সেদিন যখন বিকেল বেলা
ফিরছি আমি বাড়ি
মেঘের মেয়ের সঙ্গে আমার
ভাব জমল ভারি।
লুকোচুরির কায়দা কানুন
সবই দিল বলে
আসবে আবার, কথা দিয়েই
হঠাৎ গেল চলে।
সেই থেকে সেই মেঘের মেয়ে
বেড়াই আমি খুঁজে
তাকেই খুঁজি দিনের আলোয়,
রাত্তিরে চোখ বুজে।
নদীর কছে যেতেই নদী
বলল আমায় ডেকে,
‘মেঘের মেয়ে দেখতে কেমন,
দেখাও ছবি এঁকে’।
ঝর্ণা বলে,‘আমি তো জানি
কিন্তু ব্যস্ত আজ
যেতে হবে অনেক দূরে
আমার নানান কাজ’।
ইশারাতে পাহাড় বলে
তার সবই জানা
কিন্তু কিছু করার তো নেই
কথা বলতে মানা।
চাঁদের কাছে যেতেই চাঁদের
হাজার অজুহাত
দিনের বেলা ঘুমান বাবু,
ব্যস্ত সারা রাত।
কি যে করি কোথায় যে যাই
কোথায় গেলে মেঘ মেয়ে পাই
একা একাই থাকি বসে
মুখটি করে চুন
আমার এত দুঃখ দেখে
বাতাস হেসেই খুন।
বাতাস বলে, মেঘের মেয়ের
পায়ের তলায় সর্ষে
এই খেয়ালে একটু থামে
আবার চলে জোরসে।
যখন তখন ইচ্ছে মতন
বদলে ফেলে রূপ
ইচ্ছে হলেই বৃষ্টি হয়ে
ঝরে টাপুর-টুপ।
ইচ্ছে হলেই বাষ্প হয়ে
আমার ডানায় ভাসে
চাঁদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে
ইচ্ছে মতন হাসে।
মেঘের মেয়ে রাগলে পরে
তৈরি হয় ছায়া
মেঘ মেয়ের সব কিছু তাই
মিথ্যে এবং মায়া।
মেঘ মেয়ের কথা ভুলে
ফোটাও মুখে হাসি
নতুন নতুন মজার দেশে
চলো বেড়িয়ে আসি।
আমি রোজ সকাল সকাল
ধরি রানাঘাটের লোকাল
সাতটা তিরিশ তখন বাজে ঠিক।
ঝিকঝিকিয়ে ট্রেনটা চলে
কেউ চুপ কেউ বকেই চলে
কেউ বা ছোটে ভুলেই দিগবিদিক।
কারো মাথায় বিশাল ঝুড়ি
কারো বা ব্যাগ গেছে চুরি
চিৎকারেতে কানটা পাতাও দায়।
পড়েছি যেন ইঁদুর কলে
এমন সময় কে যে বলে
‘একটু দেখি, একটু চাপুন ভাই’।
‘চাপব কোথায়?’ বলি আমি
দর দর দর করে ঘামি
কখন যে ছাই আসবে দমদম –
মাছের মত খাচ্ছি খাবি
হকার ভাই করছে দাবি
ওজনে তার একটুও নেই কম।
চাই বাদাম, চাই মলম
দশ টাকায় সাতটা কলম
অফিস বাবু জমিয়ে খেলেন তাস
ঝিকঝিকিয়ে ট্রেনটা চলে
ছারপোকারা হঠাৎ বলে
লোকাল ট্রেনে তাদেরও বসবাস।
‘আমলকির হাজার গুণ’,
‘হাই প্রেশারে কমান নুন’
জ্ঞানের কথা শুনেই বেশি ঘামি।
হজম করে হাজার গুঁতো
ছিঁড়ল জামা ছিঁড়ল জুতো
অবশেষে সেই দমদমে নামি।
সেদিন যখন ঘুম ভাঙল
তখন অনেক রাত
বাবা তখন ঘুমে কাতর
মাও ঘুমে কাত।
চোখ মেলে চেয়ে দেখি
জানলা দিয়ে চাঁদ
আকাশপটে পেতেছে এক
রহস্যময় ফাঁদ।
সেই লোভেতে চুপি চুপি
খাটের থেকে নামি
আলতো করে দরজা খুলে
ছাদে এলাম আমি।
উপরদিকে চেয়ে দেখি
আকাশ জুড়ে মেলা
মেঘের সাথে চাঁদ তারাতে
বেশ জমেছে খেলা।
তারা বলে আমায় দে হুস
মেঘ বলছে টুকি
খিলখিলিয়ে উঠছে হেসে
পরীর মেয়ে খুকি।
রাজপুত্তুর নীলপরী আর
পক্ষীরাজ ঘোড়া
নাম না জানা নতুন গ্রহে
বেড়াতে গেল ওরা।
লাল তারাতে নীল তারাতে
দারুণ মনের মিল
চাঁদের আলোয় যাচ্ছে ভেসে
পুকুর-বাড়ি-বিল।
হাজার হাজার তারার দেশে
মন চলেছে ভেসে
হঠাৎ শুনি মায়ের গলা
মা ডাকছেন এসে।
মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙতেই
চোখটি মেলে দেখি
পরীর দেশে নেই তো আমি
বিছানাতেই একি!
sudipto da.. ei megher meye kobita ta nandan e oi bachha cheleta darun recite korechilo… neway egulo sob e age porechilam, abar porlam, valo laglo