কিছুই যে আর ভাল্লাগেনা, সদাই খারাপ মন
ফোঁস ফোঁস ফোঁস দীর্ঘশ্বাস ফেলছে সারাক্ষণ
সর্বক্ষণ চোখেতে জল, দেয়না কিছুই মুখে,
হ্যাঁরে খুকি, কি হয়েছে, কে বকেছে তোকে?
স্কুলের কোনো পরীক্ষাতে ফেল করেছিস – নাকি
দিদিমণি কান মলেছে – দিস বলে তুই ফাঁকি?
দুষ্টুমিতে প্রথম যে তুই – এই তো ছিল জানা
গোমড়া কেন মুখটারে তোর, কোথায় হাসিখানা?
আজ নবমী শেষ যে মাগো, কালকে ভাসান হবে
ঢাক-ঢোল সব চুপ করবে, আলোও নিভে যাবে,
আরও বারো মাসের পরে দুর্গাপুজো হবে
আবার একটা বছর গেলে পুজোর ছুটি হবে।
কেমন করে কাটাব এই একটা বছর মা!
কি যে করি কিছুই যে আর ভালো লাগছে না।
মন খারাপের বাজনা বুকে বাজছে সারাক্ষণ –
কেমন করে হাসি, ঠাকুর যাবে বিসর্জন।
মা তুই থাকবি কতক্ষণ…
বোকা ঢাকি বাজায় ঢাকে –
ও তোরা শোন রে তোরা শোন ।
মা কখনো যায় কি ছেড়ে –
মা যে সাথে সাথে ফেরে,
হৃদয় মাঝে জাগে মায়ের
স্নেহ সারাক্ষণ।
বৃথাই ঢাকি বাজায় মা তুই
থাকবি কতক্ষণ।
মা বুঝি ঐ খড়-মাটিতে
আটকা পড়ে থাকে
ভাসিয়ে দিয়ে জলে তোরা
ফেরাতে চাস মাকে।
মা যে ফেরে এই আঙিনায়
ফুলের শোভা হয়ে।
বাতাস আনে মায়ের খবর
ফুলের সুবাস বয়ে।
মা আছে ঐ দূর গগনের
লক্ষ তারার চোখে,
মা চেয়ে রয় তোদের পানে
আঁধার রাতের বুকে।
জেগেও তোরা ঘুমাস তবু
চিনলি না কেউ মাকে।
নদীর জলে ভাসিয়ে এসে
জ্বাললি না দীপ ঘরে,
বাহির থেকে বিদায় নিয়ে
আসবে মা অন্তরে।