনে পড়ছে অফিসের সেই প্রথম দিনটি। মেজনাইন ফ্লোর-এ এডমিন্‌-এর অফিস। অফিসের জয়েনিং-এর সব কাগজপত্রের কাজ সেরে বসে আছি এম.ডি.’র সাথে দেখা করব বলে। চুপ করে বসে দেখছি সকলকে। বার বার চোখ যাচ্ছে দূরে বসে থাকা কর্মরতা মেয়েটির দিকে। মাঝারি মাপের চেহারা, স্টেপকাট চুল, নীল জিনস্‌, ও গোলাপী ঘাঘরার মত টপটিতে লাগছে বেশ। নিজের খেয়ালে আমার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো কম্পিউটারে এন্ট্রি করে চলেছে। টেবিলের ঠিক ওপরেই এ.সি.-র ডাক্টটা থাকায় চুলগুলো হাওয়ায় একটু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটি চেয়ার ঘুরিয়ে আমার দিকে ফেরে – দাদা, আপকা কোয়ালিফিকেশন কে সাথ বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ফিট নেহি হ্যায়।<br />
মুঁচকি হেসে বলি- কিঁউ?<br />
পালটা হেসে, পেনটা ঠোঁটে লাগিয়ে এক গভীর দৃষ্টি নিয়ে বলে – পতা নেহি।<br />
চোখের সামনে হাত নাড়া দেখে হুঁস ফেরে। প্রীত বলে – পর্দার আড়ালে সেই ব্যবসার পরামর্শদাত্রী।</p>
<p>সময় গড়িয়েছে। স্থায়ী দোকানের উদ্বোধনে গেছি। যোগাযোগগুলো আরও বেড়েছে। বেড়েছে প্রীত-এর যাতায়াতও। একদিন অফিসে হাজির। পিক্‌ আপ করে নিয়ে যায় সেই পুরোনো অফিস পাড়ায়। চা-এর দোকানের সামনে বাইকটা দাঁড় করিয়ে বলে – এক রিকোয়েষ্ট থা।<br />
- ক্যায়া?<br />
- মেরা এক দোস্তকো ধন্দা করনা হ্যায়। আপ বোল দিজিয়ে না কৈসে শুরু করেঁ।</p>
<p>আমি কিছুতেই প্রীতকে বোঝাতে পারিনা যে ওটা না ভেবে বলা কথা। খানিক প্রায় জোর করেই বন্ধুকে এনে হাজির করে আমার কাছে। সেই শুরু&#8230;<br />
আরবসাগরের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে অনেক ঝড়। পেরিয়েছে প্রায় দশ বছর। প্রীত-দের ব্যবসা বেড়ে এখন অনেকটাই বড়। পুরো মুম্বাই জুড়ে ফিশ শপ্‌-এর চেইন। তৈরি হয়েছে ব্র্যান্ড। নাম রয়ে গেছে সেই কাশী’স্‌।</p>
<p>আর আমার?<br />
করতে এসেছিলাম চাকরি, প্রীত-এর বন্ধুদের সাহায্য করতে করতে কখন হয়ে গেছি বিজনেস্‌ কনসালটেন্ট, তা নিজেও টের পাই নি।
</p></div>
<p><a name="scribd"></a><br />
</p>
<p><a href="http://calcuttans.com/palki/P12-final/secure/06-P12-debashishbhattacharya-godyo-secured.pdf"><br />
<img style="width: 127px; height: 41px;" alt="download" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/04/download.png"></a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-debashish-bhattacharya/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>4</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>একদিন হঠাৎ (Ekdin Hathat) &#8211; Story by Himadri Banerjee</title>
		<link>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-himadri-banerjee/</link>
		<comments>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-himadri-banerjee/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Dec 2011 07:54:29 +0000</pubDate>
		<dc:creator>piyasc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Bengali Story/Bangla Golpo]]></category>
		<category><![CDATA[Palki 12]]></category>
		<category><![CDATA[Himadri Banerjee]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://calcuttans.com/palki/?p=4429</guid>
		<description><![CDATA[
 &#160;
&#160;


একদিন হঠাৎ

&#160;

হিমাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায়

&#160;

মাথায় হেনা লাগিয়ে বসেছিল মৈথেলি। আজকে উইক অফ। এই উইক অফ’টাতেই ও একটু রূপচর্চা করে। রূপচর্চা মানে একটু চুলের যত্ন, একটু মুখের ত্বক দেখাশুনো, একটু নখ শেপ করা। এমনিতে তো সময় হয় না। টেকনোপলিসের ব্যাক অফিসে আছে ও। বিরাট ওয়ার্ক লোড। শুধু অফিসে কাজ করলেই হয় না। ল্যাপটপ-এ বাড়িতে বসেও অনেক কাজ [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<script type="text/javascript">disableSelection(document.body)</script><p><br />
<a href="#scribd"><img style="width: 401px; height: 35px;" alt="see scribd embed" align="left" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/11/bangla6.png"></a></p>
<p> &nbsp;<br />
&nbsp;
</p>
<div style="text-align: center; color: #A52A2A; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large; font-weight:bold;">
একদিন হঠাৎ
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: center; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large;">
হিমাদ্রি বন্দ্যোপাধ্যায়
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: justify; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:medium; text-indent:50px;">
মাথায় হেনা লাগিয়ে বসেছিল মৈথেলি। আজকে উইক অফ। এই উইক অফ’টাতেই ও একটু রূপচর্চা করে। রূপচর্চা মানে একটু চুলের যত্ন, একটু মুখের ত্বক দেখাশুনো, একটু নখ শেপ করা। এমনিতে তো সময় হয় না। টেকনোপলিসের ব্যাক অফিসে আছে ও। বিরাট ওয়ার্ক লোড। শুধু অফিসে কাজ করলেই হয় না। ল্যাপটপ-এ বাড়িতে বসেও অনেক কাজ আপডেট করতে হয়। এদিকে বাড়িতে বাবা শয্যাশায়ী। জোর করে কোম্পানি থেকে ভলান্টারী রিটায়ারমেন্ট করিয়ে দেবার আঘাতটা মেনে নিতে না পারায় একটা সেরিব্রাল এ্যটাক বাবাকে বিছানায় ফেলে দিয়েছে। আজ মৈথেলির মা’কে গোটা ভেতরটা আর ওকে বাইরেটা সামলাতে হয়। যে টাকা বাবা পেয়েছে, তা ব্যাঙ্কে ফিক্সড করলেও তো ভিক্ষা। তাই মৈথেলি’কে বাবা’র অমত সত্ত্বেও বাড়ি থেকে বেরোতে হয়েছে। ও অফিসে বেরিয়ে যায় সকাল সাতটায়। তারপর থেকে সে-ই মা। সংসার সামলায়, বাবাকে সামলায়, কিন্তু মুখে রা-টি কাটে না। মানুষ যে নিতান্ত আপনজনকেও শুশ্রূষা করতে করতে এক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তা যেন মা’কে দেখে বুঝতে পারে মৈথেলি। ক্লান্ত হয়ে মেয়ে বাড়ি ফেরে, তাকেও দেখতে হয় সেই মা’কেই। মৈথেলির কিছু করারও নেই। অনেকবার ভেবেছে, চাকরীটা ছেড়ে মা’র পাশে থাকবে। তবে মা একটু সঙ্গী পায়। মা-টা আর পারেনা এই বয়সে। কিন্তু ভয় হয়। এ্যাতোগুলো টাকা মাইনে! মা’র যদি কিছু হয়ে যায়, তবে অন্তত বাড়িতে কাজের লোক, নার্স বা অন্য কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে গেলে টাকা চাই। বাবার জমানো টাকাতে সারা জীবনটা চলবে না, চলতে পারে না। তাই বিয়ে-টিয়ে করার কথা ভাবতে পারে না মৈথেলি। একগাদা রূপ নিয়েও মৈথেলি আইবুড়ি। অবশ্য ওর হাবভাব দেখে কোন ছেলে ওর আইবুড়িত্ব ঘোচাতে ধারে-কাছে ঘেঁষে না। ঘেঁষাই সার হবে। ঘেঁষাঘেঁষি তো হবে না। হতে পারে না। বাবা বা মা ছেড়ে ওর পক্ষে চলে যাওয়া সম্ভব নয়।</p>
<p>	মৈথেলি কালকেও রাত তিনটে পর্যন্ত ল্যাপটপ-এ কাজ করেছে। মনে মনে ভেবেছে, কাল তো উইক অফ। বেশ করে স্নান-টান করে খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে নেবে ঘণ্টা বারো। তাই-ই করে ও। কিন্তু&#8230;। ভাবলেই তো হয় না। ভাগ্য চাই। ঘুম তো হলই না, মা’কে নিয়ে বেরোতে হোল। বাবা বলল,<br />
	- যা না, মা’কে একটু রেখেই আয় না। সারাটা দিন না হয় এখানে সাধনা থাকবে। অবশ্য না থাকলেও তেমন কিছু হবে না। রান্না তো করেই যাবি। আমি তো চলতে-টলতে পারি, না কি! ম্যানেজ করে নেব’খন।<br />
	- তুমি বেশি পাকামো করো না তো। চুপ করে চা-টা খাও। আমরা বড়রা বুঝবো, কী করতে হবে। </p>
<p>	মেয়ের রসিকতায় বাবা চুপ করে। বাবার শরীরটা এমন খারাপ হওয়া ইস্তক মেয়ে এমনটাই বলে। এটুকুই তো জীবন। মেয়ে আর তার মায়ের সাথে একটু রঙ্গ-রসিকতা। এটা তো ছাড়া যায় না। মেয়ে-ও তাই শিখেছে। ‘আমরা বড়রা’ মানে মেয়ে, ও নিজে, ওর মা আর কাজের লোক সাধনা। মাঝে মাঝে সাধনাকে বললে সন্ধ্যে পর্যন্ত সে এ বাড়িতে কাটিয়ে দেয়। অন্তত টিভি-টা তো দেখতে পারে প্রাণ ঢেলে। সেই প্রস্তাব-টাই বাবা দিয়েছে। কিন্তু মেয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছে। অবশ্য পরে সেই প্রস্তাবটাই মানতে হোল ওদেরকে। তবে একটু অধিকন্তু চাপিয়ে নিয়ে। মা যে-কটা দিন বড়মামার বাড়িতে থাকবে, ততদিন দু’বেলাই খাবার আসবে হোম ডেলিভারি থেকে। আর সে-ই সাধনা অন্য কাজ সেরে-টেরে এ বাড়িতে সন্ধ্যে পর্যন্ত কাটাবে। ওর খাওয়াটাও আসবে হোম ডেলিভারি থেকে। মৈথেলি ফিরে আসে সন্ধ্যে সাত-টার মধ্যে। তখন সাধনা চলে যাবে। ক’টা মাত্র দিন। মা ফিরে এলেই সাধনা যেমন কাজ করে চলে যায়, তেমনই যাবে। </p>
<p>	মা’কে যেতেই হচ্ছে বড়মামার বাড়ি। বাবা-ই জোর করল। সত্যি-ই তো। যাওয়া তো উচিত। দিদুনের বয়স হয়েছে। তার ওপর এটা থার্ড-বার এ্যাটাক। যদি সারভাইভ না করে? তবে মা’র মনে একটা খিঁচ সারা জীবনের জন্যে ধরে থাকবে। তাছাড়া একটা মানসিক উচাটন নিয়ে তো কাজও করা যায় না। নানা ভুলভাল হবে, চোখের জল ফেলবে, বাবা নিজেকে অপরাধী মনে ক’রবে। তাই বাবা-ই বলল,<br />
	- যা না। মা’কে রেখে আয় না। তুই তো আছিস। কী আর হবে! </p>
<p>	মৈথেলি জানে, মা’র বিরাট দুর্বলতা মা’র বাপের বাড়ি। সেখানে কারোর এ্যাতোটুকু কিছু হলে মা অস্থির দারুণ হয়। বাবা-ও জানে। তাই এ্যাতো কথা বাবা বলছে।<br />
	মাথায় হেনা মেখে বসেছিল তো এসব জানার আগে। ল্যাপটপ ছিল ল্যাপ-এ। ন-আঙুল চলছিলো ঝড়ের বেগে। কাল রাতে পুরোটা সারতে পারেনি। একটু বাকি ছিল। সেটাকে সবে কমপ্লিট করেছে, বেজে উঠলো ‘আমার রাত পোহালো&#8230;’। এটা মৈথেলির রিং-টোন। কানে ধরতেই, বড়মামা। </p>
<p>	- মিতু, তোর মা কোথায় রে?<br />
	- কেন, বড়মামা?<br />
	- আস্তে কথা বল। মা কোথায়?<br />
	- মা তো কিচেনে। কেন? বলো না।<br />
	- আরে, বলবো বলেই তো ফোনটা করলাম। কিন্তু দিদিকে বলা যাবে না।<br />
	ফিসফিস করে মৈথেলি বলে, ‘কী হয়েছে গো, বড়মামা? দিদুন ক্যামন আছে? ভালো তো?’<br />
	- না। সকালে একটা এ্যাটাক হয়েছে। তাই তোকে জানালাম। তোর মা’কে বললে তো জানিস&#8230;। তুই তো এখন বেরোবি অফিসে। ফেরার পথে একবার ঘুরে যাস। তা হলেই হবে। তোর মা’র কাছে দোষ কেটে যাবে।<br />
	- না। আমার তো আজ উইক অফ। কিন্তু বড়মামা, মা’কে আদৌ না বলাটা কী ভালো হবে? তার মা বলে কথা। তুমি তো জানো সবই। আমি দেখছি, কী করা যায়।<br />
	- দ্যাখ, যেটা ভালো বুঝিস। কিন্তু সাবধানে।<br />
	- দিদুন কোথায় এখন? নার্সিংহোম-এ কি?<br />
	- হ্যাঁ।<br />
	- তুমি ভেবো না। দেখছি, কোনটা সুবিধে হয়। </p>
<p>	ফোনটা কেটে মনে মনে একটা গৎ আওড়ে নেয় মৈথেলি। মা’কে কী ব’লবে, কেমন কায়দায় বলবে। এই কারণেই বাড়িতে গোটা সিস্টেম পালটে ফেলতে হোল। মা কিন্তু সব শুনে-টুনে তেমন কোন রি-এ্যাকশন দেখালো না। শুধু তার যাওয়া পাকা হতে একবার মেয়েকে বলল,<br />
	- তুই অফিস সামলে এসব পারবি?<br />
	কিন্তু মেয়ের চোখ পাকানোতে মা-ও চুপ করে যায় বাবার মতো। </p>
<p>	মা’কে নিয়ে বেরিয়েছে মৈথেলি। তিনটে বেজে গেলো। বাবার খাবার ব্যবস্থাটা করে বাবাকে খাইয়ে-দাইয়ে উঠেছিলো। কিন্তু সাধনা তো তার কাজকর্ম সেরে আসবে। ও না এলে যাওয়া চলে না। এমনকি ও রাজি না হলে আদৌ মা’র যাওয়া হতো না হয়তো। স্টেশনের কাছেই মৈথেলিদের বাড়ি। বড়মামার বাড়ি যেতে ট্রেন ধরতে হয়, শিয়ালদায় নেমে বাস। স্টপেজে নেমে মিনিট ছয়েক হেঁটে বড়মামার বাড়ি। ও অফিস যায় বাস-এ। সোজা এক বাসেই অফিস। নো ঝুট, নে ঝামেলা। এক ঘণ্টার জার্নি। বসার সীট-টিট জুটে যায়। টারমিনাস ওদের বাড়ির সামনেই। ফলে ট্রেনে ওঠা একটা বিরাট বিরক্তিকর ব্যাপার মনে করে মৈথেলি। সেই ভিড়, ঠেসাঠেসি, গাদাগাদি, গায়ের দুর্গন্ধ। এসব বালাই নেই ওর বাসে। যারাই বাসটায় ওঠে, তাদের পকেটে রেস্ত আছে। ভাড়া বেশি। শিয়ালদা থেকে বাস মানে লক্কর-ঝক্কর। চৌতিরিশ-এর বি&#8230; না যেন কত! মাই গড! আজকে মারাই যাবে টেকনোপলিসের একজিকিউটিভ ম্যাডাম মিত্র। মামার বাড়ির সামনে যে রাস্তা, সেটা তো দুঃস্বপ্নের মতো। দোকান-ফোকান কিছু নেই। শুধু গাদা গাদা হকার ফুটপাথ দখল করে বসে আছে। প্লাস্টিক টাঙ্গিয়ে, উনুন জ্বালিয়ে, যমের মতো মাছ কাটার বঁটি খাড়া করে&#8230; সে এক যা তা কাণ্ড। হাঁটার কোন কায়দা নেই। কোনরকমে শরীর একিঁয়ে-বেঁকিয়ে পেরোতে হবে পথটা। বড়মামারা ভাড়া থাকে। বাড়িটা প্রায় তিনশো বছরের পুরনো। দাদুর বাবা ভাড়া নিয়েছিলেন। ভাড়া ছিল তেরো টাকা। মালিক অনেক দয়া ভিক্ষা চাইবার পর আজ তা হয়েছে সাকুল্যে একশো বারো টাকা। আজকাল মালিক ভাড়া নিতে আসেওনা। তার তো গাড়ি ভাড়াও পোষাবে না। সাকুল্যে তিনটে ঘর। কিন্তু স্যাতলা পড়া ছাল ওঠা দেওয়াল, রহস্যময় কড়ি-বড়গার ছাদ। মনে হয়, জোব চারণক-এর আমলের কোন বাড়িতে এসে উঠেছি। কিন্তু যেতে হবে। একটাও কিল খেতে না চাইলেও কেউ যদি ধরে কিল মারে, তবে যে কটা মেরে পারে, তা খেতে হবে। কিচ্ছু করার নেই। আজ অন্তত বছর ঘুরে গেছে, বড়মামার বাড়িতে যায়নি মৈথেলি। </p>
<p>	ট্যাক্সি নেয়ার ক্ষমতা নেই মৈথেলির, তা নয়। কিন্তু ফাঁকা লোকাল ট্রেনটা দাঁড়ানো দেখতে পেয়েই মনে হলো, টাকাটা বাঁচানো যাক। তাহলে মামার হাতে আরো কিছু বেশি টাকা দেওয়া যাবে। তাই টিকিটটা কেটে ট্রেনে উঠেছে। শুরুতে তেমন ভিড়-টিড় ছিল না। কিন্তু দুটো স্টেশন যেতে না যেতে পিলপিল করে মানুষ ছুটে এসে ট্রেনের দরজায় ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগলো। বেলা বাজে তিনটে। এ্যাতো বেলায় এরা সব যায়টা কোথায়! একটু বাড়িতে কি তিষ্ঠোতে পারে না! কী মানুষ রে বাবা! এদের সবার তো বিপদ ঘটেনি। দরজার সামনে একটা ফলওয়ালা তার ঝাঁকাটা ঘটের মতো বসিয়ে রেখেছে আর নিজে কয়েকটা ফল হাতে নিয়ে ভেতরে ডেমো দিতে গেছে। কীভাবে মানুষ উঠবে গাড়িতে! ওর মা না হয় ভেতরে ঢুকে গেছে। শিয়ালদায় নামতে কোন প্রবলেম হবে না। কিন্তু একটা জিনিস অবাক হয়ে দেখছে মৈথেলি&#8230; কেউ তেমন ভ্রূক্ষেপ করছে না। কেউ কিছু বলছে না। তারপর শুরু হোল বাদাম, দাদ, হাঁজা, চুলকানি, লেবু লজেন্স, পেয়ারা, আপেল&#8230; মানে হরেকরকম্বা। এবার এলো সারা গায়ে মোবাইল কভার থেকে শুরু করে সেফটিপিন পর্যন্ত ঝুলিয়ে বিক্রী। তার গা-এ কী আছে, আর কী নেই! তারপর তাদের গা জ্বালানো কণ্ঠে আর কায়দায় হকিং। একেকজন একেকরকম। কী বিরক্তিকর! এরপর একটা রুই-কাতলা-ট্যাংরা-তেলাপিয়া উঠলেই সোনায় সোহাগা। ষোলোকলা পূর্ণ হয়। গোটা বাজারটাকে ট্রেনে এনে তোলা যায়। সত্যি, একটা বিদেশীর কাছে এ দৃশ্য! কী লজ্জা! কী লজ্জা! ভাগ্যিস, এটা ঘোর গ্রীষ্মকাল নয়। যাত্রীরা তো একে অপরের গায়ে ডলাই-মলাই করতে করতে চলেছে। তাতে যদি ঘেমো হতো তো কথাই নেই। কিন্তু সবাই নির্বিকার! মৈথেলি হাঁ করে দ্যাখে, কী অদ্ভুত এ্যাড্যাপটেশন! কী টলারেন্স! সরকার করছেটা কী! এই কি ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম? বসে বসেই অস্থির হয়ে উঠছে ও। দাঁড়িয়ে থাকলে তো হয়তো মেরে-মুরেই দিতো।</p>
<p>	কিন্তু মৈথেলি’র মায়ের কোন হেলদোল নেই। মা একটু চুপচাপ। মেয়ে সবটা খুলে না বললেও নানা চিন্তা হয়তো করছে। মা তার ছোট্ট গণ্ডির বাইরে ভাবতে জানে না। রাজনীতি, অর্থনীতি, বেকারী, গণহত্যা, দুর্নীতি, জঙ্গি&#8230; কিছুই না। আজকে বোধহয় নিজের মা’কে নিয়ে খুব ভাবছে। মা একটু বেশি ভাবে। সত্যিটা বুঝতে পারে না। আরে, তুমি তো ডাক্তার নও। ভেবে-চিন্তে তো কোন স্টেপ নিতে পারবে না। ভাববে, ডাক্তার আর বড়মামা। তাছাড়া তোমার মা-এর বয়স হয়েছে। চলে যাবার বয়স থেকে বেশি। মেনে নাও। বড়মামীরও তো বয়স হয়েছে। সে বেচারি কি পারে এ্যাতো নার্সিং করতে!</p>
<p>	শিয়ালদায় নামতে দেখলো, সেখানেও গিজ গিজ করছে হকার। গোটা প্লাটফর্ম-টা জুড়ে ওদের রাজত্ব। হাজার পসরা সাজিয়ে বসে আছে। সেই যে, ‘আমার এ ছোট্ট ঝুড়ি, এতে রাম-রাবণ আছে&#8230;’। মানুষ এমন করে ডাকছে যেন ওদের থেকে জিনিস-পত্র কিনতেই মানুষ বেরিয়েছে বাড়ি থেকে। ওদিকে স্টেশনে জন-সমুদ্র ঢুকছে-বেরুচ্ছে। মৈথেলিকে এসব পোয়াতে হয় না। ও যায় সেক্টর ফাইভ-এ। সেটা তো ঝাঁ চকচকে করপোরেট পাড়া। ওর অফিস তো কথাই নেই। সরকারি লেভেলের আচ্ছা-আচ্ছা উচ্চপদস্থ কর্মচারীও ওই অফিসে কোন কাজে ঢুকতে দু’বার ভাববে। </p>
<p>	কিন্তু রবিঠাকুর বলেছেন, ‘আজি সবার রঙে রঙ মেলাতে হবে।’ তার মানে, যাত্রীদের সাথে রং-মেলান্তি করতে করতে, গা ঘষতে ঘষতে অগত্যা মা-কে নিয়ে বেরলো স্টেশন থেকে। সামনেই এবার বাস। সেটা ততটা জ্বালালো না। স্টপেজে নেমে সেই কুখ্যাত রাস্তা। এখানে-ওখানে ছড়ানো শালপাতা, পলিথিন, মাছের আঁশ, ফলের আর তরকারির খোসা-ভুতি গড়াগড়ি খাচ্ছে। সেসব ডিঙিয়ে-পেরিয়ে যেতে হবে। ফলে সালোয়ারটা খানিক তুলে নিয়ে ঘিনঘিন করা গা সামলাতে সামলাতে নিজেকে ‘কন্ট্রোল কন্ট্রোল’ বলতে বলতে যখন পৌঁছল বড়মামার বাড়িতে, তখন বিকেল পাঁচটা। সস্তায় জার্নি-র তিন অবস্থা। বড়মামা, ভাই, পঞ্চুমামারা সব গেছে নার্সিং হোম-এ। এখন সেখানে যাবার কোন মানেই হয় না। নার্সিংহোমটা কাছাকাছি নয়। তাছাড়া চেনাও নয়। থাক, এখানেই ডিটেল জেনে নেওয়া যাবে’খন। মা বলল,<br />
	- তুই কিন্তু এখনই চলে যাস না, মিতু। একটু বসে যা।<br />
	- কেন গো?<br />
	- মামারা ফিরুক আগে। অন্তত জেনে যা, দিদুন কেমন আছে। </p>
<p>	সেটা তেমন জরুরি নয়। তবুও মনে মনে ভেবে নেয় মৈথেলি – কত আর রাত হবে! সাতটা, বা আটটা। বসাটা ভদ্রতা। টা নয়তো বাবাও জানতে চাইবে তার শাশুড়ির খবর। তাই মা’কে বলল – সে তো বটেই। এ্যাতোদূর এলাম কেন? </p>
<p>	ল্যাপটপটা তাড়াহুড়োয় আনেনি সাথে। আনলে বসে কিছু কাজ এ্যাডভান্স করে নেওয়া যেতো। ঘুম তো হলনা। শরীরটা বেশ ঝুঁকে আসছে। ক্লান্ত লাগছে। মোটে ঘণ্টা দুয়েক ঘুমিয়েছে রাতে। এতে কি হয়! তাই বড়মামীকে বলে নিজেই চা বানালো, সকলকে দিলো, আর ফ্লাস্কে রেখে নিজে নিলো। যদি ম্যাজমেজে ভাবটা যায়। সোফায় বসে দেখলো, তলাকার তাকে একটা লেডিস ম্যাগাজিন রয়েছে। সেটা উল্টে-পাল্টে দেখে ঝিমুনি ভাবটা কাটাতে চাইলো মৈথেলি।</p>
<p>	এখান থেকে বেরোতে সেই বেজে গেল সাড়ে সাতটা। ভাই বলল – চল দি’ভাই, তোকে এগিয়ে দিয়ে আসি।<br />
	- না না, তুই বাড়িতে থাক। বড়মামী তো দিদুনকে দ্যাখে। তুই একটু তোর মা’কে দ্যাখ। মা কিন্তু ভেঙ্গে পরবে। আমি বেরিয়ে যাবো ঠিক। আমি তো একাই চলি রে, বাবা। </p>
<p>	বেরিয়ে পড়ে শেষে মৈথেলি। কিন্তু রাস্তায় এসে দ্যাখে, একি! গোটা রাস্তা শুনশান। কোন হকার-ফকার কোথাও নেই। সব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। এ্যাতো সকাল সকাল সব গেলো কোথায়! ওদের বিক্রী-বাটা কি মিতে গেলো! এটা কি সম্ভব! তাহলে কি হল্লাগাড়ি আসবে বলে কোন খবর আসতে সব কেটে পড়েছে? ওদের সাথে তো পুলিশের একটা আঁতাত থাকে। আগে থাকতে এসব খবর এসে যায়। ওরাই ভক্ষক, আবার ওরাই তো রক্ষক এদের। সর্বনাশ! এ তো কেউ কোথাও নেই! একটা দমকা হাওয়া যেমন রাস্তায় পড়ে থাকা কাগজের টুকরোগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে যায়, তেমন করে এদেরকে কোথায় নির্বাসন দিয়ে এসেছে! এর আগেও তো এখানে এসেছে ও। রাত অন্তত সাড়ে ন’টা অবধি তো রাস্তাটায় লোকারণ্য থাকে। অবাঞ্ছিত স্পর্শ বাঁচাতে হেলে, গা বেঁকিয়ে-চুরিয়ে পার হ’তে হয়। তা নয়তো যেখানে সেখানে পা পড়ে যাবে, যার-তার গায়ে ধাক্কা লাগবে। কিন্তু এ তো ভালো জ্বালা হোল। এতো রাত দুটো’র রাস্তা! ঈশ্বর যেন ওর প্রার্থনা শুনে একটা পরিষ্কার রাস্তা ওকে উপহার দিয়েছেন। এবারে তো নো ঝুট, নো ঝামেলা। কিন্তু বেশ ভয় ভয় করছে তো! অচেনা অজানা জায়গা। তাই একবার মনে মনে ভাবল মৈথেলি, তাহলে ফিরে গিয়ে ভাইকে সাথে নিয়ে আসবে। ও যদি বাসে তুলে দিয়ে যায়। কিন্তু পরক্ষণেই নারীত্বে লাগলো ওর। কেন? একজন পুরুষকে এভাবে অবলম্বন করতে হবে কেন? ভাই হলেও ও তো পুরুষ বৈ অন্য কিছু নয়। যদি দুম করে কোন অবাঞ্ছিত মন্তব্য করে বসে? থাক। কী আর হবে! একবার পেছনে তাকিয়ে ফেলে আসা রাস্তাটা দেখে নিয়ে একটু সাহসিনীর মতো পা দাবড়ে-দাবড়ে এগিয়ে চলল মৈথেলি। একটু এগিয়েই মনে হোল, কেউ বা কারা যেন ফলো করছে। একটু ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখে নিলো। হ্যাঁ, পেছনে আসছে দুটো লোক। চুপচাপ। সন্দেহজনক নয়, আবার সন্দেহজনক। একটু ভেবে মৈথেলি হাঁটা-টা একটু আস্তে করে দিলো। ওমা! লোকগুলোও তো ওদের গতি আস্তে করেছে! কী কেস? এবারে সাহসে ভর করে সোজা পেছন তাকায় মৈথেলি। মা বলে, ভয় পেলে নাকি এসব হয়। আসলে কেউ নেই, কিন্তু কেউ আছে বলে মনে হয়। কিন্তু কৈ? কেউ তো নেই! খেয়েছে! ভূত-টুত নাকি রে বাবা! বেমালুম উবে গেলো লোকদুটো! এখানে তো কোন গলি-ঘুজি নেই যে, ঢুকে পড়বে। </p>
<p>	ভূত কখনও দ্যাখেনি মৈথেলি। কিন্তু এ দেশের মেয়ে ভূত মানে না, মানে, সে মেয়ে নয়। তাকে বলা হয় – এ মেয়ে তো মেয়ে নয়, দেবতা নিশ্চয়। ফের হাঁটতে গিয়ে গতিটা বেশ বাড়িয়ে নিলো মৈথেলি। হঠাৎই ও আবিষ্কার করলো যে, ওরা দু’জন নয়। এবারে চারজন জোরপায়ে ওকে ফলো করছে। মৈথেলি জানে, ওরা ওর থেকে কিছু নিতে পারবে না। ও সোনা-ফোনা পরে না। আর ব্যাগ-এ তেমন কিছু নেই। অনেকটাই মা’কে দিয়ে এসেছে বড়মামার হাতে দেবে বলে। অন্তত মা তো বড় বোন। তাই আর কোন চান্স না দিয়ে, সময় নষ্ট না করে এবারে দে ছুট। ওই তো বাস স্টপেজ। ওখানে তো লোকজন থাকবে নিশ্চয়ই। দেখলো, হ্যাঁ, আছে। একটা বাস’ও দাঁড়িয়ে আছে। ওদেরই বাস। ধাঁ করে বাসে উঠে তবে নিশ্বাস নিলো মৈথেলি। যাক বাঁচা গেলো। মন বলল, না, তাহলে গোটাটা মনেরই ভুল। ওরা হয়তো নিরীহ মানুষ। বেকার ভয় পাচ্ছিলো।</p>
<p>	শিয়ালদা স্টেশনে এসে দেখলো, আর একটা বিস্ময় ওর জন্যে অপেক্ষা করছিলো। গোটা শিয়ালদা চত্বর-টা খাঁখাঁ। কোন হকার নেই। চাকরীর ফর্মওয়ালা থকে শুরু করে লেবুওলা পর্যন্ত। কেউ নেই। হোলটা কী! প্লাটফর্ম-এর বাইরে নেই, ভেতরে নেই। সিগারেট-বিড়ি তো আগেই উঠেছে। সাজানো-গোছানো একটাও দোকান, এমনকি হুইলারস-গুলো পর্যন্ত নেই। এই তো যাবার সময় দেখে গেলো। এর মধ্যে সব গেলো কোথায়! না হয় নতুন সরকার এসেছে। নানা ম্যাজিক করছে রোজ। করুক। কিন্তু এটা কী! দেশ কি পাল্টে যাচ্ছে দ্রুত? কলকাতাকে তিলোত্তমা করতে সরকার হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। কিন্তু এটা কি সম্ভব! এ্যাত দ্রুত! চারদিকে যদি এরকম নৈঃশব্দ থাকে, তবে তো মহা মুশকিল। না, প্যাসেঞ্জার আছে। তারা নানা ট্রেনে রোজকার মতো উঠছে-নামছে। সেখানে কোন গণ্ডগোল নেই। তবে আজকে ভিড় বেশ বে-এ-শ পাতলা। হঠাৎ মনে পড়লো, ওহো! আজ তো ঈদ ছিল। জেনারেল বা সরকারি ছুটিগুলো মৈথেলিরা ভোগ করতে পারে না বলে মনেও থাকে না, কবে কোন কমন হলিডে। ওদের তো তা নেই। প্লাটফর্ম খুঁজে দেখলো যে, ওর গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। শিডিউল টাইম জানে না ও। জানবার-ই বা কী দরকার! ছাড়বে তো বটে। এবারে তো নিশ্চিন্ত! কিন্তু ট্রেনের মধ্যেও এলো আতঙ্ক। একেই ভীষণরকম পাতলা প্যাসেঞ্জার, আর তার ওপর আজকে তো একটাও হকার-টকার নেই। নো লেবু লজেন্স, নো হরেকরকম পাঁজি-পুঁথি, নো বাদাম, নো সেদ্ধ ডিম। কী কেস রে বাবা! সব গেলো কোথায়? ও লেডিস্‌-এ ওঠেনি। লেডিস্‌ কামরা কোথায় পড়ে, জানেও না মৈথেলি। আজকে অত খোঁজাও যাবে না। গোটা চার নম্বর প্লাটফর্ম-টা ঘুমন্ত সাপের মতো একটু বেঁকে শুয়ে আছে। আরও আগে এগিয়ে যাওয়া যেতো। কিন্তু কেমন যেন অন্ধকার অন্ধকার! বড্ড নির্জন, বড্ড একা একা। একটা নিরাপত্তাহীনতা গ্রাস করছিল ওকে। কবে যেন কে বলেছিল, ‘লেডিস্‌ কামরায় কোনোদিন ভুলেও উঠবি না। সব অসভ্য মহিলা উঠে বেজায় ঝামেলা করতে করতে যায়। মুখ খারাপ করে।’ তাছাড়া আজ যদি জেনারেল-এর এমন হাল হয়, তবে সেখানে তো একটাও মহিলা পাওয়া যাবে না। থাক, বাবা। দরকার নেই মহিলা সঙ্গ করার। পুরুষেরা অতটা অসভ্য হয়ে পারেনি এখনও।</p>
<p>	কিন্তু ট্রেন যখন ছাড়ল, তখন কামরায় সর্বসাকুল্যে গোটা দশেক যাত্রী। ট্রেন-টা ছাড়তে না ছাড়তে-ই গেটের মুখে দাঁড় করানো লোহার রড-টা দক্ষ হাতে ধরে কামরাটায় উঠে পড়লো চারটে লোক। মৈথেলির মনে হোল, এরাই যেন রাস্তার সেই চারটে লোক। ওকে ফলো করতে করতে ট্রেন অবধি এসে উঠেছে। ওই রাস্তায় আলো ছিল বটে। কিন্তু তা সেই কভার দেওয়া টিউব লাইট। তাতে পোকা আটকে পড়ে পড়ে আর মরে মরে তা তো অন্ধকার। অন্ধকারে তো লোক চারটের মুখ দেখতে ভালো দেখতে পায়নি মৈথেলি। এসব নিশ্চয়ই রাজনৈতিক গুণ্ডা নয়। রাজনীতি তো ও করে না। ওদের অফিসে তো কোন ইউনিয়ন-ফিউনিওন নেই। তাহলে শত্রুতাটা কী? ওকে ফলো কেন? ট্রেন ছাড়তেই লোকদুটো হঠাৎ তাদের মাজা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করলো। বেশ পরিষ্কার হওয়া গেল যে, ওরা ডাকাত। ঘড়ি, চেন, মানিব্যাগ, মোবাইল, আংটি, কেড়ে নিতে এসেছে। যেভাবে কলকাতায় হকার তুলে শহর-টাকে তিলোত্তমা বানানো চলছে, তাতে তো লোক এই ব্যবসা ধরবেই। আজকে এমনটাই প্রথম মনে হয় মৈথেলির। ও ভাবে, তা নয় তো ওদের স্ত্রী-সন্তান খাবে কী? যে কটা পুরুষ কামরাটায় বসেছিল, সব চুপচাপ। কোনো রা’টি নেই মুখে। মৈথেলির হাসি পেলো, এরা সব নাকি পুরুষমানুষ। বাড়িতে গিয়ে বউ-এর ওপরে পৌরুষ দেখায়। এখন দ্যাখো, যেন ভ্যাদা মাছ। ভাজা মাছটাও উল্টে খেতে জানে না। এর মধ্যে একটা লোক মৈথেলির কাছে এসে কোন কথা না বলে প্রায় বুকে হাত দেবার মতো করে হাত বাড়িয়ে ওর গলার চেন-টা ধরল।<br />
	- এটা খুলে দেবেন, না টেনে নেবো?<br />
	কাঁপতে কাঁপতে ও বলল &#8211; এটা… না… ইমিটেশন…। আমি… সোনা… পরি না।<br />
	- কেন সোনা পরিস না, শালী?<br />
	বলে এবারে ওর যত্নে ক্রীম মাখা, ফেসিয়াল করা তুলতুলে গালে পড়লো লোকটার হাতে মারা ‘ঠাস’ শব্দ করা একটা চড়। </p>
<p>ব্যস। চড় খেয়ে একটা ঝটকায় চোখ তাকিয়ে দেখলো মৈথেলি, সামনে ওর মামাতো ভাই দাঁড়িয়ে।<br />
	- দিভাই, তুই খুব ক্লান্ত, না? পত্রিকা-টা পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছিলি। ঠাম্মা একটু বেটার রে। তুই এবারে বেরিয়ে যা। বাড়িতে তো পিসেমশাই আছেন। তোকে তো যেতেই হবে। আর রাত করিস না। সাড়ে সাত-টা বাজে। আমি তোর জন্যেই ছুটতে ছুটতে আসছি। আমি তো জানি, তুই খবরটা জেনেই যাবি। চল, তোকে এগিয়ে দিই।<br />
	- থাক। তোরা ক্লান্ত না? আমি পারবো। তোর দি’ভাই কি লবঙ্গ লতিকা নাকি? </p>
<p>	ভাই-কে থামিয়ে দিয়ে এবারে মা-কে ডেকে মা’র হাতে বেশ কিছু টাকা দিয়ে, নিজের চোখেমুখে জলের ঝাঁপটা মেরে বেরিয়ে পড়ে মৈথেলি। বেরবার সময় কাকে উদ্দেশ্য করে যেন প্রণামও করে নেয় একবার। রাস্তায় এসে দেখল, নাঃ, সব ঠিকই তো আছে। চারদিক আলো ঝলমল। লোহার রডে বাল্ব ঝুলিয়ে কত হকার নানা জিনিস বিক্রী করছে। জমজমাট গোটা রাস্তা। দুটো লোক বসে দারুণ দারুণ পারশে মাছ বেচছে। রূপোলি ঝকঝকে মরা মাছ। কিন্তু দেখতে জ্যান্ত জ্যান্ত। পারশে মাছগুলো যেন মৈথেলিকে ডেকে বলল, ‘এই মেয়েটা, ভেলভেলে’টা&#8230; ঝোল খাবি? তো মাছ নিয়ে যা।’ পারশে মাছ প্রিয় মৈথেলি’র। মনটাও দিব্যি ফুরফুরে লাগছে। তাই কোনো অগ্র-পশ্চাৎ না ভেবেই আড়াই শো টাকা দরে কিনে নিলো হাফ কেজি। গোটা রাস্তা-টা যেন নাম-না-জানা উৎসবে মেতেছে। কত দোকান! কত হকার! এখানে কে কাকে ফলো করবে! কার বাবার সাধ্য! এ্যাতগুলো মানুষ আছে না! মেরে তক্তা খসিয়ে দেবে। মাছওয়ালাকে বলল, বড়ভাই, একটু ভালো করে প্যাক করে করবেন? আমি তো ট্রেনে অনেকটা যাবো। কেউ গালাগাল না করে।<br />
	- কোনো চিন্তা নেই, দি’ভাই। আজই কেটে সাইজ করে দারুণ করে দিচ্ছি। আপনি মনেও রাখতে পারবেন না, প্যাকেটে মাছ, না আপেল।<br />
	- আপনি আবার কাটবেন? আপনার তো অনেকটা সময় নষ্ট হবে, ভাই।<br />
	- আপনি দিদি, বোধহয় বাজার-টাজার যাননা, না? এটা আমাদের করতেই হবে। আমাদের কে শুনবে, বলুন?</p>
<p>	মাছটা প্যাক করে নিয়ে হাঁটা দিলো মৈথেলি। গুনগুন করে গানও ধরল, ‘আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ, সুরেরও বাঁধনে&#8230;’ এবারে ছ-খানা হ্যান্ড-রুমাল কিনলো ফুট থেকে। বেশ ভালো। দোকানে কিনলে অনেক দাম নিত। স্টেশনে এসে স্টেশন-এ এসে দেখলো, নাঃ, কলকাতা আছে কলকাতাতেই। কোথাও কোনো চেঞ্জ নেই, কোনো নতুন আইন নেই, কোনো সর্বনাশ ঘটেনি কোথাও। ঠাণ্ডা মাথায় টিকেট-টা কাটল মৈথেলি। ভিড়ে ভিড়াক্কার শিয়ালদা স্টেশন। প্ল্যাটফর্ম চেঁচামেচি-তে পরিপূর্ণ। ‘চিৎকার চেঁচামেচি ব্যস্ততা&#8230; এই নিয়ে হোলো কলকাতা&#8230;’ </p>
<p>	ট্রেনে উঠে আরামে নিশ্চিন্তে চোখটা বুজে নিলো মৈথেলি। না, ঘুম আসছে না। বড় আরাম লাগছে। মন গাইছে, ‘বড় বিস্ময় লাগে&#8230;’ আজকে প্রথম রাস্তায় বেরিয়ে বড় আনন্দ লাগছে ওর। কোথাও কোনো বিপদ নেই, খেদ নেই, ক্ষোভ নেই, রাগ নেই, ঘেন্না নেই, ছুৎমার্গ নেই। চারদিকে মানুষ আছে। অনেক অনেক মানুষ। তারাই তো ভরসা। তারাই তো পানের থেকে চুন খসলে ছুটে আসবে। এটাই তো আমাদের চেনা শহর। আমাদের তিলোত্তমা। মনে পড়ে, টেলিভিশন-এ রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম রাদিচে বলছিলেন যে, কলকাতা নাকি বড় নিরাপদ শহর। এমনটা নাকি লন্ডন-এ সম্ভব নয়। কে জানে বাবা!</p>
<p>	হঠাৎ কানে আসে, ‘ছোলে! এ সেদ্ধ ছোলে! মশলা ছোলে!’</p>
<p>	চোখ তাকায় মৈথেলি। একটা বাচ্চা ছেলে রাত ন’টায় একটা ঝুড়িতে লাল কাপড় দিয়ে আবৃত ক’রে সেদ্ধ ছোলা বেচছে। কাপড়ের ওপর সাজিয়ে রেখেছে অর্ধেক করে কাটা পাতিলেবু। এই মশলা ছোলা ছোটবেলা খেতো মৈথেইলি। আজ দেখে নোলা-টা সপ সপ করে উথলো। বড় হয়ে অবধি এসব তো খাওয়াই হয় না।<br />
	- আমাকে চার টাকার দেতো, বাবা। ফাইন করে দিবি কিন্তু। লেবু দিবি না। </p>
<p>	এ্যাতো রাতে কোনো দিদিমনি ছোলা কিনবে – এমনটা ছেলেটার অভিজ্ঞতায় নেই। তাই খুব মন দিয়ে ঝালনুন-টুন দিয়ে লোভনীয় মিক্সচার বানালো। একটু মুখে দিয়ে মৈথেলি বলল, দারুণ বানিয়েছিস। তোর নাম কী রে?<br />
	- মন্টু।<br />
	- কোথায় থাকিস তুই?<br />
	- আগরপারায়। রেলবস্তিতে।<br />
	- শোন, এরপর থেকে লেবুগুলো না, কেটে কেটে রাখবি না। বিষ হয়ে যাবে। বুঝলি?</p>
<p>	ছেলেটা মাথা নেড়ে সায় দিতেই ওকে টাকা দেয় টেকনোপলিসের এক্সিকিউটিভ মিস মিত্র। আর এই প্রথম ওরকম একটা নোংরা ছেলের চিবুক নিজের পাঁচ আঙ্গুলের মাথা দিয়ে ছুঁয়ে নিজের ঠোঁটে ছোঁয়াতে গিয়েও ছোঁয়াল না মৈথেলি। বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। সবাই দেখছে।
</p></div>
<p><a name="scribd"></a><br />
</p>
<p><a href="http://calcuttans.com/palki/P12-final/secure/07-P12-himadribanerjee-godyo-secured.pdf"><br />
<img style="width: 127px; height: 41px;" alt="download" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/04/download.png"></a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-himadri-banerjee/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>ই এম আই (EMI) &#8211; Story by Himadri Shekhar Dutta</title>
		<link>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-himadri-shekhar-dutta/</link>
		<comments>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-himadri-shekhar-dutta/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Dec 2011 07:52:21 +0000</pubDate>
		<dc:creator>piyasc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Bengali Story/Bangla Golpo]]></category>
		<category><![CDATA[Palki 12]]></category>
		<category><![CDATA[Himadri Shekhar Dutta]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://calcuttans.com/palki/?p=4433</guid>
		<description><![CDATA[
 &#160;
&#160;


ই এম আই

&#160;

হিমাদ্রী শেখর দত্ত

&#160;

*১*
সোমনাথ সকালে বেরোনোর সময়ই ঠিক করে নিয়েছিলো আজ অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়ি কেটে যাবে। অফিস সেরে দুজনে আজ এ.সি. কিনতে যাবার কথা আছে। খবরের কাগজে ইনষ্টলমেন্টে এ.সি. কেনার সুবিধা এবং নিজেদের পকেটের অবস্থা, এই নিয়ে কাল রাতে তনিমার সাথে লম্বা কথা সারার পরে আজ মনে মনে ও একটু উত্তেজিতই আছে। [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<script type="text/javascript">disableSelection(document.body)</script><p><br />
<a href="#scribd"><img style="width: 401px; height: 35px;" alt="see scribd embed" align="left" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/11/bangla6.png"></a></p>
<p> &nbsp;<br />
&nbsp;
</p>
<div style="text-align: center; color: #A52A2A; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large; font-weight:bold;">
ই এম আই
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: center; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large;">
হিমাদ্রী শেখর দত্ত
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: justify; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:medium; text-indent:50px;">
<b>*১*</b></p>
<p>সোমনাথ সকালে বেরোনোর সময়ই ঠিক করে নিয়েছিলো আজ অফিস থেকে একটু তাড়াতাড়ি কেটে যাবে। অফিস সেরে দুজনে আজ এ.সি. কিনতে যাবার কথা আছে। খবরের কাগজে ইনষ্টলমেন্টে এ.সি. কেনার সুবিধা এবং নিজেদের পকেটের অবস্থা, এই নিয়ে কাল রাতে তনিমার সাথে লম্বা কথা সারার পরে আজ মনে মনে ও একটু উত্তেজিতই আছে। বাবা যখন বেঁচে ছিলেন, তখন বাড়িতে একটাই পাখা ছিলো। রাতে আর ছুটির দিনে দুপুরে ঘুমোবার সময়টুকু ছাড়া সে পাখা রেগুলার চলতো না, মানে বাবা চালাতে দিতেন না। অন্য সময়ে হলদে তালপাতার পাখার লাল সবুজ ছোপ দেওয়া হাতলের মুখটা দিয়ে বাবা পিঠ চুলকোতেন আর নিজেকে হাওয়া করতেন। ছেলেরা পড়তে বসলে, তাদেরও মাঝে মাঝে এক ঝলক হাওয়া করে যেতেন। তনিমার সাথে বিয়ের দু বছরের মাথায়, একেবারে হঠাৎই মাত্র সাতদিনের অসুস্থতায় উনি সোমনাথকে একেবারে একা করে দিয়ে চলে যান। সাত দিনের মরণ-বাঁচন লড়াইয়ের সময় জানা যায় বাবার ক্যান্সার হয়েছে। প্রষ্টেট থেকে ফুসফুসে এসে পৌঁছানোর জন্যে জানা গেল ক্যান্সার বলে, নইলে শুরুটা বছর দুই আগেই হয়ে গেছিল। যখন বিছানা নিলেন, তখন শেষ করে এনেছিলেন নিজেকে সংসারে, সকলের অলক্ষ্যে। তনিমাকে খুব ভালোবাসতেন উনি। আজ বেঁচে থাকলে বেশ খুশী হতেন, ছেলে-বৌয়ের এ.সি. কেনার সামর্থ্য আর প্ল্যান দেখে। ওনার রোজগারে, এ.সি. তখন ছিল মধ্যবিত্তের সংসারে বিলাসিতা। এখন যুগ পাল্টেছে, নির্দিষ্ট সময় ঘুম না হলে, মানুষ পরের দিনের কাজকর্ম করে উঠতে পারে না। অসফল দিন কাটিয়ে, তেতো মেজাজ আর মাথাভরা স্ট্রেস নিয়ে, রাতে বিছানায় কেবল এপাশ ওপাশ করতে থাকে। ঘুম আর আসে না।</p>
<p>	এখন সাড়ে চারটে বাজে, পৌনে পাঁচটা নাগাদ তনিমাকে একবার মোবাইলে ধরবে। ওর বেরোনোর সময়টাও কনফার্ম করতে হবে তো। অবশ্য তনিমাও নিশ্চয় মনে মনে আজ ছটফট করছে। এতক্ষণে কলিগদের কাছে হয়তো বলেও দিয়েছে ওর আজ বিকেলের প্ল্যান নিয়ে। ওরা ভেবে রেখেছে একটু মার্কেট সার্ভে করবে, মানে দু’তিনটে দোকান দেখা আর কি। তাতে দামের ওঠা-নামাটা একটু বোঝা যায়। তবে সেলস ইন্ডিয়াই ওদের মেইন দোকান, যেখান থেকে ওরা মোটামুটি ঘরের অনেক টুকিটাকি এর আগে নিয়েছে। বন্দনা মেয়েটি বয়সে গ্রুপের সবচেয়ে ছোট, তনিমাকে কেবল প্রিন্সিপাল হিসেবে নয়, বড় দিদির মতো দেখে। সে জানতে পেরে বললে, ‘ম্যাডাম, সেলস ইন্ডিয়া আজকাল সাড়ে সাতটায় বন্ধ হয়ে যায়, আপনি একটু আগেই বেরিয়ে পড়ুন। স্যার কি আসবেন আপনাকে পিক-আপ করতে?’ সোমনাথ একবার ওর বসের ঘরের দরজা ফাঁক করে দেখে নেয় বস কি করছে। নন-বেঙ্গলি বস, সব সময় অফিসের কম্পিউটারে ইন্টারনেট চষে বেড়াচ্ছে, কি যে এতো দেখে! দুর্জনে নানান কথা বলে বটে, তবে সোমনাথ কখনও হাতে নাতে ধরতে পারে নি। একটা টোকা মেরে ঘরে ঢুকেই সোমনাথ বলে, ‘স্যার একটা জরুরী কাজের জন্যে আমায় আজ একটু আগে যেতে হবে, মিসেস’কেও পিক-আপ করতে হবে, আমি আজ পাঁচটায় চলে যাবো।’ বস কম্পিউুটার থেকে চোখ না সরিয়েই বললেন ‘নো প্রবলেম, গো।’ যাক্‌ এদিকটা তো ম্যানেজ হলো, এবার তনিমাকে ফোন করা যাক।</p>
<p>	‘হ্যালো, কখন বেরোচ্ছো? আমি কি তোমার ওখানে চলে আসবো?’<br />
	‘না, আসতে হবে না, আমার স্কুলের একটা ভ্যান ওদিক দিয়েই যাবে, আমায় নামিয়ে দেবে। এই ধর পাঁচটা পনের/বিশ নাগাদ। তুমি ডাইরেক্ট সেলস ইন্ডিয়ার সামনে চলে এসো, আমি আসছি। তাড়াতাড়ি ফিরতে হবে, দীপুর টিউশান ক্লাস সাড়ে সাতটায় শেষ হয়। ডাউন পেমেন্টের টাকাটা নিয়ে এসো কিন্তু। ই.এম.আই. আমার জিম্মা। মনে আছে তো?’<br />
	‘কিন্তু কত দিতে হয়, না হয়, না জেনে কত টাকা তুলব? তার চেয়ে আমি চেক বইটা আনছি সাথে, যা বলবে লিখে দিয়ে দেব। আজকেই তো আর মালটা পাঠাচ্ছে না। আচ্ছা শোন, আমি ভাবছিলাম, দুটো ঘরের জন্যে দুটো মেশিন কিনে নিলে কেমন হয়? বার বার তো আর এসব কেনা হবে না, তুমি কি বল?’<br />
	‘যদি পারো, তো নিয়ো, দুটোর জন্যে তোমায় কত ডাউন পেমেন্ট দিতে হয় আগে দেখ। আর আমাকেও তো ই এম আই এর ফাইনাল ভ্যালুয়েশানটা জানতে হবে। ঠিক আছে, তুমি পৌঁছে যাও, আমি গেটেই থাকব।’</p>
<p>	তনিমার সাথে সোমনাথের আলাপ আর বিবাহের মধ্যে আট বছরের পূর্বরাগ চলেছিল। পাড়াতে সকলে জানতো। তনিমার মা’ও জানতেন। আর সোমনাথ নিজেই বলেছে তার মা’কে, বাবাকে বলার সাহস ছিলো না, ওটা মা’র ওপরেই ছেড়ে দিয়েছিল। ওর ছোট ভাই অবশ্য জানত। সরল, হাসিখুশি আর আত্মগরিমায় ভরা পূর্বরাগের তনিমা আর আজকের প্রিন্সিপাল তনিমার মধ্যে সময়ের সাথে সাথে আরও একটা বিশেষ গুণ যোগ হয়েছে। সেটা হলো যে কোন কাজ বা সমস্যার সমাধান করার এক আশ্চর্য ক্ষমতা। সোমনাথের মনে তনিমার জন্যে গভীর ভালোবাসার সাথে একটা নির্ভরতাবোধ জন্ম নিয়েছে। তনিমা এক্সপার্ট দূরদর্শী না হলেও ওর বিচার আর বুদ্ধির যুগলবন্দি কখনও সাংসারিক সমস্যার উৎপত্তি করে নি, বরঞ্চ অনেক ক্ষেত্রে খুব সহজ সমাধানে কাজ মিটেছে। এই ক্ষমতার জন্যই আজ স্কুল জয়েন করার আট বছরের মধ্যেই, শিক্ষিকা থেকে সহায়িকা প্রিন্সিপাল এবং এখন প্রিন্সিপাল হতে পেরেছে। স্পষ্টবাদিতা আর স্কুলের স্বার্থে ও নিজেকে এমন ভাবে জড়িয়ে নিয়েছে, যে আজ স্কুল ট্রাষ্টিও তনিমার লেখা রেকমেন্ডেশান বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেয়। </p>
<p>	এত সব জানা ও মেনে নেওয়া সত্ত্বেও এই ২৩ বছরে সোমনাথ মাঝে মাঝেই তনিমাকে কাঁদিয়েছে, কখনও চেঁচামেচি করেছে সামান্য কারণেই, গাঁক গাঁক করে আজে বাজে কথা বলেছে, তখন ওর রামকৃষ্ণ মিশন স্কুল বা প্রেসিডেন্সী কলেজের কোন শিক্ষা বা ঐতিহ্য ওকে বেঁধে রাখতে পারে নি। মুখের আগল মাথার গরম দমকায় যখন খুলে যায়, তখন কোনও যুক্তি, তক্কো, গপ্পো জানালায় ধাক্কা খেয়ে ঘরে ফেরে না। কানের পাশে দুম দুম করে আওয়াজ শুরু হয়ে যায়, আজ বারো বছর হতে চললো, সোমনাথ প্রেসারের ওষুধ খেয়ে চলেছে। একটু পরে ঠান্ডা হলে বুঝতে পারে কত পেটি কারণে কি ভীষণ চেঁচালো ও। বউ আর মেয়েদের সামনে নিজেকে কেটে কেটে কদর্য্যতার এক একটা প্রতিবিম্ব দেখিয়ে দিল – স্বামী, প্রেমিক, বাবা, কিউট বাবা সব পরিচয়ের সুন্দর সুন্দর পোর্ট্রেটে আগুন লাগিয়ে ছাই করে দিল নিমেষে। অসহায় লাগে, কিন্তু ৪৮ বছর বয়সেও রাগটাকে বাগে আনতে পারলো না সোমনাথ। সময়ের হাতে নিজেকে ছেড়ে দেওয়া ছাড়া এই সময় আর কিছু করার থাকে না সোমনাথের। কটা রুটি খাবে মেয়ে এসে জানতে চাইলে বুঝতে পারে এই মুহূর্ত কতটা কঠিন। তনিমা এখন কিছুদিন রিঅ্যাকশন-হীন হয়ে যাবে, যেটা সোমনাথের সবচেয়ে অপছন্দের। </p>
<p>	সময়ের চেয়ে বলবান কেউ নেই। পরিচয়ের জ্বলে যাওয়া ওই সব পোর্ট্রেটের ভস্ম থেকে আবার ধীরে ধীরে মাথা তোলে ভালোবাসার ফিনিক্স পাখী। আবার বাতাস হালকা হয়ে আসে ঘরের মধ্যে, আবার শুরু হয় নতুন করে মিলিত জীবনের পথ চলা। আগ্নেয়গিরি ঘুমিয়ে পড়ে, কিন্তু বারে বারে ফিরে আসে। কখনও দু’মাস বাদেই, আবার কখনো বছর ঘুরে যায়। </p>
<p>	আসলে আট বছর প্রেম করে বিয়ে করলেও, সোমনাথ তনিমার মনের গোপনে ঢুকতে পারে নি। হয়তো সে দরজা খোলা ছিল এক সময়, এখন বিয়ের ২৩ বছর পর ওই দরজা খোলার প্রচেষ্টায় আর কি ভাবে নিজেকে ঢালবে, সেটা সোমনাথ মাঝে মাঝেই ভাবতে বসে। অনেক ভেবে এটাই বুঝেছে, ভাগ্য গুণে বিদূষী পত্নী পেয়েছে অবশ্যই, তবে বিদূষীর মনটাকে বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা ওর এখনও আয়ত্ত্বের বাইরেই। এটা তার মনে এক মস্ত ক্ষেদ, আর এর ওষুধ ওর ব্যক্তিসত্ত্বায় আর কবে ডেভেলপ করবে? এই সব ভাবতে ভাবতে কখন সেলস ইন্ডিয়া পৌঁছে গেছে বুঝতেই পারে নি। তনিমার চেনা আওয়াজে সম্বিত ফিরতেই, দেখে তনিমা ফুটপাথের ওপরে দাঁড়িয়ে ওর দিকে হাত নাড়ছে। গাড়ি সাইডে রেখে লক করে কাছে আসার পর, তনিমা বলে উঠলো, ‘কার কথা ভাবতে ভাবতে গাড়ি চালাচ্ছিলে, যে নিজের ঠিকানাই পেরিয়ে যাচ্ছিলে?’ উত্তরে সোমনাথ গভীর ভাবে তনিমাকে দেখতে দেখতে বলল, ‘হয়তো তোমার বিশ্বাস হবে না, আমি তোমাকেই ভাবতে ভাবতে আসছিলাম।’ তনিমা মুখ দিয়ে একটা অদ্ভুত শব্দ করে, যার আওয়াজটা, বাতাসে ওহঃ আর হুঃ-র মিশ্রণের মতো শোনাল। এ শব্দব্রহ্মে তনিমার মনের কোন অনির্বচনীয় ভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটলো, সোমনাথ বোঝে না, তনিমার মনের গোপন মণিকোঠায় ভালোবাসার পুরনো দীপ নতুন কোন রোশনি পেল কি? </p>
<p><b>*২*</b></p>
<p>নীল ঊর্দি পরা দারোয়ান লম্বা সেলাম ঠুকে ভারী কাঁচের দরজা খুলে ধরল। ভেতরে ঢুকেই সোমনাথ আর তনিমা এক অদ্ভুত ঠান্ডা স্বপ্নময় পরিবেশে এসে পড়ল। এমনই ঠান্ডা হবে ওদের ঘর, যখন এ.সি. লাগবে। রোগা বলা যায় না, কিন্তু একেবারেই মোটা নয় এমন একটি মেয়ে (আন্দাজ ১৮-১৯ বছরের), ওদের দিকে এগিয়ে আসে, কি খুঁজছেন এই প্রশ্ন করায় তনিমা কেন জানিনা হঠাৎ চোস্ত ইংরাজীতে বলে ওঠে, ‘উই আর হিয়ার ফর এ.সি.।’ মেয়েটি নীচে নেমে ডান দিকের সেকশনে যাবার জন্যে বলে, নিজেও সাথে সাথে চলতে থাকে। এ ধরনের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের এই এক সমস্যা, জিনিস দেখবার জন্যে হয় একতলা নীচে নামো, অথবা দেড় তলা ওপরে যাও। মনে হয়, এত সামগ্রী একই ফ্লোরে রাখা সম্ভব নয় বলে এমন ব্যাবস্থা। </p>
<p>	সিঁড়িতে দু’পা নামবার পরেই সোমনাথের কেমন মনে হল পুরো স্টোরটা একবার ওপর নীচে দুলে গেল ওর চোখের সামনে। ভুমিকম্প নাকি? ছোট করে কাটা চুলের গোড়ায় বিন্দু বিন্দু ঘাম একসাথে মিলে ছোট্ট অববাহিকার মতো ঘাড়ের কাছে যেন ব-দ্বীপের চারপাশে ভেঙে পড়ছে। কপাল আর কানের পাশ দিয়ে পাতলা জলধারা শ্বাপদের মতো ধীরে ধীরে সরে সরে নামছে। মিনিট খানেক রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকার পরে, পায়ে আর মনে যখন একটু জোর এল, তনিমা ততক্ষণে ঐ মেয়েটার সাথে সেলারে প্রায় পৌঁছে গেছে। পাশ ফিরে হঠাৎ সোমনাথকে দেখতে না পেয়ে তনিমা সিঁড়িতে চোখ ফেরায়। তনিমা কিছু জিজ্ঞাসা করবার আগেই, সোমনাথ হাত নেড়ে, হাঁটুটা দেখায়। আলতো করে ইঙ্গিত করে, ও আসছে। তনিমা জানে আজকাল সোমনাথ হাঁটুতে মাঝে মাঝেই ব্যাথা অনুভব করে, বিশেষ করে সিঁড়ি ওঠা নামার সময়ে। মুহূর্তের মধ্যে তনিমার মুখটা আবার উৎসাহী ক্রেতার মতো হয়ে ওঠে। সোমনাথ আস্তে আস্তে নামা শুরু করে। বাঁ হাতে স্টিলের চকচকে রেলিং ধরে ধরে সেন্ট্রালি এয়ার-কন্ডিশনড মলের সিঁড়ি বেয়ে এক পা এক পা নাবার সময় ও টের পায়, আরও কতটা পথ ওকে নামতে হবে তনিমার কাছে পৌঁছানোর জন্যে। পিঠের জামাটা ভেতরে গেঞ্জির সাথে চেপটে গেছে, ঘামের জন্যে । সোমনাথ নেমেই চলেছে সিঁড়ি ধরে। গরমে এমন হল, নাকি প্রেসারটা আবার বাড়ল আজকে। যতদূর মনে পড়ছে, আজকের ওষুধ তো সকালে ব্রেকফাস্টের সময় নিয়েছিল। আজকাল এই এক প্রবলেম হয়েছে, এ বেলার কথা ও বেলায় মনে করতে পারে না, অথচ কবেকার কত কথা এখনও ছবির মতো চোখের সামনে আসা যাওয়া করে হবহু, যেমন ঘটেছিল।  </p>
<p>	এ.সি. কর্ণারে পৌঁছানোর পরে এক গ্লাস জল খেয়ে সামনে রাখা কুশন দেওয়া চেয়ারটায় ও বসে পড়ে। যে ছেলেটি, তনিমাকে এ.সি. দেখাচ্ছিলো, সে স্পট এ.সি. থেকে উইনডো সব ধরনের মেশিনের দাম, টনেজ, রং, গ্যারান্টি পিরিয়ড ইত্যাদি যাবতীয় জিনিস বর্ণনা করে চলেছে। তনিমা তার মাষ্টারী ব্রেন আর ঘরের প্রয়োজন এই দুই এর মধ্যে মেল বন্ধন করার চেষ্টা করে চলেছে। সোমনাথের বেশ লাগছিলো, তনিমাকে এই কঠিন অঙ্ক কষতে দেখে। সামান্য সময় বসার পরে, এবার একটু ঠিকঠাক লাগায়, সোমনাথ গিয়ে দাঁড়ায়, তনিমার পাশে।</p>
<p>	‘তুমি কি সত্যিই দুটো এ.সি. কিনবে বলে ভাবছ? তখন কি হয়েছিল, শরীর খারাপ লাগছিল?’ তনিমা এক নিঃশ্বাসে জানতে চাইল।<br />
	‘কি দাম বলছে? না না, তেমন কিছু নয়, মাথাটা একটু ঘুরে গেছিল। এখন ঠিক আছি। ডাউন পেমেন্ট কি দিতে হবে, দুটো একসাথে নিলে?’<br />
	তনিমা খানিকটা আত্মস্থ হয়ে বললো, ‘শোনো না, আজ বুক করলে ই এম আই-গুলোতে কোন ইন্টারেষ্ট লাগবে না। জিরো ইন্টারেষ্ট!’<br />
	‘ইয়েস স্যার,’ বলে এগিয়ে আসে ছেলেটি, যে এতক্ষণ এ.সি. দেখাচ্ছিল। ‘আপনারা আজ বুক করলে, কিছুটা সুবিধে পেয়ে যাচ্ছেন, এক্সট্রা পয়সা লাগছে না, আর ই এম আই-ও কাটা শুরু হবে নেক্সট মাস থেকে।’ </p>
<p>	সোমনাথের মুখ দেখে মনে হচ্ছিল, ও মন তৈরী করছে। আস্তে করে বলল, ‘তাহলে একটা স্পট এ.সি. আমাদের শোবার ঘরে লাগাই, আর একটা উইনডো মেয়েদের ঘরের জন্যে নিই?’<br />
	‘নয় হাজার টাকা এখন ডাউনপেমেন্ট হিসাবে দিতে হবে।’ তনিমার হিসেব।<br />
	সোমনাথের একটা ডাউট ছিলো, ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলো, ‘স্পট মেশিনটা কি ঘরের বাইরে রাখতে হবে?’<br />
	‘স্যার ছাদে ফিট করে দেবো, তারপরে তো আর হাত পড়বে না, আপনি বরঞ্চ একটা কভারের ব্যাবস্থা করে নেবেন, তাহলে বৃষ্টির থেকে খানিকটা রেহাই পাবে।’<br />
	‘কিন্তু ভাই, আমার বদলির চাকরি, তখন আবার নতুন করে পাইপ খোলা, মেশিন খোলা এসব তো করতেই হবে, নাকি?’<br />
	‘ওহ্‌ স্যার, তাহলে আপনারা দুটো উইন্ডো এ.সি.-ই নিয়ে যান। স্পট এ.সি.-তে আপনাদের রেকারিং কস্ট অনেক বেড়ে যাবে।’ </p>
<p>	সোমনাথ আর তনিমা পরস্পরের মুখ দেখাদেখি করে। তবে কি চাকরীতে যতদিন আছে, ততদিন আর স্পট এ.সি. নেওয়া যাচ্ছে না? সোমনাথ তনিমার দিকে ফিরে চোখ দিয়ে জিজ্ঞাসা করে, কি করবে তাহলে? </p>
<p>	ফাইনালী দুটো উইন্ডো এ.সি. কিনে, ডাউন-পেমেন্ট আর ই এম আই বাবদ ১০ খানা চেক দিয়ে যখন ওরা সেলারের বাইরে এলো, তখন অন্যান্য সেকশন বন্ধ হতে শুরু করেছে। রাস্তায় আলো জ্বলে উঠেছে। গাড়িতে বসেই সোমনাথ তনিমাকে বললো, ‘যখন ছোট ছিলে, আমার সাথে প্রেম করতে, তখন কি কখনো ভেবেছিলে, এ.সি. কিনতে এসে, খস খস করে চেক সই করবে?’</p>
<p>	তনিমা খুব খুশি খুশি মুখে বললো, ‘না তেমন করে ভাবি নি, তবে না হবারই বা কি আছে বল। আমরা তো একটু আলাদাই ছিলাম ছোটবেলা থেকে। পড়াশুনো, আদবকায়দা, সংস্কার সব কিছু নিয়ে। তাহলে, এ’টুকু তো আমরা অর্জন করতেই পারি আজ। পারি না?’ </p>
<p>	সোমনাথ হাসি মুখে সায় দিয়ে গাড়িটাকে রাস্তায় তোলে। সাতটা বেজে পাঁচ, যদি রাস্তা খালি পায়, তবে দীপুকে নিয়ে নিতে পারবে টিউশন থেকে।</p>
<p><b>*৩*</b></p>
<p>এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন লাইন বসিয়ে, জানালায় গ্রীল কেটে দু ঘরে দুটো এ.সি. বসে গেল। সোমনাথ অফিসে থাকাকালীন কোম্পানীর লোক এসে একদিন এ.সি. চেক করে ফুল ডেমনস্ট্রেশন দিয়ে গেলো। মা-মেয়ে দুজনে সেসব পুঙ্খানুপঙ্খ মনে রাখল, সোমনাথকে বলবার জন্যে। তনিমা এখন রাত্রে বিছানায় শুয়ে গরমে আর হাঁসফাস করে না, আরামেই ঘুমোয়। সোমনাথ একবার নিজের, একবার মেয়েদের ঘরের মেশিনের অবস্থা যাচাই করে, নিজের ঘরে এসে তনিমার পাশে শুয়ে পড়ে। শোবার আগে এ.সি. তে দু’ঘন্টার টাইমার দিয়ে দেয়। বেশীক্ষণ চলতে থাকলে ঘর একেবারে বরফ হয়ে যায়। এই ভাবেই সোমনাথ আর তনিমার বাসায় দ্বৈত বাতানুকুল যন্ত্রের চরৈবেতি শুরু হয়। </p>
<p>	তিন মাস পরে এ.সি.তে যখন আধঘন্টার বেশী টাইমার লাগছে না, একরাতে শুয়ে শুয়ে সোমনাথের মাথায় একটা উদ্ভট ভাবনা আসে। কেবল মাত্র দুটো শব্দ নিয়ে, ‘ডাউন পেমেন্ট’ আর ‘ই এম আই’। </p>
<p>	হঠাৎ করে ও বুঝতে পারে এই শব্দ দুটো কেবল কমার্সের টার্মস নয়, অন্ধকার ঘরে ও ধীরে ধীরে আবিষ্কার করে এই দুটো শব্দের সাথে চাইলে সমগ্র বিশ্ব সংসার জড়িয়ে দেওয়া যায়। চাই কি, এটা বলতে দ্বিধা নেই যে সারা দুনিয়া এই শব্দেরই পরিণাম এবং উৎপত্তি। আমরা সকলেই এর সাথে একটা ক্লোজড লুপ-এ ঘুরে চলেছি সময়ের সীমাহীন প্রবাহে। নিজের এই বোধোদয়ে সোমনাথ খুব উত্তেজিত বোধ করে। তনিমাকে জাগাতে ইচ্ছা হল খুব, এ.সি.-র হালকা সবুজ টেম্পারেচারের ডিজিটাল ইন্ডিকেটরের আলোয় তনিমার ঘুমিয়ে থাকা মুখের দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে, সোমনাথ মন বদলাল। নিজের নতুন এক্সপ্ল্যানেশনের ব্যাপারে আরো গভীর ভাবে মনোনিবেশ করল। ঘুম উড়ে গেছে চোখ থেকে। </p>
<p>	আমরা যা কিছু পাবার স্বপ্ন দেখি, বা আশা করি, বা যে যেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করি, তার জন্যে একটা প্রস্তুতি ছোটবেলা থেকেই নিতে হয়। ওই সময়ের থেকে করে আসা সমস্ত কর্মকাণ্ড, শ্রম, অর্থলগ্নি এসবই হল একটা জীবন নামক ভিত্তি পত্তনের জন্যে ডাউন পেমেন্ট। জীবন যখন লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে যায় তাকে আরও এগিয়ে দিতে এবং মেন্টেনইড রাখতে জীবন থেকে কিছু কিছু ভাগ বা অংশ আমাদের ফিরিয়ে দিতে হয়, কখনও সময়ের রূপে, কখনও ভালোবাসার রূপে, বা দায়িত্বসচেতনতার রূপে। সোমনাথের কাছে এগুলো এক একটা ই এম আই। জীবন যেমন দেয়, তেমনই আবার চলার জন্যে জীবনকেও ফিরিয়েও দিতে হয় তার অর্জিত লভ্যাংশের একাংশ। সে লাভের গুড়ে সংসারের সকলেরই ভাগ থাকে। </p>
<p>	বাবা-মা’র কথা বিশেষ করে আজ মনে পড়ে সোমনাথের, ওনাদের সারা জীবনের ডাউন পেমেন্ট এর রসিদ নিয়ে ও নিজে এমন একটা জায়গায় পৌঁছেছে, যেখান থেকে ও ওর জীবনের সব ভালোবাসার জনেদের জন্যে সব রকম ই এম আই দিয়ে দিতে পারে। বাবা-মা কোন ই এম আই নিয়ে যেতে পারেন নি। তার আগেই তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। আর তনিমা সেই ছোট্ট বয়স থেকেই নিজের ক্যারিয়ার, বাবা-মা, ঘর বাড়ি, পারিবারিক ব্রাহ্মণত্য সবই ডাউন পেমেন্ট করেছে কেবল সোমনাথকে ভালোবেসে। কিন্তু সোমনাথ কি তনিমার জীবনে তার প্রাপ্য সব ই এম আই ঠিক ঠিক ফেরত দিতে পেরেছে? কখনও কি ডিফল্টার হয়নি? নিজেকে বিছানায় এই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে, সোমনাথ বিব্রত হতে থাকল। আস্তে আস্তে মন খুঁজে পেতে থাকল ডিফল্টারের এক একটা বড় ছোট অধ্যায়, যা চাপা পড়ে আছে দৈনন্দিন জীবনের হয়রানিতে। সব মনে আসার পরে, সোমনাথ নিজেকে এক বড়সড় ঠগ বলে মনে করতে লাগল। চাপ চাপ দুঃখবোধ তাকে অন্ধকারে এমন ভাবে জাপটে ধরে, মনে হচ্ছে যেন দম বন্ধ হয়ে যাবে। তনিমাকে জাগাবে নাকি, নাকি আরেকটু সহ্য করবে। তীব্র হতাশা থেকে বার বার ওর মনে হতে লাগে, বাবা, মা, সমাজ, শিক্ষক, সংস্কার, শুভবুদ্ধি সব কিছুরই দানে গড়ে তোলা এই জীবনের ডাউন পেমেন্টের মর্যাদা ও ক্ষুণ্ণ করেছে বার বার, ধোঁকা দিয়েছে এদের সকলকে। পাপ আর পুণ্যের সীমারেখা আজ নতুন করে একটা আলাদা মানে নিয়ে এল ওর বিবেকের কাছে। তনিমাকে যদি একবার ডেকে সব বোঝাতে পারত, ওর এখনকার মনের অবস্থাটা। তনি, আমি তোমার কাছে অন্যায় করেছি বেশ কয়েকবার, তোমার কাছে আমার যোগ্যতার পরিভাষা যা নিয়ে তুমি সুখী আছো, তাকে কলুষিত করেছি। কখনও অজানতে, কখনও লোভে পড়ে, কখনও মোহের বশে, অথবা সামান্য অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে। এক সীমাহীন হাহাকার বুক ফুটে বেরোতে চাইছে, চিৎকার করে বলতে চাইছে, তনি তোমাকে ঠকিয়েছি এই ২৫ বছরের সম্পর্কে, মাঝে মাঝেই, নিজের দুর্ব্যবহারে, রাগ গোয়ার্তুমি আর কখনও বা পরকিয়ার আবছা আভাসে। তুমি জানতে পার নি। বা হয়তো বুঝেছ, আমায় জানতে দাও নি। আমায় কি তুমি সব ভুলে ক্ষমা করতে পারবে? কোথায় যেন পড়েছিলো সোমনাথ, মেয়েরা ক্ষমা করলেও কখনও ভোলে না। আর তাই যখনই সম্পর্কের ই এম আই ভরতে গিয়ে কেউ ডিফল্টার হয়ে যায়, তখন স্মৃতি তার বন্ধ দরজাগুলো খুলে ধরে, আর অভিযোগের ধারালো সৈনিকেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে শাণিত অস্ত্রের সাজে, নতুন রক্তপাতের মহাভারতে। বিবেকের চাপ এমনিভাবে এই দুটো শব্দ নিয়ে এমন ভাবে ওকে নাড়িয়ে দিয়ে যাবে, সোমনাথ এ.সি. কিনতে যাবার সময় কখনও ভাবে নি। ঘুম আসছে না, এক আবছা অথচ তীব্র বেদনায় ও স্থির হয়ে পড়ে আছে ও। গলা দিয়ে কোনও আওয়াজ বেরোচ্ছে না। ঘুমিয়ে তো নেই-ই, কিন্তু ঠিক মতো জেগেও নেই ও এখন। রাত্রির বাতাসেও কোন আওয়াজ নেই। </p>
<p><b>*৪*</b></p>
<p>স্কুলে যাবার আগে রান্না করতে হয় বলে তনিমা বরাবরই সোমনাথের আগে ঘুম থেকে ওঠে। আজও তার অন্যথা নেই। হাতমুখ ধুয়ে সকালের চা’টা বসাবার আগে, ভাবল আজ সোমনাথকেও তুলে দেয়। দু’জনে একসাথে চা খাবে। গতকাল বিকেলে ওদের বড় মেয়ে পরীক্ষা শেষে হোষ্টেল থেকে ফিরেছে – আজ তাই ওর মনটা খুব ভালো আছে, আজ একসাথে সকলেই বাড়িতে আছে অনেক দিন পরে। সোমনাথকে ডাকতে যাবে বলে গ্যাসটা সিম করতেই টেলিফোনটা বাজতে শুরু করে। মা ফোন করেছেন বারাসাত থেকে, গত রাতে ওখানে খুব বৃষ্টি হয়েছে, তোদের ওদিকে কি হয়েছে? রাত্রে একটু ঠান্ডা ঠান্ডা লাগলেও, এদিকে বৃষ্টি হয় নি, তনিমা জানায়। মা-মেয়ের কথা যখন শেষ হলো, তখন সিম করে রাখা জলও পুরো উবে গেছে। নতুন করে আবার জল বসিয়ে তনিমা গেল সোমনাথকে ঘুম থেকে তুলতে। </p>
<p>	চিৎ হয়ে মুখ বন্ধ করে, হাত দুটো পাশাপাশি ফেলা, সোমনাথ শুয়ে আছে বিছানায়। তনিমার বুকটা সোমনাথকে দেখে কি জানি কেন কেঁপে উঠলো। এত প্রশান্ত মুখ, কেমন যেন অচেনা ঠেকছে। পা দুটো শোবার ঘরের দরজার কাছে এমন ভারী লাগছে, তনিমা এগোতে চেয়েও যেন এগোতে পারছে না। সোমু সোমু বলে দুবার ডাক দিয়েও কোন সাড়া না পেয়ে, মাটি থেকে উপড়ে পড়া গাছের মতো, তনিমা এসে পড়ল সোমনাথের নিঃসাড় শরীরের ওপরে। তনিমা বুঝতে পারে না ওর এখন কি কি করা উচিত। সোমনাথ এক গভীর ঘুমের মধ্যে রয়েছে, বায়োলজির ছাত্রী তনিমা জানে চালু কথায় এটাকে স্ট্রোক বলে ।</p>
<p>	সোমনাথের জীবন স্পন্দন খুব ধীরে ধীরে চলছে। তার দেখবার চোখ, বোঝবার হৃদয় এখনো সম্পূর্ণ ইনেফেক্টিভ নয়, তনিমার মন পড়তে পারলেও নিজের কথা মুখে বলার স্বর ওর নেই, যা তনিমার কানে গিয়ে পৌঁছায়। তোমায় ডাকতে চেয়েছিলাম বারবার, কিন্তু একেবারেই বুঝতে পারিনি চলে যাচ্ছি, বিশ্বাস কর। অবুঝ অভিমানে আমায় প্লিজ ভুল বুঝো না। ইথারের সমুদ্রে সোমনাথের এই আকুল ইচ্ছে একটা তরঙ্গের মতো দুলতে থাকল। </p>
<p>	বড় মেয়েকে বিছানা থেকে তুলে ডাক্তারকে ডাকতে পাঠায়। পারিবারিক চেনা ডাক্তার পুলক চক্রবর্তী ১০ মিনিটের মধ্যেই এসে যান। ডাক্তারের মুখ দেখে তনিমা আন্দাজ করে অবস্থা মোটেই সাধারণ নয়। এ্যাম্বুলেন্সে যখন সোমনাথকে তোলা হছে, তখনো সোমনাথ মরণের নৌকায় সম্পূর্ণ জীবনসমুদ্র পার হতে পারেনি। গাড়িতে তনিমা উঠে বসল, সোমনাথের সাথে, এক পাথর প্রতিমা। এখন ওর মুখ দেখে বোঝার উপায় নেই, মনের মধ্যে কি ঝড় চলছে। দুই মেয়ে মা’কে ঘিরে রয়েছে। আজ ওদের বড় কঠিন পরীক্ষার সময়। হাসপাতাল অভিমুখে পাড়া প্রতিবেশী দু’এক জন পুলক ডাক্তারের গাড়িতে সঙ্গে চললেন। সঙ্গে ডাক্তার থাকায়, হাসপাতালে বেশী সময় নষ্ট হয়নি, আই সি ইউ এর দুধসাদা ঘরে ধবধবে বিছানায় সোমনাথকে শোয়ানো হলো নানান রকম ডাক্তারী যন্ত্রের সাথে জুড়ে। সোমনাথের জীবন-নৌকার মুখ ঘোরানোর যুদ্ধে ডাক্তাররা লেগে গেলেন। অফিসের লোকজন একটু বেলা বাড়তে, যারা কাছাকাছি ছিল, সকলে এসে হাজির। তনিমা কেবল ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করে, ‘ওকে ঘরে নিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবো তো?’ ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দিলেন সিনিয়র ডাক্তার ধ্রুব ভট্টাচার্য্য, তার আগে স্বয়ং ভগবানও নাকি বলবার ক্ষমতা রাখেন না। বললেন, ‘দেখ মেয়ে, আমরা আশাবাদী আর ডাক্তারীটাও করব একদম ঠিক ঠাক, কিন্তু তারপরেও কিছু লাগে যা থাকে কেবল মাত্র নিয়তির নিয়ন্ত্রণে। ধৈর্য্য ধর, সব ঠিকই হবে।’ </p>
<p>	ভোর রাতের দিকে এই সাড়ে পাঁচটা নাগাদ প্রথম অ্যাটাকটা হয় ঘুমের মধ্যেই। জেগে গিয়েও সোমনাথ কোন কথা বলতে পারে নি, তার ঠিক পাশে শোয়া তনিমাকে। ওর গলা দিয়ে কোন আওয়াজই বেরোচ্ছিল না। বুকের এক অলৌকিক ব্যথা ওকে নিয়ে লোফালুফি করছিল, সেটা সহ্যের আওতার বাইরে যেতে ও জ্ঞান হারায়। ঠিক আধ ঘন্টার মধ্যেই সেকেণ্ড ধাক্কাটা আসে সোমনাথের অগোচরে। </p>
<p>	একটা প্রবল ভূমিকম্পের মতো, প্রি- আর পোষ্ট- কম্পন ওকে ভালো করে ঝাঁকিয়ে দিয়ে যায়। যমে ডাক্তারে টানাটানির ৪০ ঘন্টা পরে সোমনাথের এগিয়ে চলার পথে ব্রেক লাগে বলে ডাক্তার ভট্টাচার্য্য মত দিলেন। তবে অপেক্ষার পালা পুরোপুরি এখনও শেষ হয় নি। তনিমার বুকটা একটু হাল্কা লাগছে, চশমার কাঁচে আর আই সি ইউ এর দেওয়াল থির থির করে কাঁপছে না। এই প্রথম দু’দিনে ও নিঃশ্বাস ছাড়ল। এই দু’দিন সোমনাথের চলার পথে তনিমার শ্বাস-প্রঃশাস সোমনাথকে ওর দরকারী অতিরিক্ত বাতাসটুকু দিয়ে বেঁধে রেখেছিল। সোমনাথকে ঘরের পথে ফেরানো গেলো অবশেষে। ভর্তি হবার ছ-দিনের মাথায় সোমনাথ জেগে উঠল এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে। বুকে কোন ব্যাথা নেই, কিন্তু সমস্ত শরীর ভেঙ্গে আসছে, এক অনন্ত ক্লান্তি নিয়ে, দু চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসছে, যেন কতদিন ঘুমোয় নি ও। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির পরে, নতুন হৃদয় নিয়ে, সোমনাথ ১২ দিন পরে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেল। কুঁচকির কাছে ফোলাটা খুব ধীরে ধীরে কমে যাবে বলে ডাক্তার বলেছেন, কিন্তু এখন বুঝতে পারছে, হাঁটাহাঁটি শুরু করতে বেশ সময় লাগবে। কৃতজ্ঞ মনে তনিমা বৃদ্ধ ডাক্তার ভট্টাচার্য্যের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে যখন সোজা হয়ে উঠল, এক স্নিগ্ধ হাসি দিয়ে উনি বললেন, ‘ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পারার জন্যে, তোমার কাছে আমার একটা দেনা থেকে গেল মা। কি করে ফেরত দেব জানি না।’</p>
<p>	‘কিসের দেনা? দেনা তো আমার, আপনার কাছে,’ তনিমার উত্তর।<br />
	‘ও তুমি ঠিক বুঝবে না মা, আমরা মানে ডাক্তাররা বুঝি।’ </p>
<p>	তনিমা হঠাৎ বুঝতে পারে জীবনের সহজ অঙ্কটা। আমাদের সকলের জন্যে নির্দিষ্ট ডাউন পেমেন্ট জন্মাবার সাথে সাথেই দিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের সকল কর্ম, ভালোমন্দ, ন্যায়, অন্যায়, আশা নিরাশা, লাভক্ষতি, ভালোবাসা আর বিশ্বাস এই সব নিয়ে যে জীবন, তার সঠিক খরচ না হলে, স্রষ্টার দরবার থেকেই মাঝে মাঝে ডিফল্ট ই এম আই-এর নোটিশ আসে। তখন তা মেটাতে গিয়ে, সুদের ভারে জীবনটাকেই বাজি ধরতে হয়। সংসারে সঠিক চলাই হল, ই এম আই-এর ডিফল্টার হবার থেকে বাঁচবার একমাত্র পথ। একমাত্র উপায়। </p>
<p>	ঘরে এসে, সোমনাথকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে, একটা তৃপ্তি অনুভব করে তনিমা মনের গভীরে। হাত বাড়িয়ে সোমনাথকে ছুঁয়ে থাকল কিছুক্ষণ। তনিমার ই এম আই-পেইড এ.সি. ঘরের মধ্যে ঠান্ডা হাওয়ার ভরপুর অক্সিজেনে, সোমনাথকে ভরিয়ে দিল গভীর ভালোবাসায়।
</p></div>
<p><a name="scribd"></a><br />
</p>
<p><a href="http://calcuttans.com/palki/P12-final/secure/08-P12-himadrishekhardutta-godyo-secured.pdf"><br />
<img style="width: 127px; height: 41px;" alt="download" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/04/download.png"></a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-himadri-shekhar-dutta/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>6</slash:comments>
		</item>
		<item>
		<title>জুড়ি (Juri) &#8211; Story by Kaustubh Adhikari</title>
		<link>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-kaustubh-adhikari/</link>
		<comments>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-kaustubh-adhikari/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 01 Dec 2011 07:52:03 +0000</pubDate>
		<dc:creator>piyasc</dc:creator>
				<category><![CDATA[Bengali Story/Bangla Golpo]]></category>
		<category><![CDATA[Palki 12]]></category>
		<category><![CDATA[Kaustubh Adhikari]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://calcuttans.com/palki/?p=4436</guid>
		<description><![CDATA[
 &#160;
&#160;


জুড়ি

&#160;

কৌস্তুভ অধিকারী

&#160;

(গারট্রুড হাই বেইমার্স সঙ্কলিত চৈনিক উপকথার ছায়ানুবাদ)
চীনদেশের কোনো এক শহরে, সে অনেক কাল আগের কথা – ছিল এক পরমাসুন্দরী যুবতী, নাম তার শু। তার উপর আবার সে ছিল এক বেশ উঁচু বংশের কন্যা। ফলে তার আশেপাশে লেগেই থাকত গুণগ্রাহী যুবকদের ভিড়। আর সে বিষয়ে দারুণ হুঁশিয়ার ছিল শু, তার কথা ছিল, “পুরুষদের ব্যবহার [...]]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<script type="text/javascript">disableSelection(document.body)</script><p><br />
<a href="#scribd"><img style="width: 401px; height: 35px;" alt="see scribd embed" align="left" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/11/bangla6.png"></a></p>
<p> &nbsp;<br />
&nbsp;
</p>
<div style="text-align: center; color: #A52A2A; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large; font-weight:bold;">
জুড়ি
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: center; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:x-large;">
কৌস্তুভ অধিকারী
</div>
<p>&nbsp;</p>
<div style="text-align: justify; color: #000000; font-family: Kalpurush, SolaimanLipi, Bangla, serif; font-size:medium; text-indent:50px;">
<center style="text-indent:0px;"><i>(গারট্রুড হাই বেইমার্স সঙ্কলিত চৈনিক উপকথার ছায়ানুবাদ)</i></center></p>
<p>চীনদেশের কোনো এক শহরে, সে অনেক কাল আগের কথা – ছিল এক পরমাসুন্দরী যুবতী, নাম তার শু। তার উপর আবার সে ছিল এক বেশ উঁচু বংশের কন্যা। ফলে তার আশেপাশে লেগেই থাকত গুণগ্রাহী যুবকদের ভিড়। আর সে বিষয়ে দারুণ হুঁশিয়ার ছিল শু, তার কথা ছিল, “পুরুষদের ব্যবহার করতে জানতে হয়, নইলে তারা কোনো কাজের না&#8230;”</p>
<p>অতএব তার জীবনযাত্রার একটা বড় সময়ই কাটত এইসব উৎসুক যুবকদের সাহচর্যে। তাকে প্রমোদভ্রমণে-নৈশাহারে নিয়ে যেতে পেরে তারা নিজেদের ধন্য মনে করত। আর শু’ও তার প্রতি এই মনোযোগ উপভোগ করত। তবে সে তার সান্নিধ্যপ্রার্থীদের এ কথাও জানিয়ে দিতে ভুলত না, তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা করতে গেলে, তার বর-অঙ্গ-সঙ্গলাভ করতে গেলে, তার প্রকৃত তুষ্টিবিধান করতে হবে – উপহার দিতে হবে বেশ মূল্যবান কিছু – আর তা যদি কোনো দুষ্প্রাপ্য প্রাচীন মুদ্রা হয় তাহলেই সবচেয়ে উত্তম। এইভাবে সে গড়ে তুলেছিল এক বিশাল, ঈর্ষণীয় সংগ্রহ।</p>
<p><center>~o~</center></p>
<p>সেই শহরেই থাকত এক সাধারণ পরিবারের ছেলে, তরুণ মেধাবী ছাত্র চেং। এবং গল্পে চিরকাল যেমন হয়ে এসেছে, ফুলের বাজারে এক ঝলমলে সকালবেলা চেং’য়ের দৃষ্টি গিয়ে পড়ে শু’য়ের উপর। যথারীতি, দেখা মাত্রই সেই যুবকের মনে দারুণ ইচ্ছা জাগতে থাকে, কমনীয় রমণীয় লোভনীয় এই ফুলটি তুলে এনে তার ছোট ঘরটি সাজাবার। মেয়েটির সাথে একবার আলাপ করবার জন্য খুব চেষ্টাচরিত্র করতে থাকে সে, এবং জানতে পারে তার সেই দুষ্প্রাপ্য মুদ্রার শখের কথা।</p>
<p>সে ভাবতে থাকে, তার ঠাকুমার কাছে প্রাচীন শান যুগের এক অত্যন্ত দুর্লভ মুদ্রা আছে বটে, কিন্তু নাতির খেয়ালের কথা শুনে কি আর তিনি ওটা তাকে দিয়ে দেওয়ার জন্য দেবেন? কখনোই না!</p>
<p> “প্রাণ থাকতে বুড়ি তা কিছুতেই হাতছাড়া করবে না&#8230;” চেং ভাবে। হয়তো বা মরার সময় বড় নাতি হিসাবে তাকেই ওটা দিয়ে যাবেন, কিন্তু সে কথায় এখন কী লাভ? অথচ এখন ওই মুদ্রাটি পেলে, তার বদলে চেং আরো দুর্লভ একটি বস্তু হাসিল করতে পারত!</p>
<p>আরো মুশকিল এই যে, তার ঠাকুমার এই সম্পদটির খবর শু’য়ের কাছেও পোঁছেছে, কারণ সে আকারে-ইঙ্গিতে চেং’য়ের দূতকে জানিয়েছে, ওই মুদ্রাটি বিনা তো এই অল্পবয়সী ছাত্রের কোনো আশাই নেই, এমন এক বড় ঘরের মেয়ের কাছে ঘেঁষার।</p>
<p><center>~o~</center></p>
<p>অতএব আবেগ ও উদ্বেগের এক দারুণ জোয়ার-ভাঁটায় চেং’য়ের পড়াশোনা যায় তলিয়ে। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু লিন এহেন অবস্থা দেখে প্রশ্ন করে, “ভাই, সত্যি করে বল, কী হয়েছে তোর?”</p>
<p>লিন দেখে, ব্যাপার বড়ই গুরুতর – ভালবাসা আর পড়াশোনার মধ্যে চিরাচরিত দ্বন্দ্ব এ নয়, যে বুঝিয়েসুঝিয়ে সামলানো যাবে – চেং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, শু’কে তার পেতেই হবে।</p>
<p>সে বন্ধুকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে, “চিন্তা করিস না, ও বড়লোকের মেয়ে তো কী হয়েছে, তুইও বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামী ছাত্র; একটা উপায় নিশ্চয়ই হবে।”</p>
<p>তখন চেং আক্ষেপ করে শোনায় মুদ্রাঘটিত জটিলতার কথা। বলে,<br />
	“বুড়ি মরলে হয়ত ওটা আমার নামেই উইল করে যাবে, কিন্তু সে কবে হবে, তদ্দিন অপেক্ষা করে বসে থাকব? ততদিনে হয়ত শু’ই বুড়ি হয়ে যাবে&#8230;”</p>
<p>“আরে, তার মানে তো ওটা তোর প্রায় হয়েই আছে! একদিন ঘন্টা কয়েকের জন্য ধার নে না। শু’কে মুদ্রাটা দেখিয়ে প্রলুব্ধ কর, বল, আমাকে বিয়ে করলে ওটা একদিন তোমারই হবে। তাতেই কাজ হবে।”</p>
<p>“না না, ঠাকুমা ওটা যেমন যত্ন করে বাক্সের মধ্যে রেখে দেয়, কয়েক ঘন্টার জন্য হলেও হাতছাড়া করতে রাজি হবে না। এভাবে হবার নয়,” হতাশ হয়ে বলে চেং।</p>
<p>“আরে বোকা, এত হতাশ হয়ে পড়ার কি আছে? প্রেমে পড়ে ইস্তক পড়ার বইয়ের সঙ্গে কি বুদ্ধিগুলোও সরিয়ে রেখেছিস? আসলটা উপহার দিতে না পারিস, নকলই দে না! চ্যাং’এর বাবা কামারশালার কারিগর, জানিস না নাকি?”</p>
<p><center>~o~</center></p>
<p>একদিন বন্ধুকে নিয়ে বাড়ি ফেরে চেং, ঠাকুমার কাছে গিয়ে বলে, লিন তাঁর প্রাচীন জিনিসপত্রের সংগ্রহ দেখতে খুব আগ্রহী। ঠাকুমা উৎসাহের সাথেই চাবির গোছাটি বার করে লাল চন্দনকাঠের কারুকাজ করা ভারী আলমারিটি খোলেন, একে একে দেখাতে থাকেন তাঁর সেইসব গর্বের ধন। এমনই যখন মিং যুগের চীনামাটির দুর্দান্ত ফুলদানিটি নিয়ে লিন ঠাকুমার সঙ্গে দারুণ আলাপ জমিয়ে ফেলেছে, এটা-ওটা নাড়াচাড়া করার ফাঁকে সেই মুদ্রাটি হাতে নিয়ে মোমের উপর ছাপ তুলে নেয় চেং। </p>
<p>দু’দিন পর চ্যাং খবর আনে, সীসার উপর সোনার জল করা একটি চমৎকার নকল মুদ্রা তার বাবা বানিয়ে ফেলেছেন। চেং তো আনন্দে আটখানা। তবে সেই সঙ্গে তার একটু ভয়-ভয়ও লাগতে থাকে, কে জানে, যদি অভিজ্ঞা শু এক নজরেই ধরে ফেলে, যে এটা নকল? যদি সে রেগে গিয়ে তার সঙ্গে আর কোনোদিন কথাই না বলে?</p>
<p><center>~o~</center></p>
<p>শু’য়ের কাছে খবর পাঠায় সে, দেখা করতে খুব আগ্রহী জানিয়ে। উত্তর আসে, সোমবার বিকেলে নদীর উত্তরের বাগানে হাজির থাকতে। সাড়া পেয়ে তো চেং’য়ের মনে আনন্দ আর ধরে না, ফিটফাট সেজেগুজে পারলে দুপুর থেকেই সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করে। কিন্তু হায়, বিকেলবেলা শু’র বদলে সেখানে উপস্থিত হয় তার পরিচারিকা। সেও এক রূপসী তরুণী, চলনে-বলনে লাস্যময়ী; তার চোখের কোণে হাসির ঝলক বুঝিয়ে দেয়, এই খেলায় সেও অভিজ্ঞা।</p>
<p>চেং’য়ের কানের কাছে তার রক্তাভ ঠোঁটদুটি এনে ফিসফিস করে বলে, “আজ রাত্রে যখন মাথার উপর চাঁদ উঠবে, যখন ঘুমিয়ে পড়বে সারা শহর, তখন আমাদের বাড়ির দরজা খোলা থাকবে তোমার জন্য&#8230;”</p>
<p>তার হৃদয়ের গতি যেন দ্রুত হয়ে যায় এই কথা শুনে। মেয়েটি বলতে থাকে,<br />
“&#8230; উঠোনে এসে খিলানের নিচে দাঁড়াবে। ডানদিকের সারি সারি ঘরগুলির মধ্যে একটির জানালা থাকবে খোলা, আর জানালার পাশে ফুলদানিতে রাখা থাকবে লাল গোলাপ। তার পাশে তোমার আনা উপহারটি রেখো, আর ফিরে যেও খিলানের কাছে। যদি তোমার উপহার হয় মনোমত, তাহলে ঘরের দুয়ারটি খুলে সে তোমায় আমন্ত্রণ জানাবে সেই রাত্রির মত&#8230;” – ঠোঁটে তার লজ্জারাঙা হাসি।<br />
“তবে&#8230;” সাবধানবাণী জানাতেও ভোলে না সে, “ছায়ার মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করবে, আর কোনো শব্দ করবে না। বাড়িতে কোথাও কোনো আলো জ্বলবে না। মনে থাকে যেন, ওই বাড়িতে সবারই ঘুম খুব পাতলা। সূর্য ওঠার আগেই তোমায় ফিরে যেতে হবে।”<br />
“শু জানে, তুমি একজন ছাত্র কেবল, স্বভাবতই অনভিজ্ঞ আর অস্থিরমতি। তার উপযুক্ত প্রেমিক হবার মত যোগ্যতা তোমার এখনও নেই। তাই তোমার উপহার যদি সত্যিই পছন্দ হয়, তবেই ভবিষ্যতে আবার দেখা হবার সম্ভাবনা। নইলে, এ শহরে তো সুন্দর পুরুষের অভাব নেই।”</p>
<p>উত্তরের জন্য অপেক্ষা করে না সে, মুখে ইঙ্গিতপূর্ণ হাসি এঁকে দ্রুতচ্ছন্দে চলে যায় সেতু পেরিয়ে।</p>
<p><center>~o~</center></p>
<p>সেই রাত্রে দুরুদুরু বুকে চেং অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সব নির্দেশ। চুপিসাড়ে সেই নিরিবিলি আঙিনায় এসে, জানালার পাশে তার উপহার রেখে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে খিলানের তলায়।</p>
<p>একটু পরে তার মন পুলকে ভরিয়ে দিয়ে নিঃশব্দে একটি দরজা খুলে যায়। চেং দৌড়ে যেতে যায় তার পানে, পরক্ষণেই সামলে নেয় নিজের আবেগ। লঘু পায়ে ছায়ার মধ্যে দিয়ে পৌঁছে যায় সেই ঘরে। তারপর? স্বপনচারিণীর বহুকাঙ্খিত সান্নিধ্যে সে পরমানন্দে যাপন করে কয়েক প্রহর।</p>
<p><center>~o~</center></p>
<p>ভোরের মোরগ ডেকে ওঠার আগেই চেং বাড়ির পথ ধরে। সূর্য উঠতে তখনও দেরি, তবুও তার যেন মনে হয় এক নতুন রঙে সেজে রয়েছে চারিদিক। চুপিচুপি নিজের ঘরে ফিরে জানলার পাশে বসে সে একমনে গত রাত্রির মিষ্টিমধুর স্মৃতি রোমন্থন করতে থাকে।</p>
<p>যদিও মেয়েদের সঙ্গে তেমন ঘনিষ্ঠতা তার আগে কখনো হয় নি, তবুও তার মনে হতে থাকে, শু যেন সকল মেয়েদের সেরা। আক্ষেপ করে, কতদিনে সে পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। তাহলে তাকে এভাবে আর ছায়ার মধ্যে দিয়ে লুকিয়ে বেড়াতে হবে না। শু’ও তখন তাকে যথার্থ গুরুত্ব দেবে। কিন্তু যদি না-ও দেয়, আর কোনোদিনও যদি সে তার সঙ্গ না পেতে পারে, তাহলেও গতকালের সুখস্মৃতি সে সারা জীবন ধরে বুকে ধরে রেখে দেবে গর্বের সাথে।</p>
<p><center>~o~</center></p>
<p>আনন্দে মেতে থেকে সে আর লিন’কে খবর দেওয়ার কথা মনে রাখে না। একা’একাই পৌঁছে যায় সেই ফুলের দোকানে, যেখানে সে প্রথম পেয়েছিল তার প্রেয়সীর সাক্ষাৎ। আজকে যেন ফুলগুলোকে দ্বিগুণ ঝলমলে মনে হতে থাকে, তার খুশির সঙ্গে মিলিয়ে যেন তারা সবাই হাসিখুশি। উৎফুল্ল মনে অপেক্ষা করতে থাকে সে, কখন শু’র পরিচারিকা এসে জানাবে পরবর্তী সাক্ষাতের দিনক্ষণ।</p>
<p>তাই সে যুগপৎ বিস্মিত এবং আনন্দিত হয়ে ওঠে, যখন দেখে স্বয়ং শু’ই মরালসঞ্চারে এগিয়ে আসছে তার দিকে। একমুখ হাসি নিয়ে চেং তাকে সম্ভাষণ করতে যায়, কিন্তু তার আগেই শু’র মধুর কণ্ঠস্বর শুনতে পায় –<br />
	“গতকালের উপহারের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আশা করি আমার পরিচারিকা তোমার যথাযথ সেবা করেছিল&#8230;”</p>
<p>	হতবাক হয়ে যায় চেং। ‘পরিচারিকা?’<br />
	ভেবে কূল পায় না সে, “কিন্তু&#8230; কাল রাত্রে&#8230; এত উৎসুক মনে হল&#8230; তোমায়&#8230; ওঃ&#8230; পরিচারিকা!”</p>
<p>	হৃদয়বিদারক হাসির সঙ্গে শু বলে ওঠে, “বেচারা! আমার করুণা হচ্ছে তোমার উপর। তা, ঠাকুমা কি জানেন, তাঁর নয়নমণি ওই মুদ্রাটি কী করেছে তাঁর সোনামণি?”</p>
<p>	“কিন্তু&#8230;”</p>
<p>	উদ্ধত স্বরে বলে যেতে থাকে শু, “তুমি ভাবলে কি করে খোকা, যে আমার মত এক সম্মানিত মহিলা তোমার সঙ্গে মাখামাখি করবে?<br />
বইখাতার বাইরের সমাজটার কোন ধারণা রাখো? এভাবে তোমার সঙ্গে এখানে কথা বলাও আমার পক্ষে অস্বস্তিকর, কোনো বাগানে বা অনুষ্ঠানে বেড়াতে যাওয়ার কথা তো ভুলেই যাও। আর কোনোদিন আমার বাড়িতেও ঢোকার চেষ্টা কোরো না, লোক ডেকে ধরিয়ে দিতে কেউ দ্বিধা করবে না।”<br />
“বুঝলে,” একটু থেমে, ব্যঙ্গের সঙ্গে সে বলে চলে, “আমাকে পাবার আশা ছেড়ে দাও – একদিনের জন্য আমার পরিচারিকাকে পেয়েছিলে, আসলের পরিবর্তে সেই নকল নিয়েই বরং সন্তুষ্ট থাকো&#8230;”</p>
<p><center>~o~</center></p>
<p>	এতক্ষণে সম্বিৎ ফিরে আসে চেং’য়ের। চমকের ঘোর কাটিয়ে সে বলে ওঠে,<br />
“হ্যাঁ তাইতো, ভাল কথা, আসল-নকলের কথা যখন তুললেই, জানিয়ে রাখি, আমার উপহার দেওয়া ওই ‘প্রাচীন’ মুদ্রাটি আবার কাউকে দেখিয়ে গর্ব করার চেষ্টা কোরো না যেন। ওটাও নকল, বিশ্বাস না হয় একটা ধার দাঁতে কামড়ে দেখে নিও।”<br />
মুচকি হেসে শু’র বিভ্রান্ত মুখ একবার দেখে নিয়েই চেং তাকে পিছনে ফেলে চলে আসে, কোনো উত্তর দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই।</p>
<p>আর একলা দাঁড়িয়ে ভুরু কুঁচকে ভাবতে থাকে শু, তার উপরেও কেউ এমন চাল দিতে পারে? “একমাত্র এমন ধূর্ত কেউ’ই হতে পারে আমার যোগ্য জুড়ি&#8230;”
</p></div>
<p><a name="scribd"></a><br />
</p>
<p><a href="http://calcuttans.com/palki/P12-final/secure/09-P12-kaustubhadhikari-godyo-secured.pdf"><br />
<img style="width: 127px; height: 41px;" alt="download" src="http://calcuttans.com/palki/wp-content/uploads/2011/04/download.png"></a></p>
]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://calcuttans.com/palki/p12-bangla-story-kaustubh-adhikari/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
		</item>
	</channel>
</rss>

